এই সফর ঘিরে ভারত সরকারের সামনে তৈরি হয়েছে একটি 'কূটনৈতিক দ্বিধা' আসলে আন্তর্জাতিক রীতিতে দুই রাষ্ট্রের নেতাদের বৈঠকের সময় সাধারণত দুই দেশের পতাকা একসঙ্গে প্রদর্শিত হয়।

আমির খান মুতাক্কি
শেষ আপডেট: 9 October 2025 13:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আফগানিস্তানের (Afghanistan) নতুন তালিবান সরকারের বিদেশমন্ত্রী (Taliban Minister) আমির খান মুতাক্কি ভারত সফরে (India Tour) পৌঁছেছেন। আগামী এক সপ্তাহ তাঁর থাকার কথা এদেশে। জাতিসংঘ (UN) নিরাপত্তা পরিষদের অনুমতি পাওয়ার পরই এই সফর সম্ভব হয়েছে আমিরের। ২০২১ সালে তালিবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর এটাই সেখানকার তালিবান সরকারের সর্বোচ্চপদস্থ নেতার প্রথম সফর।
আপাতত যা খবর, দিল্লি সফরে মুতাক্কি বৈঠক করতে পারেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar) এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের (Ajit Doval) সঙ্গে। কূটনৈতিক দিক থেকে সফরটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ এবং প্রতিবেশী ইসলামাবাদও নজর রাখছে এই সফরে, কারণ ভারত ধীরে ধীরে কাবুলের তালিবান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করার পথে এগোচ্ছে।
তবে এই সফর ঘিরে ভারত সরকারের সামনে তৈরি হয়েছে একটি 'কূটনৈতিক দ্বিধা' (Dilemma) আসলে আন্তর্জাতিক রীতিতে দুই রাষ্ট্রের নেতাদের বৈঠকের সময় সাধারণত দুই দেশের পতাকা (Flags) একসঙ্গে প্রদর্শিত হয়। কিন্তু ভারত যেহেতু তালিবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি, তাই তালিবান পতাকা প্রদর্শনের বিষয়ে কিছুটা চাপে পড়েছে নয়াদিল্লি।
তালিবান সরকারের পতাকাটি (Taliban Flag) সাদা রঙের, যার উপর কালো অক্ষরে লেখা থাকে ইসলামিক শপথ বা শাহাদা। এখনও পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে আফগান দূতাবাসে তালিবান পতাকা তোলার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বরং সেখানে এখনও উড়ছে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আশরফ ঘানির আমলের আফগান প্রজাতন্ত্রের পতাকা।
এর আগে, দুবাইয়ে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রির সঙ্গে মুতাক্কির বৈঠকের সময় দু’পক্ষই কোনও পতাকা না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়ানো যায়। তবে এবার বৈঠক হচ্ছে দিল্লিতে, ফলে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
ঐতিহাসিকভাবে ভারত ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। কিন্তু ২০২১ সালে আমেরিকা আফগানিস্তান থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার পর তালিবান ক্ষমতায় এলে ভারত কাবুলে নিজের দূতাবাস বন্ধ করে দেয়। যদিও ভারত এখনও তালিবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি, তবে ক্রমশ যোগাযোগ ও সংলাপ বাড়াচ্ছে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রক।
মুতাক্কির এই সফরকে তাই ভারত–আফগান সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় শুরুর ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে 'পতাকা' বিভ্রাট কীভাবে এড়ানো যায়, তার পরিকল্পনাও চলছে।
এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ভারত, রাশিয়া, চিন এবং আরও সাতটি দেশ যৌথভাবে আফগানিস্তানে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের বিরোধিতা করেছে। এই অবস্থানে ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, আফগান মাটিকে কোনও দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের ঘাঁটি হতে দেওয়া যাবে না।
এরও আগে জানুয়ারিতে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রির সঙ্গে বৈঠকের পর তালিবান সরকার ভারতকে একটি 'গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক শক্তি' বলে বর্ণনা করেছিল।
সব মিলিয়ে, মুতাক্কির এই সফর শুধু প্রতীকী নয় - ভারত ও তালিবান সরকারের মধ্যে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।