অভিযোগ, ১৬ বছরের চন্দ্রবীরকে প্রথমে মারধর করা হয়, তারপর উল্টো করে বেঁধে কুয়োয় ফেলে দেওয়া হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে (teenage relationship murder) এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যদিও আরও দুই অভিযুক্ত পলাতক।

ঘটনাস্থলের ছবি
শেষ আপডেট: 25 March 2026 12:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বন্ধুর বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল ১৬ বছরের কিশোর। তার জেরে প্রেমিকার পরিবারের হাতে নির্মমভাবে খুন হতে হল তাকে (Agra teen murder)। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশের আগ্রা (honour killing Uttrar Pradesh)।
মৃত কিশোরের নাম চন্দ্রবীর সিং। অভিযোগ, ১৬ বছরের চন্দ্রবীরকে প্রথমে মারধর করা হয়, তারপর উল্টো করে বেঁধে কুয়োয় ফেলে দেওয়া হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে (teenage relationship murder) এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যদিও আরও দুই অভিযুক্ত পলাতক।
জানা গিয়েছে, চন্দ্রবীর একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল এবং ‘অগ্নিবীর’-এর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তার সঙ্গে সমবয়সী এক কিশোরীর, যে তার বন্ধু অভিষেক সিংয়ের বোন, প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও এই সম্পর্ক থেকে সরে আসতে চায়নি চন্দ্রবীর - আর সেটাই শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে অভিযোগ তার পরিবারের।
চন্দ্রবীরের বাবা দেবেন্দ্র সিং যে এফআইআর দায়ের করেছেন, তাতে স্পষ্ট অভিযোগ করা হয়েছে, অভিষেক ও তার পরিবারের সদস্যরাই এই খুনের সঙ্গে জড়িত।
কিরাওয়ালি থানার এসএইচও সত্যবীর সিং জানান, বারবার নিষেধ করার পরও চন্দ্রবীর সম্পর্ক থেকে সরে আসেনি। এর পরেই খুনের ছক কষে অভিষেকের বাবা বিজয় সিং এবং কাকা রাজকুমার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অভিষেক, তার খুড়তুতো ভাই রামু এবং আত্মীয় উমেশকে চন্দ্রবীরের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে বলা হয়, যাতে কোনও সন্দেহ না হয়।
পরিকল্পনা মতো, গত ২০ মার্চ, চন্দ্রবীরকে একটি কুয়োর কাছে জঙ্গলের মধ্যে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তার উপর চড়াও হয় অভিযুক্তরা।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে একের পর এক ভয়ংকর তথ্য। জানা গিয়েছে, প্রচণ্ড মারধরের জেরে চন্দ্রবীর যখন প্রায় অচেতন হয়ে পড়ে, তখন তাকে উল্টো করে বেঁধে কুয়োয় ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনাটি পরিকল্পিত বলেই মনে করছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই হামলা চালায় অভিষেক, রামু ও উমেশ। অন্যদিকে, গোটা পরিকল্পনার নেপথ্যে ছিল বিজয় সিং এবং রাজকুমার।
ইতিমধ্যেই অভিষেক, বিজয় এবং রামুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে রাজকুমার ও উমেশ এখনও পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
এসিপি শৈলেন্দ্র কুমার সিং জানিয়েছেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১) ধারায় খুন এবং ৬১(২) ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশি জেরায় চন্দ্রবীরের বন্ধু অভিষেক স্বীকার করেছে, তাদের বোনের ‘সম্মান রক্ষা’ করতেই এই খুন করা হয়েছে, যা কার্যত ‘অনার কিলিং’-এর দিকেই ইঙ্গিত করছে।