বাঙালি-অবাঙালি নির্বিশেষে দিল্লিবাসী ভিড় জমিয়েছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত জামদানি শাড়ির প্রদর্শনীতে। সেই কথা মাথায় রেখেই বাংলা নববর্ষের সূচনার পরেই ফের অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বাংলাদেশের টাঙ্গাইল ও পাবনার ঐতিহ্যশালী শাড়ির প্রদর্শনী।

দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বাংলাদেশের টাঙ্গাইল ও পাবনার ঐতিহ্যশালী শাড়ির প্রদর্শনী
শেষ আপডেট: 5 April 2026 20:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছর সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে ন্যাশনাল ক্র্যাফটস মিউজিয়ামে আয়োজিত জামদানি শাড়ির প্রদর্শনী (Jamdani saree exhibition) তুমুল সাড়া ফেলে ছিল। বাঙালি-অবাঙালি নির্বিশেষে দিল্লিবাসী ভিড় জমিয়েছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত ওই প্রদর্শনীতে (Bangladesh High Commission Delhi saree exhibition)।
এবার বাংলা নববর্ষের সূচনার পরেই দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বাংলাদেশের টাঙ্গাইল ও পাবনার ঐতিহ্যশালী শাড়ির প্রদর্শনী (Tangail Pabna traditional handloom saree exhibition)। এই প্রদর্শনী আয়োজিত হবে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের (maps.app.goo.gl/pgi8YbYtFr9uyY…) অফিস চত্বরে। ১৮-১৯-২০-২১ এপ্রিল সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা ৭'টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে এই প্রদর্শনী।
দিল্লিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ রবিবার এক্স পোস্টে বলেছেন, ভারতে প্রথমবারের মতো, বিশেষভাবে কিউরেট করা একটি প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের টাঙ্গাইল ও পাবনার ঐতিহ্যবাহী শাড়ি-বয়ন কেন্দ্রের দক্ষ তাঁতিদের বাছাই করা শাড়ির সংগ্রহ উপস্থাপন করা হবে।
তিনি বলেছেন, এই শাড়িগুলি তাদের নান্দনিকতা, হালকা এবং চিরন্তন সৌন্দর্যের জন্য সমাদৃত। এতে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক নকশা ও কারুশিল্পের অনন্য সমন্বয়।

ইউনেস্কো ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি-বয়ন শিল্প’কে মানবজাতির অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যদিও টাঙ্গাইল শাড়ির ঐতিহ্য নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দড়ি টানাটানি আছে। ভারত সরকার ২০২৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি ও নদীয়ার টাঙ্গাইল শাড়িকে জিওগ্রাফিক্যাল আইডেন্টিফিকেশন (জিআই) বা ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে ঘোষণা করে। ওই বছরই বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্টস, ডিজাইন এবং ট্রেডমার্ক বিভাগ (ডিপিডিটি) টাঙ্গাইল শাড়িকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি জার্নাল প্রকাশ করে। সেই থেকে বিতর্ক বিদ্যমান।
এরই মধ্যে আসন্ন টাঙ্গাইল ও পাবনার ঐতিহ্যশালী শাড়ির প্রদর্শনী নিয়ে বাংলাদেশের হাইকমিশনার বলেছেন, 'চলুন, আমরা একসঙ্গে বাংলাদেশি শাড়ি-বয়ন ঐতিহ্যের শিল্পকে উদযাপন করি!' প্রসঙ্গত তিনি ভারতে হাইকমিশনারের দায়িত্ব নেওয়ার পর দু'দেশের নাগরিকদের মধ্যে মেলবন্ধনে অভিন্ন বিষয়গুলিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। খাদ্য পোশাক সংস্কৃতি সাহিত্য, উৎসব ইত্যাদি ক্ষেত্রে অভিন্নতাকে তিনি কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সেতুবন্ধনের নয়া স্মরণি হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করে। দুদেশের নাগরিকদের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর বেশ কিছু পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে।

পাবনার ঐতিহ্যশালী শাড়ি
টাঙ্গাইল ও পাবনা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের প্রধান কেন্দ্র, যা সূক্ষ্ম সুতা, অনন্য বুননশৈলী এবং নকশাদার পাড়ের জন্য বিখ্যাত। টাঙ্গাইল শাড়ি তার পাতলা সুতি, জামদানি মোটিফ ও উজ্জ্বল রঙের জন্য পরিচিত, যা ইউনেস্কো স্বীকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। অন্যদিকে, পাবনার তাঁতের শাড়ি (বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ ও শাহজাদপুর অঞ্চল) টেকসই সুতি, সিল্ক এবং বাহারি নকশার জন্য প্রসিদ্ধ, যা সাশ্রয়ী মূল্যে দেশের চাহিদা মেটায়। দুই পাবনাতেই বাংলা আরো এক কারণে জনপ্রিয়। জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রয়াত সুচিত্রা সেনের পৈত্রিক বাড়ি পাবনা শহরের গোপালপুর মহল্লার হেমসাগর লেনে, যেখানে তিনি শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন। বর্তমানে বাড়িটি 'সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা' হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন বহু পর্যটক সেখানে যান।
টাঙ্গাইল শাড়ির ঐতিহ্য ও বৈশিষ্ট্য প্রায় ২০০ বছরের বেশি পুরনো। এই শিল্প টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার, সন্তোষ ও ঘ্রিন্দা এলাকায় বিকশিত হয়েছে। হালকা, সূক্ষ্ম বুনন এবং পাড়ে ঐতিহ্যবাহী বুটি বা নকশা থাকে। এই শাড়ি ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে।
পাবনা ও পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ (শাহজাদপুর, বেলকুচি) অঞ্চল তাঁতশিল্পের জন্য বিখ্যাত। সাধারণ ব্যবহারের জন্য টেকসই সুতি শাড়ি থেকে শুরু করে উন্নতমানের শাড়ি তৈরি হয়। পাবনার তাঁতিরা ঐতিহ্যবাহী নকশার সঙ্গে আধুনিক ফ্যাশনের সংমিশ্রণ ঘটান।
এই দুই জেলার শাড়ি বাংলাদেশের নারীদের প্রধান উৎসব ও নিত্যদিনের পোশাক হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ভারতেও টাঙ্গাইল, পাবনার শাড়ির তুমুল চাহিদা রয়েছে।