শনিবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ স্বাতীকে খুন করেন মহেন্দ্র। তারপর দেহ টুকরো টুকরো করে নদীতে ছুঁড়ে ফেলতে শুরু করেন।

মহেন্দ্র ও স্বাতী
শেষ আপডেট: 25 August 2025 07:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হায়দরাবাদে স্ত্রীকে খুন করে দেহ টুকরো টুকরো করলেন এক যুবক। প্রমাণ লোপাটের লক্ষ্যে কিছুটা ফেলে দিলেন নদীতে। মাথা, হাত আর পা মুসি নদীতে। ঘরের ভেতরে লুকোনো অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে তরুণীর শরীরের বাকি অংশ।
ঘটনাটি হায়দরাবাদের উপকণ্ঠ মেডিপল্লির বালাজি হিলস এলাকার। মৃতের নাম স্বাতী, বয়স ২১। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি পাঁচ মাসের গর্ভবতী ছিলেন। স্বাতীর স্বামী মহেন্দ্র পেশায় অ্যাপভিত্তিক গাড়ি সংস্থার চালক। তাঁদের দু’জনের আলাপ থেকে প্রেম, পরে বিয়ে হয়। তারপরই তাঁরা বালাজি হিলসে থাকতে শুরু করেন।
পুলিশের দাবি, শনিবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ স্বাতীকে খুন করেন মহেন্দ্র। তারপর দেহ টুকরো টুকরো করে নদীতে ছুঁড়ে ফেলতে শুরু করেন। এর পরে বোনকে ফোন করে বলেন, স্ত্রী নাকি নিখোঁজ। মহেন্দ্রর কথায় সন্দেহ হয়। তিনি এক আত্মীয়কে জানালে, সেই আত্মীয় মহেন্দ্রকে থানায় নিয়ে যান। সেখানেও মহেন্দ্র দাবি করেন, স্ত্রী নিখোঁজ। কিন্তু পুলিশের জেরা শুরু করতে ভেঙে পড়েন ও খুনের কথা স্বীকার করে নেন।
ডিসিপি (মল্কাজগিরি জোন) পি ভি পদ্মজা জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর কথায়, 'আমরা ফরেন্সিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছি। শুধু ধড় পাওয়া গেছে। ডিএনএ টেস্ট করে মৃতদেহ শনাক্ত করা হবে। মামলা রুজু করা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত ও বিচার হবে।'
এদিকে, স্বাতীর বাবা জানিয়েছেন, মহেন্দ্রর সঙ্গে কিছুদিন ধরেই দূরত্ব তৈরি হয়েছিল মেয়ের। বলেন, 'আমার মেয়ে সব সময় বলত ভাল আছে। কিন্তু আসলে ও নির্যাতন করত। আমার মেয়েকে যেমন কষ্ট দিয়েছে, ওকেও সেই কষ্ট পেতে হবে।'
নয়ডায় নিক্কি খুনের নৃশংসতায় শিউরে উঠছে দেশ, তার মাঝেই এমনভাবে অন্তঃসত্ত্বাকে মেরে ফেলা ও দেহ কেটে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা একাধিক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।