Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্টনির্বাচকদের শর্টলিস্টে বৈভব! আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা, ভাঙতে পারেন সচিনের রেকর্ডIPL 2026: ‘কাছের অনেককে বলেছিলাম, বৈভবকে প্রথম বলে আউট করব!’ কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রফুল্ল

রাহুল অমেঠি ছাড়লেন, একনজরে দেখুন সঞ্জয় থেকে রাজীব, কারা জিতেছেন অমেঠিতে?

অমেঠি দীর্ঘদিন ধরেই গান্ধী পরিবারের নিজস্ব আসন। এককালে এই আসন থেকে দাঁড়িয়েছেন সঞ্জয় গান্ধী। তাঁর মৃত্যুর পর এই আসন ছিল প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর। পরে সনিয়া ও রাহুল জেতেন এই আসনে। একনজরে ফিরে দেখা সেই লম্বা ইতিহাস।

রাহুল অমেঠি ছাড়লেন, একনজরে দেখুন সঞ্জয় থেকে রাজীব, কারা জিতেছেন অমেঠিতে?

প্রথমবারের জন্য লোকসভা ভোটে অমেঠি থেকে দাঁড়িয়েছিলেন সঞ্জয় গান্ধী।

শেষ আপডেট: 3 May 2024 21:16

সৌরদীপ চট্টোপাধ্যায় 

রাহুল গান্ধী নন, কিশোরীলাল শর্মা। অমেঠি থেকে শেষ অবধি গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ নেতার নাম চূড়ান্ত করল কংগ্রেস। স্মৃতি ইরানির কাছে পরাজয়ের পর রাহুল নতুন করে অমেঠি ফেরানোর জন্য ঝাঁপাবেন কিনা জল্পনা থাকলেও, শেষ অবধি তাঁর জায়গা হল মা সনিয়া গান্ধীর পুরনো আসন রায়বরেলিতে। কিশোরীলাল শর্মা আদতে পাঞ্জাবের লুধিয়ানার। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে লেগে রয়েছেন অমেঠিতে। বর্ষীয়ান এই নেতা গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ, এককালে রাজীব গান্ধীর অতীব বিশ্বাসভাজন ছিলেন। অমেঠি থেকে সনিয়ার জয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন কিশোরীলাল। প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর এক্স হ্যান্ডল পোস্ট থেকে স্পষ্ট, এই আনুগত্যেরই পুরস্কার মিলল তাঁর। 

এমনিতে অমেঠি দীর্ঘদিন ধরে গান্ধী পরিবারের নিজস্ব আসন। ১৯৭৭ সালের কথা। জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে, দেশজোড়া কংগ্রেস-বিরোধী হাওয়া তীব্র। তার আগে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের হাওয়ায় ও 'গরিবি হঠাও' স্লোগানের ভরসায় দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। কার্যত দেশে 'ইন্দিরা-ঝড়', মার্কিন রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সন ও তাঁর সচিব হেনরি কিসিঞ্জারের চোখে চোখ রেখে আমেরিকার সমর্থনপুষ্ট পাকিস্তানকে রুখে দিয়েছে ভারত, ঢাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর জয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। রায়বরেলিতে দাঁড়িয়েছিলেন ইন্দিরা। বিপক্ষে ছিলেন সংযুক্ত সোশ্যালিস্ট দলের রাজ নারায়ণ। রায়বরেলিতে তাঁরও জনপ্রিয়তা ছিল ব্যাপক। কিন্তু ইন্দিরা জিতলেও নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, এমন দাবি তুলে ইন্দিরার প্রার্থীপদ বাতিলের জন্য একেবারে এলাহাবাদ হাইকোর্টে মামলা করেন রাজ নারায়ণ। প্রথমে এলাহাবাদ হাইকোর্ট তাঁর আর্জি মানতে চায়নি। রাজ নারায়ণ চলে যান সুপ্রিম কোর্টে। সর্বোচ্চ আদালত রাজ নারায়ণের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শুনে মামলাটি এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি জগমোহন লাল সিংহের এজলাসে পাঠায়। ১৯৭৫ সালের ১২ জুন বিচারপতি সিংহ ইন্দিরার নির্বাচনকে অনিয়মের অভিযোগে বাতিল করেন। লোকসভা থেকে তাঁর সাংসদ পদ বাতিল হয়, ছয় বছরের জন্য কোনও নির্বাচনে লড়তে পারবেন না বলেও জানানো হয়।

সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন ইন্দিরা। কার্যত তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল সারা দেশে। মাত্র তেরো দিন পরে, ২৫ জুন, ইন্দিরার কথায় দেশজোড়া জরুরি অবস্থা জারি করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি আহমেদ। 

এক ধাক্কায় পর পর বিরোধী নেতাদের গ্রেফতার করতে থাকে পুলিশ। গ্রেফতার হন রাজ নারায়ণ, একদিনের মধ্যে জেলে ঢুকে যান অটলবিহারী বাজপেয়ী, জয়প্রকাশ নারায়ণ, মোরারজি দেশাই, চরণ সিংহের মত তাবড় নেতারা। কার্যত গোটা দেশে ক্ষমতার সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন ইন্দিরা এবং তাঁর পুত্র সঞ্জয় গান্ধী। উল্কার বেগে ওপরে উঠতে থাকেন সঞ্জয়। রাজনীতিতে বিন্দুমাত্র অভিজ্ঞতা বা কোনও সাংসদ পদ অবধি না থাকা সত্ত্বেও ইন্দিরার এক নম্বর উপদেষ্টা হ'ন সঞ্জয়। প্রশাসন তাঁর দাপটে তটস্থ হয়ে পড়ে। শীর্ষ আমলা থেকে পুলিশকর্তা, সঞ্জয় ও তাঁর পারিষদদের অনুমোদন না পেলে এক চুলও কাজ করতে পারতেন না কেউ। একে জরুরি অবস্থা, লোকসভা অকেজো। তার ওপর কারোর তোয়াক্কা না করেই সর্বেসর্বা হ'ন সঞ্জয় ও তাঁর কিছু ঘনিষ্ঠ। তাঁর একাধিক নীতি নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। যার মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ছিল জোর করে নির্বীজকরণ কর্মসূচি। জোর করে যাকে-তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্বীজকরণ করার নামে ত্রাস তৈরি হয় দিল্লি ও সংলগ্ন উত্তরপ্রদেশ-হরিয়ানায়।

জরুরি অবস্থা যখন উঠল, তখন একদিকে আইন ও প্রশাসন বিপর্যস্ত, অন্যদিকে জনতার ক্ষোভ চরমে পৌঁছে গিয়েছে। ইন্দিরা নির্বাচন ঘোষণা করলেন। ১৯৭৭-এর মার্চে হবে নির্বাচন। তীব্র কংগ্রেস-বিরোধী হাওয়ায় একজোট হলেন বিরোধীরা। সারা দেশ চষে ফেললেন জয়প্রকাশ নারায়ণের মত সর্বজনশ্রদ্ধেয় প্রবীণ নেতা। সেবারেই প্রথম ভোটে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে সঞ্জয়। প্রার্থী হলেন অমেঠি থেকে। 

কিন্তু সেবার যা অবস্থা, তাতে বোধ হয় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে নির্দল দাঁড়ালেও জিতে যেতেন সেই প্রার্থী। অমেঠিতে সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন জনতা দলের রবীন্দ্রপ্রতাপ সিং। জিতলেন বিপুল ভোটে। 

তবে জনতা-জোট বেশিদিন টিকল না। মোরারজি দেশাই, চরণ সিংহ কেউই টেকাতে পারলেন না জোটকে। জনতাও বুঝল, বিরোধীরা যতই একজোট হোক, জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের কোনও বিকল্প নেই। ১৯৮০ সালে ফের নির্বাচন হল। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে বিধ্বস্ত জনতা দল প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য জগজীবন রামকে দাঁড় করাল। কিন্তু খেলা ঘুরে গেল এক ধাক্কাতেই। ৩৫৩ আসন নিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ফিরে এল কংগ্রেস। রায়বরেলিতে ইন্দিরার বিরুদ্ধে জনতা দলের হয়ে দাঁড়ালেন গ্বালিয়র রাজপরিবারের রাজমাতা বিজয়ারাজে সিন্ধিয়া। শোনা যায়, জনতা দলের অন্যতম 'দরাজ' সদস্য ছিলেন রাজমাতা। কিন্তু দু'লক্ষেরও বেশি ভোটে জিতলেন ইন্দিরা। অমেঠি থেকেও রবীন্দ্রপ্রতাপকে হারিয়ে জিতলেন সঞ্জয় গান্ধী। 

