তদন্তকারী সংস্থাগুলির নজরে এবার এসেছে আরও একটি গাড়ি— মারুতি সুজুকি ব্রেজা, যা সন্দেহ করা হচ্ছে দিল্লি এনসিআর এলাকায় সম্ভাব্য হামলার ছক তৈরির সময় রেকি বা পালানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল।

নতুন গাড়ির হদিস
শেষ আপডেট: 13 November 2025 14:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির ভয়াবহ বিস্ফোরণ (Delhi Blast) তদন্তে দিন যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন তথ্য উঠে আসছে গোয়েন্দাদের হাতে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির নজরে এবার এসেছে আরও একটি গাড়ি— মারুতি সুজুকি ব্রেজা, যা সন্দেহ করা হচ্ছে দিল্লি এনসিআর এলাকায় সম্ভাব্য হামলার ছক তৈরির সময় রেকি বা পালানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল।
সূত্রের খবর, এই ব্রেজা-সহ মোট চারটি গাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে সন্দেহভাজন জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ-এর ছায়া। এই মডিউলটির সদস্যরা মূলত ফরিদাবাদের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক। কয়েকদিন আগেই ফরিদাবাদ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের পরেই এই চক্রের হদিশ মেলে। তার পরপরই ওল্ড দিল্লিতে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে প্রাণ যায় অন্তত ১৩ জনের, আহত ২০-এরও বেশি। তদন্তে উঠে আসে, ফরিদাবাদের এই মডিউলের সঙ্গেই বিস্ফোরণের যোগসূত্র রয়েছে।
গোয়েন্দাদের হাতে এখনও পর্যন্ত যে চারটি গাড়ির নাম উঠে এসেছে, তার মধ্যে প্রথমটি একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার, যা ধৃত চিকিৎসক ড. শাহীনা সাইদ-এর। তাঁর গাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে একাধিক রাইফেল ও গুলি। পরে জানা যায়, ওই গাড়ি ব্যবহার করত মুজাম্মিল নামের আরও এক অভিযুক্ত, যে ফরিদাবাদের আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাহীনার সহকর্মী।
দ্বিতীয় গাড়িটি হুন্ডাই i20, যেটি বিস্ফোরিত হয়েছিল লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে। এই গাড়িটি কিনেছিলেন ডা: উমর মহম্মদ ওরফে উমর উন-নবি, যিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে বিস্ফোরণ ঘটান। তিনি ছিলেন শাহীনা ও মুজাম্মিলের সহকর্মী।
তৃতীয় গাড়ি, একটি লাল রঙের ইকোস্পোর্ট, উদ্ধার হয়েছে ফরিদাবাদের খান্ডওয়ালিতে। সেই গাড়িতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের চিহ্ন মিলেছে— যা বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। গাড়িটি ছিল উমরের নামে।
এবার নজরে এসেছে চতুর্থ গাড়ি— ব্রেজা। জানা গিয়েছে, এই গাড়িটিও শাহীনার নামে এবং তাঁর আবাসিক ভবনের নীচেই পার্ক করা ছিল। সম্প্রতি তিনি গাড়িটি কিনেছিলেন এবং সহকর্মীদের নিয়ে সেই কেনার ‘উৎসব’ও করেছিলেন।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই মডিউলের পরিকল্পনা ছিল চারটি গাড়িকেই বিস্ফোরক দিয়ে ভর্তি করে দিল্লি ও এনসিআরের একাধিক জায়গায় হামলা চালানো। i20-এ সেই পরিকল্পনা কার্যকর হলেও বাকি তিনটি গাড়ি প্রস্তুত হওয়ার আগেই গোটা চক্রটি ভেঙে ফেলে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
তদন্তকারীদের অনুমান, চিকিৎসক পরিচয়ের আড়ালে কাজ চলছিল এক ভয়ঙ্কর জঙ্গি চক্রের। ফরিদাবাদের আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ই ছিল তাদের প্রধান ঘাঁটি। এবার ব্রেজা গাড়ির সূত্রেই হয়তো আরও নতুন তথ্য উঠে আসতে পারে দিল্লির ভয়াবহ বিস্ফোরণের নেপথ্যে থাকা এই নেটওয়ার্ক সম্পর্কে।