১২ জুন দুপুরে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) বিমান বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার (Boeing 787 Dreamliner) আমদাবাদের মেঘানিনগরে জুনিয়র চিকিৎসকদের হস্টেলে ভেঙে পড়ে।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 23 June 2025 20:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার (Ahmedabad Plane Crash) দশদিন পরও শেষ হয়নি দেহ শনাক্তকরণের কাজ। ডিএনএ পরীক্ষার (DNA Crash) মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত ২৪৭ জনের পরিচয় জানা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৩২ জনের দেহ তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবারগুলির হাতে। এই তথ্য জানিয়েছেন আমদাবাদ সিভিল হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট চিকিৎসক রাকেশ জোশী। আট জনের দেহ প্রথম দফায় চিহ্নিত করতে জটিলতা দেখা দিলে আবারও পরিবারের কাছ থেকে ডিএনএ চাওয়া হয়।
১২ জুন দুপুরে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) বিমান বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার (Boeing 787 Dreamliner) আমদাবাদের মেঘানিনগরে জুনিয়র চিকিৎসকদের হস্টেলে ভেঙে পড়ে। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টেক অফের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় অন্তত ২৭০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৪১ জন ছিলেন বিমানযাত্রী। একমাত্র একজন যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান। ভয়ঙ্কর ওই দুর্ঘটনার পর, আগুন ও তীব্র সংঘর্ষে বেশিরভাগ মৃতদেহ পুড়ে যায় বা এমনভাবে বিকৃত হয় যে চোখে দেখে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাই আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে নমুনা নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নির্ধারণের কাজ চলছে। গুজরাত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে এখনও ২৫০ জনের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ডিএনএ শনাক্তকরণের কাজ এখনও চলছে।
তবে আটজনের ক্ষেত্রে প্রথম দফায় ডিএনএ (DNA) নমুনা না মেলায়, দ্বিতীয়বার নতুন আত্মীয়ের নমুনা চাওয়া হয়েছে। চিকিৎসক জোশীর কথায়, "অনেক সময় ভাইবোনের নমুনা ঠিকঠাক মেলে না। তখন মা, বাবা বা সন্তানের নমুনা চাইতে হয়। যতক্ষণ না ১০০ শতাংশ মিলে যাচ্ছে, ততক্ষণ দেহ হস্তান্তর করা যাবে না।"
জানা গিয়েছে, যে ২৪৭ জনের দেহ চিহ্নিত হয়েছে তাঁদের মধ্যে ১৮৭ জন ভারতীয়, ৫২ জন ব্রিটিশ, ৭ জন পর্তুগিজ, ১ জন কানাডিয়ান। ভারতীয়দের মধ্যে ১৭৫ জন ছিলেন বিমানের যাত্রী, বাকিরা দুর্ঘটনাস্থলের আশেপাশেই ছিলেন। যাঁদের অনেকেই গুজরাত, রাজস্থান, মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা।
এয়ার ইন্ডিয়ার মালিকানাধীন টাটা গোষ্ঠীর তরফে নিহতদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছে। পাশপাশি এয়ার ইন্ডিয়ার তরফেও জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিবার এবং একমাত্র জীবিত যাত্রীকেও ২৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হবে।