ভারতের মতো বিশাল দেশে যেখানে ৮০ কোটি মানুষের হাতে ফোন রয়েছে সেখানে এই ধরনের অপরাধের পরিমানও বেশি হওয়ার কথা। আসলে এই ধরনের অপরাধের শিকার হলে করণীয় সম্পর্কে সাধারণ মানুষের তেমন ধারণা নেই।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 30 September 2025 10:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে বিগত কয়েক বছরের প্রবণতা বজায় রয়েছে অনলাইন ক্রাইমে (cyber crime)। জাতীয় অপরাধপঞ্জী বা ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো (National Crime Record Bureau) (এনসিপিআরবি) জানিয়েছে, ২০২৩ সালে দেশের সাইবার ক্রাইমের ঘটনা ৩১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে (rising cyber crime in India)। অনলাইন ক্রাইমের ক্ষেত্রে এটাই এখনও পর্যন্ত রেকর্ড।
সাইবার ক্রাইম বৃদ্ধির প্রবণতা নতুন নয়। বিগত কয়েক বছর ধরে এই অপরাধ বাড়ছিল। তবে ২০২৩-এর পরিসংখ্যান পুলিশ-সহ নিরাপত্তা আধিকারিকদের বিস্মিত করেছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা বজায় আছে। পরবর্তী রিপোর্টগুলিতে তার প্রতিফলন থাকবে।
এনসিআরবি-র বার্ষিক প্রতিবেদনে দেশের সমস্ত থানার সব ধরনের অপরাধের বাৎসরিক খতিয়ান থাকে। ২০২৩-এক রিপোর্টটি তুলনামূলকভাবে দেরিতে প্রকাশিত হল। সোমবার রাতে প্রকাশিত রিপোর্ট থেক অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন ক্রাইমে মানুষ যে জেরবার এনসিআবরি-র সর্বশেষ রিপোর্টেই তা স্পষ্ট। রিপোর্টে বলা হয়েছে সাইবার ক্রাইমের তালিকায় নথিভুক্ত বেশিরভাগ অপরাধই যৌন হয়রানি এবং প্রতারণা সংক্রান্ত। এরমধ্যে অনলাইনে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা বেশি। এনসিআরবি জানিয়েছে, ২০২৩-এ নথিভুক্ত অপরাধগুলির ৬৭ শতাংশই প্রতারণা এবং যৌন হয়রানিমূলক।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালে অনলাইন ক্রাইমের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল ৬৫ হাজার ৮৯৩টি। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৩-এ তা বেড়ে হয়েছে ৮৬ হাজার ৪২০টি। রাজ্য পুলিশের সাইবার সেলের এক পদাধিকারীর কথায় প্রকৃত অপরাধের সংখ্যা এর চাইতে অনেক বেশি। ভারতের মতো বিশাল দেশে যেখানে ৮০ কোটি মানুষের হাতে ফোন রয়েছে সেখানে এই ধরনের অপরাধের পরিমানও বেশি হওয়ার কথা। আসলে এই ধরনের অপরাধের শিকার হলে করণীয় সম্পর্কে সাধারণ মানুষের তেমন ধারণা নেই। তারা জানেন চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, পকেটমারি হলে থানায় যেতে হয়। কিন্তু ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে সাইবার অপরাধীরা টাকা তুলে নিলে কী করণীয় জানেন না বহু মানুষ।
রিপোর্টে জানানো হয়েছে, বিগত বছরগুলিতে ধারাবাহিকভাবে সাইবার ক্রাইম বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৮ সালে এই ধরনের অপরাধ নথিভুক্ত হয়েছিল ২৭ হাজার ২৪৮টি। পরের বছর বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৪৪ হাজার ৭৩৫টি। এইভাবে বাড়তে বাডতে ২০২৩-এ নথিভুক্ত হয় ৮৬ হাজার ৪২০টি। অপরাধ দমনে যুক্ত আধিকারিকেরা বলছেন প্রকৃত অপরাধের সংখ্যা এর কয়েকগুণ বেশি। দেশে এই ধরনের অপরাধ দমনের পরিকাঠানোর খুবই অভাব রয়েছে।