বাড়ি পৌঁছে যাত্রী তাঁকে কিছু অতিরিক্ত ভাড়া দিতে চাইলে চালক প্রথমে নেননি। পরে ভাঁজ করা হাতে গ্রহণ করে বলেন, “আপনাকেও ভগবান শক্তি দিন।”

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 26 August 2025 11:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত তখন ১১টা পেরিয়েছে। কাজ সেরে অটো করে বাড়ি ফিরছিলেন এক তরুণ। গুজরাতের (Gujarat) রাস্তায় ক্লান্ত, চোখেমুখে অনিদ্রার ছাপ নিয়ে সেই অটো চালাচ্ছিলেন (Auto Driver) প্রবীণ অটোচালক। তরুণের সঙ্গে চালকের আলাপচারিতায় মিলল এক মর্মস্পর্শী কাহিনি— যা শুনে স্তব্ধ হয়ে যান যাত্রী, আর পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) তা ভাগ করে নেন। মুহূর্তে ভাইরাল হয় সেই পোস্ট।
অটোচালক (Viral Auto Driver Quote) জানিয়েছিলেন, তাঁর দুই মেয়ে রয়েছে। একজনের কোচিং ফি, অন্যজনের স্কুলের খরচ মেটাতেই রাতবিরেতে গাড়ি চালাতে হয় তাঁকে। দিনে গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা রোজগার হয়। তবে তার অর্ধেকই খরচ হয়ে যায় জ্বালানি ও ভাড়ার পেছনে। তাই সংসার টানতে এবং মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে প্রায়ই ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা একটানা গাড়ি চালান তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়া রেডিট ব্যবহারকারী লেখেন, “আমি কিছুক্ষণ চুপ করে ছিলাম। কর্পোরেট চাকরি নিয়ে যখন আমি অভিযোগ করি, তখন এই মানুষটি নিজের শরীর ভেঙে ফেলছেন শুধু মেয়েদের একটা ভাল ভবিষ্যৎ দেওয়ার জন্য।”
কিন্তু যেটা সবচেয়ে বেশি দাগ কেটেছে, তা হল অটোচালকের একটা কথা— “গরিব মানুষ নিজের জন্য স্বপ্ন দেখে না (A poor man never dream), শুধু সন্তানদের জন্য স্বপ্ন দেখে। আমি শুধু প্রার্থনা করি, যেন কালও গাড়ি চালানোর মতো শক্তি থাকে।”
বাড়ি পৌঁছে যাত্রী তাঁকে কিছু অতিরিক্ত ভাড়া দিতে চাইলে চালক প্রথমে নেননি। পরে ভাঁজ করা হাতে গ্রহণ করে বলেন, “আপনাকেও ভগবান শক্তি দিন।”
এরপর পোস্টে ওই যাত্রী লিখেছেন, “আমরা প্রতিদিন ট্রাফিক, বস, ডেডলাইন, খাবার দেরি— এসব নিয়ে অভিযোগ করি। অথচ হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন শরীর ভেঙে ফেলছেন, শুধু সন্তানদের যেন তাদের মতো না হতে হয়।”
পোস্টটি ছড়িয়ে পড়তেই নেটপাড়ায় আবেগের স্রোত। একজন লিখেছেন, “সচেতন দেশে স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে হয়। শিক্ষিত জনসংখ্যার চেয়ে মূল্যবান কিছু নেই।” আরেক জনের মন্তব্য, “এটা ভয়াবহ যে, এক বাবা মেয়েদের পড়াশোনার খরচ তুলতে নিজের শরীর ভেঙে ফেলতে বাধ্য হন।”
আসলে এই ঘটনার মধ্য দিয়েই ফুটে উঠেছে ভারতীয় মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের প্রতিদিনের লড়াই— যেখানে নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যতের জন্যই দিনরাত ঘাম ঝরাতে হয়।