এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধুমাত্র ভ্রমণ সময় কমানো নয়, আঞ্চলিক সংযুক্তি এবং পরিবহণ ব্যবস্থারও উন্নয়ন ঘটবে বলে মনে করছে সরকার।

শেষ আপডেট: 21 July 2025 12:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিবেশবান্ধব পরিবহনের দিকে আরও এক ধাপ এগোলো ভারত। আগ্রা থেকে গোয়ালিয়র ও আলিগড় পর্যন্ত দু’টি নতুন ছয় লেনের এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি করার ঘোষণা করল ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI)। এই দুই এক্সপ্রেসওয়েতে থাকছে আধুনিক ইলেকট্রিক ভেহিকল বা গাড়ি (EV) চার্জিং স্টেশন, ফুড প্লাজা এবং পেট্রল পাম্প - যা বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের ব্যবহারকে আরও উৎসাহিত করবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধুমাত্র ভ্রমণ সময় কমানো নয়, আঞ্চলিক সংযুক্তি এবং পরিবহণ ব্যবস্থারও উন্নয়ন ঘটবে বলে মনে করছে সরকার।
লখনউ এক্সপ্রেসওয়েতে EV চার্জিং স্টেশন বসানোর পর, এবার সেই মডেলেই তৈরি হতে চলেছে আগ্রা–গোয়ালিয়র ও আগ্রা–আলিগড় এক্সপ্রেসওয়ে। NHAI জানিয়েছে, প্রতিটি রুটে থাকবে EV চার্জিং স্টেশন, যেখানে একসঙ্গে দু’টি গাড়ি চার্জ দেওয়া যাবে। প্রতি গাড়িতে চার্জ সম্পূর্ণ হতে সময় লাগবে ১৫–২০ মিনিট।
নতুন এক্সপ্রেসওয়েতে থাকছে দু’পাশে ১ থেকে ২টি পেট্রোল ও CNG পাম্প, নিরামিষ ও আমিষ খাবার পরিবেশন করে এমন ফুড প্লাজা এবং পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা শৌচাগার।
গোয়ালিয়র এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য ৮৮ কিলোমিটার (গোয়ালিয়র–রোহতক, আগ্রা) যার বাজেট ৪২০০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে নির্মাণ শুরু বলে জানা গিয়েছে। শেষ হতে সময় লাগবে ২৪ মাস। চম্বল নদীর উপর ঝুলন্ত সেতু অন্তর্ভুক্ত। বলা হচ্ছে, এই এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে আগ্রা থেকে গোয়ালিয়র যাত্রার সময় কমে হবে মাত্র ৯০ মিনিট (বর্তমানে যেখানে লাগে ২–২.৫ ঘণ্টা)।
এই এক্সপ্রেসওয়ে আগ্রার ইননার রিং রোডের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং যোগাযোগ বাড়াবে যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে, লখনউ এক্সপ্রেসওয়ে ও NH-19-র মতো প্রধান করিডরগুলির সঙ্গে।
অন্যদিকে, আলিগড় এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য হবে ৬৪ কিলোমিটার (খানদাউলি থেকে আলিগড়)। এর বাজেট ৩৪০০ কোটি টাকা। অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে এক্সপ্রেসওয়ে তৈরির কাজ শুরু হবে। এই এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি হলে যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন সম্ভব হবে।
প্রথম ধাপে খানদাউলি থেকে টিডি বাগিয়া চৌরাহা পর্যন্ত রাস্তা চওড়া করা হবে বলে জানা গিয়েছে। নতুন এলিভেটেড রোড তৈরি হবে টিডি বাগিয়া থেকে রামবাগ চৌরাহা পর্যন্ত, যাতে ট্র্যাফিকের ভিড় কমে।
এই প্রকল্প শেষ হলে আলিগড় ও হাথরস অঞ্চলের সঙ্গে আগ্রার যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হতে চলেছে।