ভারতের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল আমদাবাদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সদ্য টেক-অফ নেওয়ার পরই ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার (VT-ANB)।

ব্ল্যাক বক্স কী?
শেষ আপডেট: 12 June 2025 19:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল আমদাবাদ (Ahmedabad Plane Crash)। বৃহস্পতিবার দুপুরে সদ্য টেক-অফ নেওয়ার পরই ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার (VT-ANB)। বিমানটিতে ছিলেন ২৪২ জন যাত্রী ও কর্মী। লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া বিমানটি আমদাবাদের সরদার বল্লভভাই পটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়ে ওঠার মিনিটখানেকের মধ্যেই শহরের মেঘানিনগর এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।
বিমানের উচ্চতা ছিল তখনও ৬০০ ফুটেরও কম। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এক মুহূর্তেই পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। আগুনে জ্বলতে থাকে বিমান ও হস্টেলের ধ্বংসস্তূপ। চলছে উদ্ধারকাজ, যদিও বহু মৃত্যুর আশঙ্কা প্রবল।
কেন ভেঙে পড়ল বিমান?
দুর্ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রতিটি বড় বিমান দুর্ঘটনার পর যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তা হল ‘ব্ল্যাক বক্স’ উদ্ধার। এই যন্ত্রের তথ্যই ভবিষ্যতে বলতে পারে, ঠিক কী হয়েছিল বিমানের সঙ্গে।
)
'ব্ল্যাক বক্স' কী?
‘ব্ল্যাক বক্স’ হল আসলে একটি ফ্লাইট রেকর্ডার। ১৯৫০-এর দশকে এর ধারণা প্রথম দেন অস্ট্রেলিয়ার জেট ফুয়েল বিশেষজ্ঞ ডঃ ডেভিড রনাল্ড ডি মেয়ার ওয়ারেন। একাধিক মাঝআকাশে বিস্ফোরণের ঘটনার সূত্র ধরেই তিনি এমন একটি ডিভাইসের কথা ভাবেন, যা বিমান দুর্ঘটনার আগে শেষ মুহূর্তের সব তথ্য রেকর্ড করে রাখবে।
সেই ভাবনা থেকেই তৈরি হয় ARL Flight Memory Unit, যা চার ঘণ্টা পর্যন্ত ককপিটের শব্দ ও ফ্লাইট ইনস্ট্রুমেন্টের ডেটা সংরক্ষণ করতে পারত। প্রথম দিকে পাইলটেরা এই ধারণার বিরুদ্ধে ছিলেন, ভয় ছিল, তাঁদের উপর নজরদারি করা হবে। কিন্তু ১৯৬৩ সালে ভয়াবহ দুই বিমান দুর্ঘটনার পরে অস্ট্রেলিয়া প্রথম দেশ হিসেবে আইন করে সমস্ত বিমানে ব্ল্যাক বক্স বাধ্যতামূলক করে।
'ব্ল্যাক বক্স' কেন কালো নয়?
আসলে, ব্ল্যাক বক্স কখনওই কালো রঙের নয়। সাধারণত এটি উজ্জ্বল কমলা রঙের হয়ে থাকে, যাতে ধ্বংসাবশেষের ভিতরেও সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। “ব্ল্যাক” শব্দটি এসেছে ১৯৩০-এর দশকের ফরাসি ইঞ্জিনিয়ার ফ্রাঁসোয়া ইউসেনোর বানানো ডেটা রেকর্ডারের থেকে, যার ভিতরে আলো ঢুকত না বলেই এর নাম দেওয়া হয় ‘ব্ল্যাক বক্স’।
ব্ল্যাক বক্স কীভাবে দুর্ঘটনার তদন্তে সাহায্য করে?
প্রত্যেকটি যাত্রীবাহী বিমানেই দু'টি ব্ল্যাক বক্স থাকে—
Cockpit Voice Recorder (CVR): পাইলটদের কথোপকথন, ককপিটের শব্দ, রেডিও ট্রান্সমিশন—সবই রেকর্ড করে।
Flight Data Recorder (FDR): বিমানের উচ্চতা, গতি, দিক, ভার্টিক্যাল অ্যাক্সেলারেশন, পিচ, রোল, অটোপাইলটের অবস্থা—মোট ৮০-রও বেশি তথ্য সংরক্ষণ করে।
এই দু'টি যন্ত্রই সাধারণত বিমানের পিছনের দিকের অংশে রাখা হয়, কারণ সেখানে ভাঙচুর তুলনামূলকভাবে কম হয়। তৈরি হয় অত্যন্ত শক্ত ধাতু (যেমন টাইটানিয়াম বা স্টিল) দিয়ে। যা উচ্চ তাপ, ঠান্ডা ও আর্দ্রতা প্রতিরোধ করতে পারে।
জলে পড়লে কী হয় ব্ল্যাক বক্সের?
জলে ডুবে গেলে যাতে খুঁজে পাওয়া যায়, সে জন্য প্রতিটি ব্ল্যাক বক্সে থাকে একটি ‘আন্ডারওয়াটার লোকেটার বীকন’ যা ৩০ দিন পর্যন্ত সোনার সিগন্যাল পাঠাতে পারে। তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে। যেমন, মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের MH370 বিমানটি সমুদ্রে পড়ে গিয়েছিল, কিন্তু আজও তার ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার হয়নি।
তথ্য বিশ্লেষণ কত দিনে সম্ভব?
সাধারণত ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার ও তার তথ্য বিশ্লেষণ করতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লেগে যায়। ততদিন পর্যন্ত দুর্ঘটনার আসল কারণ জানতে অপেক্ষা করতে হয়।