স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে খোঁজ চলছে ঠিক কোন জলাশয় থেকে নাবালিকা সংক্রমিত হয়েছিল। সম্ভবত কোনও পুকুর বা হ্রদে স্নান করার সময় শরীরে প্রবেশ করেছিল ওই মারণ অ্যামিবা।

কেরলে মৃত্যু নাবালিকার
শেষ আপডেট: 16 August 2025 18:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'ব্রেন ইটিং' অ্যামিবার (Brain Eating Amoeba) সংক্রমণে মৃত্যু হল এক নয় বছরের নাবালিকার। কেরল থেকে এই ভয়ংকর ঘটনা সামনে এসেছে। তিনদিন আগে প্রবল জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল মেয়েটি। চিকিৎসা চললেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। গত বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছে, নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে অ্যামিবিক এনসেফালাইটিসে (Amoebic Encephalitis), যা অত্যন্ত বিরল মস্তিষ্কজনিত সংক্রমণ (Rare brain infection)। এই রোগের এখনও কোনও নিরাময়যোগ্য চিকিৎসা নেই। সাধারণত দূষিত জলাশয় যেমন, পুকুর, নদী বা হ্রদের মতো জায়গা থেকেই এই সংক্রমণ ছড়ায়।
জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক শনিবার জানিয়েছেন, নাবালিকা গত ১৪ অগস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। জানা গেছে, ১৩ অগস্ট জ্বরে আক্রান্ত অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে শুরু করলে, পরের দিন অর্থাৎ ১৪ অগস্ট তাকে কোঝিকোর মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। একইদিনে ওই হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসকেরা জানান, শুক্রবার গভীর রাতে মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব থেকে পাওয়া রিপোর্টে নিশ্চিত হয়েছে, ওই মেয়েটির মৃত্যু অ্যামিবিক এনসেফালাইটিসের কারণেই হয়েছে। মৃতা থামারাসেরি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে খোঁজ চলছে ঠিক কোন জলাশয় থেকে নাবালিকা সংক্রমিত হয়েছিল। সম্ভবত কোনও পুকুর বা হ্রদে স্নান করার সময় শরীরে প্রবেশ করেছিল ওই মারণ অ্যামিবা। একবার উৎস চিহ্নিত করা গেলে, সম্প্রতি সেই জলাশয়ের জল ব্যবহার করেছেন, এমন মানুষদের খোঁজ করা হবে।
রিপোর্ট বলছে, চলতি বছর এই জেলায় এটি সম্ভবত চতুর্থ ঘটনা যেখানে বিরল এই ‘ব্রেন-ইটিং’ সংক্রমণ ধরা পড়ল। উল্লেখ্য, ফ্রি-লিভিং অ্যামিবার কারণে হওয়া অ্যামিবিক এনসেফালাইটিস প্রায়শই প্রাণঘাতী। এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খুব কম রোগীরই প্রাণ বেঁচেছে।