দেহগুলি এতটাই পুড়ে গিয়েছিল বা ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল যে তাদের পরিচয় জানা সম্ভব ছিল না। তাই ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া অন্য কোনও পথ খোলা ছিল না। এমন ক্ষেত্রে পরিচয় নিশ্চিত করতে সাধারণত মাসখানেক সময় লেগে যায়। তবে এই দুর্ঘটনায় মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে দেহ শনাক্তকরণের কাজ শেষ হয়েছে।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 28 June 2025 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার (Ahmedabad Plane Crash) দু'সপ্তাহ পর শেষ অজ্ঞাত মৃতদেহ (Last Victim of Plane Crash) শনাক্ত করা গেল। ডিএনএ পরীক্ষার (DNA Test) মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৬০। যার মধ্যে বিমানের যাত্রী ২৪১ জন। প্রাণ হারিয়েছেন সাধারণ মানুষও।
গত ১২ জুন আমদাবাদের সরদার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টেকঅফের কিছুক্ষণের মধ্যেই মেঘানিনগর এলাকায় জুনিয়র চিকিৎসকদের হস্টেলে (Junior Doctor's Hostel) ভেঙে পড়ে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি (Air India Plane Crash)। জানা গিয়েছে, বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনাস্থলের আশেপাশে থাকা আরও ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অলৌকিকভাবে বেঁচে যান একমাত্র যাত্রী, ৪০ বছর বয়সি ব্রিটিশ নাগরিক বিশ্বাস কুমার রমেশ (Biswas Kumar Ramesh)।
আমদাবাদ সিভিল হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ রাকেশ জোশি জানিয়েছেন, “শেষ অজ্ঞাত দেহটির ডিএনএ ম্যাচিং সম্পন্ন হয়েছে। মৃত ব্যক্তির দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৬০।” তিনি আরও জানান, বিমান দুর্ঘটনায় আহত তিনজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রথম দিকে দুর্ঘটনায় (Ahmedabad Plane Crash) মৃতের সংখ্যা ২৭০ বলা হলেও পরবর্তী তদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার পরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ২৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০০ জন ভারতীয়, যার মধ্যে ১৮১ জন যাত্রী ও ১৯ জন অন্যান্যরা। এছাড়াও নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৫২ জন ব্রিটিশ, ৭ জন পর্তুগিজ এবং ১ জন কানাডিয়ান নাগরিক।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দেহগুলি এতটাই পুড়ে গিয়েছিল বা ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল যে তাদের পরিচয় জানা সম্ভব ছিল না। তাই ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া অন্য কোনও পথ খোলা ছিল না। এমন ক্ষেত্রে পরিচয় নিশ্চিত করতে সাধারণত মাসখানেক সময় লেগে যায়। তবে এই দুর্ঘটনায় মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে দেহ শনাক্তকরণের কাজ শেষ হয়েছে। যা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি স্বাস্থ্য দফতরের। প্রত্যেক মৃতের দেহ ইতিমধ্যে তাঁদের পরিজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।