আদালত জানিয়ে দেয়, ‘ফ্রিবিজ’ বা সরকারি অনুদান সংক্রান্ত বৃহত্তর প্রশ্নে তারা নজর রাখছে ঠিকই, কিন্তু বিহারের নির্দিষ্ট প্রকল্প নিয়ে কোনও আপত্তি থাকলে তা কোনও ‘জনস্বার্থে আগ্রহী ব্যক্তি’ তুলতে পারেন - নির্বাচনে হেরে যাওয়া কোনও রাজনৈতিক দল নয়।

প্রশান্ত কিশোর
শেষ আপডেট: 6 February 2026 17:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার বিধানসভা নির্বাচনে (Bihar Assembly Elections) নতুন করে ভোটগ্রহণের দাবিতে করা মামলা শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) থেকে তুলে নিল প্রশান্ত কিশোরের দল জন সুরাজ পার্টি (JSP)। শুক্রবার শীর্ষ আদালতের কড়া মন্তব্যের পরই আবেদন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। আদালত অবশ্য পাটনা হাইকোর্টে যাওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছে।
জন সুরাজের (Jan Suraaj Party) তরফে দাবি করা হয়েছিল, নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্য সরকার একাধিক কল্যাণমূলক প্রকল্প ঘোষণা করে আদর্শ আচরণবিধি (মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট) লঙ্ঘন করেছে। সেই কারণে ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনকে বাতিল ঘোষণা করে নতুন করে ‘স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ’ ভোট করানোর নির্দেশ দেওয়া হোক নির্বাচন কমিশনকে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আবেদন শুনতে অনীহা প্রকাশ করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিষয়টি কার্যত একটি ‘সমগ্র নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ’ করার শামিল, যা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সাধারণত নির্বাচন সংক্রান্ত মামলাতেই বিচার্য হয়। বেঞ্চের প্রশ্ন, “আপনার দল কত ভোট পেয়েছে? মানুষ প্রত্যাখ্যান করলে কি জনপ্রিয়তা পেতে আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে?”
জন সুরাজের পক্ষে সওয়াল করে সিনিয়র আইনজীবী সি ইউ সিংহ দাবি করেন, ঋণে জর্জরিত বিহারে প্রায় ১৫,৬০০ কোটি টাকা বিলি করে সরকার নির্বাচনী সমতা নষ্ট করেছে। তাঁর বক্তব্য, “এর ফলে রাজ্যজুড়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।”
তবে আদালত জানিয়ে দেয়, ‘ফ্রিবিজ’ বা সরকারি অনুদান সংক্রান্ত বৃহত্তর প্রশ্নে তারা নজর রাখছে ঠিকই, কিন্তু বিহারের নির্দিষ্ট প্রকল্প নিয়ে কোনও আপত্তি থাকলে তা কোনও ‘জনস্বার্থে আগ্রহী ব্যক্তি’ তুলতে পারেন - নির্বাচনে হেরে যাওয়া কোনও রাজনৈতিক দল নয়। পাশাপাশি বেঞ্চ জানতে চায়, কেন সরাসরি পাটনা হাইকোর্টে যায়নি দলটি। এই অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পর জন সুরাজ তাদের আবেদন প্রত্যাহার করে নেয়।
দুর্নীতির অভিযোগ
গত ২৯ ডিসেম্বর দায়ের করা মামলায় জন সুরাজ অভিযোগ করেছিল, নির্বাচনের সময় রাজ্য সরকার ভোটারদের প্রভাবিত করতে ‘দুর্নীতিপূর্ণ প্রলোভন’ দিয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে ছিল ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’। ভোটের ঠিক আগে রাজ্য জুড়ে প্রতিটি পরিবারের এক জন মহিলাকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয় আবেদনে।
এই প্রকল্পের আওতায় ‘জীবিকা’ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত মহিলারা প্রথম দফার অর্থ পান। পরে কাজ পেলে অতিরিক্ত দু’লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল। জন সুরাজের দাবি, আদর্শ আচরণবিধি ঘোষণার ঠিক আগে রাজ্যে প্রায় এক কোটি মহিলা জীবিকার সদস্য ছিলেন। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রকল্পে সুবিধাভোগীর সংখ্যা পৌঁছে যায় প্রায় ১.৫৬ কোটিতে।
দলের বক্তব্য, এর থেকেই স্পষ্ট যে আচরণবিধি জারির পর নতুন সুবিধাভোগী যুক্ত করা হয়েছে এবং সেই সময়েই টাকা দেওয়া হয়েছে - যা সরাসরি নির্বাচনী বিধিভঙ্গ।
আবেদনে আরও বলা হয়, ভোটের দিনগুলিতে জীবিকা গোষ্ঠীর মহিলাদেরই বহু জায়গায় পোলিং বুথে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। যাঁরা সদ্য সরকারি অর্থ পেয়েছেন, তাঁদের দিয়ে ভোটকেন্দ্র পরিচালনা স্বাভাবিক বা নিরপেক্ষ হতে পারে না - এই যুক্তিও তোলে দলটি।
এছাড়াও অভিযোগ করা হয়, বিধানসভায় কোনও অনুমোদন ছাড়াই ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্তে প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে এবং তার অর্থ রাজ্যের কনটিনজেন্সি ফান্ড থেকে তোলা হয়েছে, যা সংবিধানের ২৬৭ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।
সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে জন সুরাজ। কমিশন যদি আগেই এই প্রকল্পের প্রভাব বিচার করত, তবে ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচন ‘প্রভাবিত’ হত না—এমনই দাবি ছিল আবেদনে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২৪৩ আসনের মধ্যে ২৪২টিতেই প্রার্থী দিয়েও জন সুরাজ একটি আসনও জিততে পারেনি। সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থানের পর আপাতত এই আইনি লড়াই শেষ হল।