২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল, দীর্ঘ শুনানির পরে সলমন খানকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত এবং তাঁকে যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়। তিনি সেখানে দু’দিন কাটানোর পরে ৭ এপ্রিল জামিন পান।

শেষ আপডেট: 25 July 2025 16:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে সম্প্রতি স্বাস্থ্যজনিত কারণ দেখিয়ে ইস্তফা দিয়েছেন জগদীপ ধনকড়। তাঁর এই পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনার শেষ নেই। কিন্তু সেই আলোচনার আড়ালে রয়ে গিয়েছে তাঁর জীবনের এক চমকে দেওয়া অধ্যায়। অনেকেই হয়তো জানেন না, সলমন খানের ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলায় প্রথম জামিনদাতা আইনজীবী ছিলেন জগদীপ ধনকড় নিজে। সেই সময় তিনি ছিলেন রাজস্থানের যোধপুর হাইকোর্টের অন্যতম খ্যাতনামা আইনজীবী এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞ।
কী হয়েছিল ১৯৯৮ সালে?
মামলার সূত্রপাত রাজস্থানের যোধপুরের কাছে কানকানি গ্রামে। সে সময় সুরজ বরজাতিয়ার ছবি 'হম সাথ সাথ হ্যায়'–এর শ্যুটিং চলছিল। ছবিতে ছিলেন সলমন খান, সইফ আলি খান, টাবু, নীলম, করিশ্মা কাপুর এবং সোনালী বেন্দ্রের মতো তারকারা। অভিযোগ, শ্যুটিংয়ের মাঝেই তাঁরা দু’টি কৃষ্ণসার হরিণ শিকার করেন। কালো হরিণ ভারতে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী এবং বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনের আওতায় সুরক্ষিত।
যোধপুর পুলিশ সলমন খানকে গ্রেফতার করে। সেই সময় তাঁর জামিনের সওয়াল করেন আইনজীবী ধনকড়। পরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটাল-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ধনকড়ের প্রাক্তন সহকারী প্রবীণ বলওয়াদা জানান, ১৯৯৮ সালে সলমন খান ও অন্য অভিযুক্তদের জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম আদালতে সওয়াল করেন জগদীপ ধনকড়। তিনি আরও জানান, শুধু সেই প্রথম পর্যায়ে ধনকড় মামলাটিতে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ছিলেন না।
ধনকড়ের সওয়াল কী ছিল?
সেই বছর এক সাক্ষাৎকারে ধনকড় বলেছিলেন, 'ঘটনার সময় সেটে ৩০০ জন লোক ছিলেন। তাহলে কীভাবে ঘটনাটি ঘটে গেল, আর কেউ টেরই পেল না?' তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, 'যখন গ্রামবাসীরা অভিযোগ করছেন অভিনেতারা হরিণ হত্যা করেছেন, তখন তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে কিছু বললেন না কেন? কেন তিন সপ্তাহ পরে অভিযোগ দায়ের করা হল?'
তাঁর যুক্তি ছিল, সলমন খান গ্রেফতারির পর পুরোপুরি পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করেছিলেন, তাই তাঁর জামিন পাওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
মামলাটিতে পরবর্তীতে কী হয়েছিল?
২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল, দীর্ঘ শুনানির পরে সলমন খানকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত এবং তাঁকে যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়। তিনি সেখানে দু’দিন কাটানোর পরে ৭ এপ্রিল জামিন পান। ৫০ হাজার টাকা ব্যক্তিগত বন্ড এবং দুটি ২৫ হাজার টাকার জামিননামা দিয়ে বেরতে পারেন। বেলের শর্তে বলা হয়েছিল, সলমন দেশের বাইরে যেতে পারবেন না আদালতের অনুমতি ছাড়া এবং ৭ মে আদালতে হাজিরা দিতে হবে।
ধনকড়ের রাজনৈতিক উত্থান
আইনজীবী হিসেবে সুনাম থাকলেও ধনকড়ের রাজনৈতিক জীবনের শুরু ২০০৩ সালে, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে। ২০১৬ সালে তিনি দলের আইনি শাখার দায়িত্বে আসেন। ২০১৯ সালে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। ২০২২ সালে উপরাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে এনডিএ প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে জয়ী হন।