বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে ফেসবুক পোস্ট করে লন্ডনে রওনা দেওয়ার কথা জানান গুজরাতের আনন্দ জেলার প্রখ্যাত ব্যবসায়ী বদরুদ্দিন হালানি। স্ত্রী ও পরিবারকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন সেই পোস্ট।

বদরুদ্দিন হালানি ও তাঁর স্ত্রী
শেষ আপডেট: 15 June 2025 09:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে ফেসবুক পোস্ট করে লন্ডনে রওনা দেওয়ার কথা জানান গুজরাতের আনন্দ জেলার প্রখ্যাত ব্যবসায়ী বদরুদ্দিন হালানি। স্ত্রী ও পরিবারকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন সেই পোস্ট। তার ১০ মিনিটের মাথায়, অর্থাৎ ১টা ২৭ মিনিটে বিমানে বসেই ভাইকে শেষবার ফোন করেন তিনি। কিন্তু তার ঠিক ১২ মিনিট পরেই ঘটে এক ভয়াবহ বিপর্যয়।
আমদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের পথে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান AI-171 টেক-অফের কিছুক্ষণের মধ্যেই আছড়ে পড়ে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বদরুদ্দিন হালানি-সহ ২৪১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক, ৭ জন পর্তুগিজ, ১ জন কানাডিয়ান এবং ১২ জন বিমানকর্মী ছিলেন।
দেশের বেসামরিক বিমান মন্ত্রক জানিয়েছে, বিমান ভেঙে পড়ার ঠিক আগে ককপিট থেকে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়— “Mayday, Mayday”। তবে সেই শেষ আর্তি আর শেষ রক্ষা করতে পারেনি। এই দুর্ঘটনার মধ্যে একমাত্র প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন প্রবাসী ৪০ বছর বয়সি ব্যবসায়ী বিশ্বাস কুমার রমেশ।
হালানি পরিবার এই বিপর্যয়ে কার্যত ভেঙে পড়েছে। বদরুদ্দিনের সঙ্গে বিমানে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ইয়াসমিন এবং ভগ্নিপতি মালেকও। তাঁরা লন্ডন যাচ্ছিলেন নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটাতে। পাশাপাশি, বদরুদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রেও যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, সেখানে গিয়ে সিলভাসার আরএসএস-ঘনিষ্ঠ সৈনিক স্কুলের জন্য তহবিল সংগ্রহ করতেন। স্কুলটি ছিল তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প।

বদরুদ্দিনের ভাই রাজুভাই হালানি NDTV-কে বলেন, “সামাজিক সেবার প্রতি উনি ভীষণভাবে আগ্রহী ছিলেন। সিলভাসার সৈনিক স্কুল ছিল ওঁর ড্রিম প্রজেক্ট। আবার একইসঙ্গে একজন আবেগপ্রবণ দাদুও ছিলেন, যিনি নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটাতে চাইতেন।”
প্রসঙ্গত, গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানির সঙ্গেও বদরুদ্দিনের ঘনিষ্ঠতা ছিল। রূপানিও ছিলেন সেই দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানে। দেহগুলি এতটাই পুড়ে গিয়েছে যে, শনাক্তকরণের একমাত্র উপায় হয়ে উঠেছে ডিএনএ পরীক্ষা। বৃহস্পতিবারের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর শুক্রবার আমদাবাদে এসে ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন বদরুদ্দিনের পুত্র আসিম হালানি।
আসিম NDTV-কে বলেন, “আমার মেয়েরা দারুণ খুশি ছিল দাদু-ঠাম্মা লন্ডন আসছেন বলে। ওরা নিজের হাতে কার্ড বানিয়েছিল। এখন ওগুলো কাকে দেবে? এই শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”
কথা বলতে বলতে কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে আসিমের। বলেন, “আমার নিজের ছোটোবেলাও মনে পড়ে। বাবা আমাকে কখনও বকেননি। খেলনা চাইলে একটার বদলে পাঁচটা নিয়ে আসতেন। আমার মেয়েদেরও সেই ভালবাসা দেওয়ার জন্যই বাবা এত দূর যাচ্ছিলেন। আমার বড় মেয়ের জন্মের পর বাবা ওকে কাঁধে তুলে নিয়ে ঘোরাতেন, সে দৃশ্য আজও চোখে ভাসে…”