কিন্তু জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই দুঃসংবাদ। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই, ১৯৮০ সালের ২৩ জুন সকালে বিমান দুর্ঘটনায় আচমকা প্রাণ হারালেন সঞ্জয়। 

পরের বছর উপনির্বাচন হল অমেঠিতে। রাজীব গান্ধী তখনও রাজনীতি থেকে দূরে। স্ত্রী সনিয়া, পুত্র-কন্যা নিয়ে পাইলট রাজীব নিজস্ব জীবনেই অভ্যস্ত। কিন্তু এই নির্বাচনেই শেষে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করলেন রাজীব। দাঁড়ালেন দাদার ছেড়ে যাওয়া আসনে। তাঁর বিরুদ্ধে লোকদলের প্রার্থী হলেন শরদ যাদব। বলাই বাহুল্য, বিপুল ভোটে জিতলেন রাজীব। 

তারপর থেকে অমেঠি ছিল রাজীব গান্ধীর আসন। ততদিনে নিহত হয়েছেন ইন্দিরা গান্ধী। সঞ্জয়ের স্ত্রী মানেকার সঙ্গে মতানৈক্য চওড়া হয়েছে গান্ধী পরিবারের। ১৯৮৪ সালের নির্বাচনে অমেঠিতে রাজীবের বিরুদ্ধে নির্দল হিসেবে দাঁড়ালেন মানেকা। ৫০ হাজারের কাছাকাছি ভোট টেনেছিলেন মানেকা। কিন্তু রাজীবের সাড়ে তিন লক্ষ ভোটের কাছে সেসব কিছুই না। ১৯৮৯ সালে অমেঠিতে কার্যত হাইভোল্টেজ লড়াই হয়। রাজীবের বিরুদ্ধে জনতা দল প্রার্থী করেছিল অধুনা ইতিহাসবিদ হিসেবে সুপরিচিত মহাত্মা গান্ধীর নাতি রাজমোহন গান্ধীকে। পাল্টা বহুজন সমাজপার্টির হয়ে দাঁড়ান কাঁসিরাম। সেবারেও রাজীব ঝড় ঠেকানো যায়নি। ১৯৯১ সালের ভোটে আবারও অমেঠিতে দাঁড়ান রাজীব। নির্বাচন চলাকালীনই অমেঠিতে ভোট হবার কয়েকদিন পরে তামিলনাড়ুতে বিস্ফোরণে প্রাণ হারান রাজীব। উপ-নির্বাচনে দাঁড়ান রাজীবের ঘনিষ্ঠ, গান্ধী পরিবারের একান্ত সহযোগী সতীশ শর্মা। 

সতীশ পর পর দুইবার যেতেন অমেঠি। কিন্তু ১৯৯৯ সাল থেকে অমেঠি আবার ফেরত আসে গান্ধী পরিবারে। চার লক্ষের বেশি ভোট পেয়ে, ৬৭% ভোট নিজের দিকে টেনে অমেঠি থেকে জেতেন সনিয়া গান্ধী। ভারতীয় রাজনীতিতে কার্যত ধুমকেতুর মত উত্থান হয় সনিয়ার। পরে ওই আসনে চলে আসেন রাহুল। ২০০৪ থেকে পরপর তিন দফায় অমেঠি ছিল রাহুলের দখলে। আপাতত সতীশ শর্মার পরে আবারও অমেঠিতে দাঁড়ালেন গান্ধী পরিবারের বাইরের কেউ। তবে রাশ নিজেদের হাতেই রাখলেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধীরা।


```