কর্নাটকের বিদর জেলায় নাইলনের ঘুড়ির সুতোয় গলা কেটে মৃত্যু হল ওই মোটরসাইকেল আরোহীর।

সঞ্জুকুমার হোসামানি (৪৮)।
শেষ আপডেট: 14 January 2026 15:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসবের বলি এক প্রৌঢ় বাইকার। এবারেও প্রাণ কেড়ে নিল ঘুড়ির মাঞ্জা। কর্নাটকের বিদর জেলায় নাইলনের ঘুড়ির সুতোয় গলা কেটে মৃত্যু হল ওই মোটরসাইকেল আরোহীর। পুলিশ জানিয়েছে তাঁর নাম, সঞ্জুকুমার হোসামানি (৪৮)। ঘটনাটি ঘটে বিদর জেলার তালামাদাগি ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তায় টানটান হয়ে ঝুলে থাকা ঘুড়ির সুতো হঠাৎই হোসামানির গলায় লেগে গভীর ক্ষত হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বাইক থেকে পড়ে যান।
মৃত্যুর আগে রক্তাক্ত অবস্থাতেই কোনওভাবে মেয়ের নম্বরে ফোন করার চেষ্টা করেন হোসামানি। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে, যা কার্যত শিউরে ওঠার মতো। এক পথচারী ছুটে এসে কাপড় চেপে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা অ্যাম্বুলেন্স ডেকেছিলেন বলে জানা গেলেও, অভিযোগ— অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছতে দেরি হওয়ায় ততক্ষণে মৃত্যু হয় হোসামানির।
মৃতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সময়মতো চিকিৎসা মিললে হয়তো প্রাণ বাঁচানো সম্ভব ছিল। অ্যাম্বুলেন্সের দেরিকেই মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন তাঁরা। ঘটনার পর তালামাদাগি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের আত্মীয় ও স্থানীয় মানুষজন। নাইলনের ঘুড়ির সুতো বা তথাকথিত ‘চাইনিজ মাঞ্জা’ ব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ এবং জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থার উন্নতির দাবি তোলা হয়।
এ ঘটনায় মান্না একহেল্লি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, নাইলনের ঘুড়ির সুতো বহু বছর ধরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠেছে। সোমবারই মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে রঘুবীর ধাকার (৪৫) নামে এক ব্যক্তির গলা কেটে মৃত্যু হয়েছে ঘুড়ির প্রাণঘাতী মাঞ্জায়। দিল্লিতেও একের পর এক এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে উত্তর দিল্লির রানি ঝাঁসি ফ্লাইওভারে স্কুটার চালানোর সময় ঘুড়ির সুতোয় গলা কেটে মৃত্যু হয় ২২ বছরের ব্যবসায়ী যশ গোস্বামীর।
২০২২ সালে হায়দরপুর ফ্লাইওভারে একই কারণে প্রাণ হারান এক বাইক আরোহী।
২০২৩ সালের জুলাইয়ে পশ্চিম দিল্লির পশ্চিম বিহারে ঘুড়ির সুতোয় মৃত্যু হয় মাত্র সাত বছরের এক শিশুর।
প্রশাসনের তরফে মাঝেমধ্যেই অভিযান চালিয়ে ঘাতক ঘুড়ির সুতো বাজেয়াপ্ত করা হলেও, বারবার ঘটে চলা মৃত্যুর ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে— এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।