এই রায় সামনে আসার পর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।

প্রজ্ঞা ঠাকুর (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 3 August 2025 15:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোপালের প্রাক্তন সাংসদ। মালেগাঁও বিস্ফোরণে নাম জড়ায়। বিতর্ক রয়েছে এছাড়াও একাধিক। সেই সাধ্বী প্রজ্ঞাই ভোপাল পৌঁছতে উচ্ছ্বাস ফেটে পড়ে। উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় রবিবার। কিছুদিন আগেই বিস্ফোরণ মামলাটি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি। বেকসুর খালাস করা হয়েছে তাঁকে।
এদিন ভোপালে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন প্রাক্তন এই বিজেপি সাংসদ। দাবি করলেন,'মালেগাঁও কাণ্ড কংগ্রেসের ষড়যন্ত্র ছিল। হিন্দুদের ফাঁসানো হয়েছিল পরিকল্পনা করে। দেশদ্রোহিতার অভিযোগে কংগ্রেসের বিচার হওয়া উচিত।'
এই কেসে প্রথম থেকেই তাঁর নাম জড়ানো নিয়ে সওয়াল করেছেন নিজে। দাবি করেছেন, তিনি কোনওভাবেই এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। কিন্তু তাও এতগুলো বছর ধরে তাঁকে নাজেহাল হতে হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনওরকম প্রমাণ জোগার করতে পারেননি তদন্তকারীরা। প্রজ্ঞার কথায়,'যারা হিন্দুত্ব সন্ত্রাস বা গেরুয়া সন্ত্রাস বলে প্রচার চালিয়েছিল, এই রায় তাদের গালে সপাচে চড়। যারা দেশের বিরুদ্ধে কাজ করেছিল, তাদের মুখে আজ চুনকালি মাখানো হয়েছে।'
২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের মালেগাঁও শহরে বিস্ফোরণে ৬ জনের মৃত্যু হয়, আহত হন প্রায় ১০০ জন। ঘটনাস্থলে একটি মোটরবাইকে লাগানো ছিল বিস্ফোরক। সেই মামলায় হিন্দু সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে আসে। গ্রেফতার হন সাধ্বী প্রজ্ঞা-সহ মোট সাত জন। পরে কংগ্রেসের একাংশ দাবি তোলে, এ ঘটনার পেছনে রয়েছে 'গেরুয়া সন্ত্রাস'।
তবে ১৭ বছর পর, চলতি বছর মুম্বইয়ের এক বিশেষ এনআইএ আদালত জানিয়ে দেয়, ওই সাতজনের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা যায়নি। মুক্তি পান সাধ্বী প্রজ্ঞা-সহ বাকিরা।
রায়ের পর এদিন সাধ্বী প্রজ্ঞার অভিযোগ,'কংগ্রেস সব সময় মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ককে খুশি করতে তোষণনীতির আশ্রয় নিয়েছে। হিন্দুদের অত্যাচার করা হয়েছে। জেলবন্দি করা হয়েছে, মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। কংগ্রেসের এই মানসিকতা খুবই নিচু স্তরের। এটা একটা গভীর ষড়যন্ত্র ছিল। দেশদ্রোহিতার সমান।'
তাঁর আরও অভিযোগ,'আমার উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল যাতে আমি নরেন্দ্র মোদী ও যোগী আদিত্যনাথের নাম বলি। কিন্তু আমি ভেঙে পড়িনি। মিথ্যে কিছু বলিনি। তাই আমাকে ভয়ানক শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল।'
প্রজ্ঞা ঠাকুর আরও দাবি করেন,ধর্ম এবং সত্যের জয় হয়েছে। আদালতের এই রায় প্রমাণ করেছে যে ষড়যন্ত্র করে তাঁদের হেনস্থা করা হয়েছিল। তিনি জানান, এবিভিপি থেকে শুরু হয়েছিল তাঁর রাজনৈতিক যাত্রাপথ। আরএসএসের ছাত্রী সংগঠনের মাধ্যমেই রাজনীতিতে আসেন। বাকিটা তো সবার জানা।
এই রায় সামনে আসার পর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।