আমদাবাদের সরদার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঠিক বাইরে মেঘানি নগরে আবাসিক এলাকার উপর ভেঙে পড়ে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার।

এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার আমদাবাদে ভয়াবহ দুর্ঘটনার (Plane Crash) কবলে।
শেষ আপডেট: 12 June 2025 19:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার দুপুরে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার আমদাবাদে ভয়াবহ দুর্ঘটনার (Plane Crash) কবলে। আমদাবাদের সরদার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঠিক বাইরে মেঘানি নগরে আবাসিক এলাকার উপর ভেঙে পড়ে। মুহূর্তেই আগুন জ্বলে ওঠে গোটা বিমানে। আকাশ ছেঁয়ে যায় ঘন কালো ধোঁয়ায়। উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মোবাইল ক্যামেরায় তোলা একের পর এক ভিডিওতে দেখা যায়, কীভাবে একটি মুখ থুবড়ে একটি ছাত্রাবাসের উপর পড়েছে বিমানটি (Ahmedabad Plane Crash )। সঙ্গে সঙ্গে আগুনের গোলা তৈরি হয়। এই দুর্ঘটনার পরই একাধিক প্রশ্ন ঘিরে ধরেছে গোটা ঘটনাকে। সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজে দেখছেন তদন্তকারীরা।
কী হয়েছিল ওই আমদাবাদ-লন্ডন ফ্লাইটে? (Ahmedabad- London Air India Flight)
দুপুর ১টা ৩৯ মিনিটে সরদার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ২৩ থেকে টেক অফ করে এআই-১৭১ নামের ফ্লাইটটি। টেক অফের কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্রু ‘মেডে’ কল পাঠায়, যা সাধারণত চরম বিপদের সংকেত। এরপর আর যোগাযোগ করা যায়নি ককপিটের সঙ্গে। ৬২৫ ফুট উচ্চতায় পৌঁছেই সিগন্যাল হারিয়ে ফেলে বিমানটি এবং দ্রুত নিচে নেমে আসে। উড়ানের প্রায় ৯ মিনিটের মাথায় মেঘানি নগরের রেসিডেনশিয়াল এরিয়ায় মুখ থুবড়ে পড়ে।
বিমানে কারা ছিলেন?
বিমানে মোট ২৪২ জন আরোহী ছিলেন, যার মধ্যে ছিলেন ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক, ১ জন কানাডিয়ান এবং ৭ জন পর্তুগিজ নাগরিক। মৃত এবং আহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও জানানো হয়নি। তবে বহু যাত্রীকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কী ধরনের বিমান ছিল এটি?
এটি ছিল বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার মডেলের বিমান। রেজিস্ট্রেশন নম্বর VT-ANB। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে এই বিমানটি এয়ার ইন্ডিয়ার বহরে যোগ দেয়। বোয়িং ৭৮৭ সিরিজের এটাই প্রথম বড় দুর্ঘটনা। এই মডেল সাধারণত তাদের উচ্চমানের সুরক্ষার জন্যই পরিচিত। বিমানের ক্যাপ্টেন সুমিত সাবরওয়াল (৮২০০ ঘণ্টার ফ্লাইট অভিজ্ঞতা) এবং সহকারী পাইলট ক্লাইভ কুন্ডার (১১০০ ঘণ্টার অভিজ্ঞতা) এই উড়ান পরিচালনা করছিলেন।
দুর্ঘটনার আগে কি কোনও সতর্ক সংকেত ছিল?
হ্যাঁ। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) জানিয়েছে, টেক অফের পরপরই মেডে কল পাঠানো হয়। তবে এরপর এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের (ATC) আর কোনও যোগাযোগে সাড়া মেলেনি। কী ধরনের সমস্যার জন্য মেডে কল দেওয়া হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল কী করছে?
ঘটনার পরই দমকল, এনডিআরএফ-সহ একাধিক উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নাইডু ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তত্ত্বের কাজ তদারকি করছেন। DGCA এবং এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) যৌথভাবে তদন্তে নেমেছে।
কেন্দ্র ও এয়ার ইন্ডিয়া কী পদক্ষেপ করেছে?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই দুর্ঘটনাকে "অকথ্য বেদনার" বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট চেয়েছেন এবং সব রকম সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বিমান পরিবহণ মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আহমেদাবাদে গিয়ে উদ্ধারকাজ দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। এয়ার ইন্ডিয়া একটি হেল্পলাইন (১৮০০ ৫৬৯১ ৪৪৪) চালু করেছে। টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন শোক প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন।
বিমান চলাচলে প্রভাব পড়েছে কি?
এই দুর্ঘটনার পর আমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে সমস্ত উড়ান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জানার অনুরোধ করা হয়েছে।
বিমানটি কোথায় ভেঙে পড়ে?
উড়ানের কয়েক মিনিট পরই মেঘানি নগরের বিস্তীর্ণ আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয় বিমানটি। রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি বিএ জে মেডিক্যাল কলেজের আবাসিক কোয়ার্টারের ওপর ভেঙে পড়ে।