রাস্তার ধারে থাকা একটি গভীর কুয়োর দেওয়ালে গাড়িটি ধাক্কা মেরে সোজা ভিতরে পড়ে যায়। প্রায় ৪০ ফুট পর্যন্ত জল থাকা ওই কুয়োয় গাড়ি তলিয়ে যায়।

কুয়োয় পড়ল গাড়ি, মুহূর্তে সব শেষ (ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি)
শেষ আপডেট: 7 April 2026 16:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) নাসিক (Nashik) জেলায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। শর্টকাট (Shortcut) নিতে গিয়ে কুয়োয় (Well) পড়ে মৃত্যু হল একই পরিবারের ৯ জনের। মৃতদের মধ্যে ৬ জন শিশু (Children), ঘটনায় শোকের ছায়া গোটা এলাকায়।
শুক্রবার দারগুড়ে পরিবারের সদস্যরা ডিন্ডোরি এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারের (Coaching Centre) অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন সুনীল দারগুড়ে (Sunil Dargude, 32), তাঁর স্ত্রী রেশমা (Reshma, 27), মেয়ে গুণবন্তী (Gunwanti, 11), সুনীলের শ্যালিকা আশা (Asha, 32) এবং তাঁর সন্তান শ্রেয়স (Sreyash, 11), শ্রাবণী (Shravani, 11), শ্রদ্ধা (Sraddha, 13), সৃষ্টি (Srishti, 14) ও এক আত্মীয়ের সন্তান সমৃদ্ধি (Samriddhi, 7)।
অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যার দিকে তাঁরা প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের গ্রামে ফিরছিলেন। মারুতি সুজুকি এক্সএল৬ (Maruti Suzuki XL6) গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সুনীল। সেই সময় দ্রুত পৌঁছতে শর্টকাট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আর ওই সিদ্ধান্তই কাল হয়ে দাঁড়ায়।
রাস্তার ধারে থাকা একটি গভীর কুয়োর দেওয়ালে গাড়িটি ধাক্কা মেরে সোজা ভিতরে পড়ে যায়। প্রায় ৪০ ফুট পর্যন্ত জল (Water Level) থাকা ওই কুয়োয় গাড়ি তলিয়ে যায়। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং দমকল বাহিনীকে (Fire Brigade) খবর দেন। অন্ধকার (Darkness) ও কুয়োর গভীরতার কারণে উদ্ধারকাজ ঠিকভাবে করা সম্ভব হয়নি।
দমকল কর্মীরা আলো ফেলে গাড়ির অবস্থান চিহ্নিত করেন। ডুবুরি (Divers) নেমে দড়ির সাহায্যে গাড়িটি টেনে তোলেন। তবে ততক্ষণে সব শেষ। গাড়িতে থাকা সকলেরই মৃত্যু হয়। একটি শিশুর দেহ গাড়ির বাইরে পাওয়া যায়।
ঘটনার পর পুলিশ (Police) বেপরোয়া গাড়ি চালানো (Rash Driving) ও গাফিলতির (Negligence) অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। মৃত সুনীল দারগুড়ের বিরুদ্ধে র্যাশ ড্রাইভিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি কুয়োর মালিক রাজেন্দ্র রাজে (Rajendra Raje)-র বিরুদ্ধেও গাফিলতির মামলা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে ওই কুয়োর পাশ দিয়ে রাস্তা তৈরি হলেও কুয়োটি বন্ধ করা হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন (Civic Authorities) ও মালিকের মধ্যে বিবাদ চলছিল। যার জেরে ওভাবেই পড়ে ছিল বহুদিন।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কুয়ো ভরাটের (Filling Work) কাজ শুরু হয়েছে দ্রুত। কেন এতদিন রাস্তার পাশে খোলা কুয়ো পড়ে ছিল, তা খতিয়ে দেখতে গোটা ঘটনার তদন্ত (Investigation) শুরু হয়েছে।