
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 February 2025 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তেলঙ্গানার সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের (Telangana Tunnel Collapsed) আদৌ উদ্ধার করা যাবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েই গেছে। ব়্যাট মাইনার্সরা (Rat Miners) কাজ শুরু করেছে ইতিমধ্যে। সোমবারের পর মঙ্গলবারও আসছে তাদের নতুন টিম। তবে ভিতরে আটকে থাকা ৮ জন শ্রমিকদের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করতে পারেননি উদ্ধারকারীরা।
শ্রীশৈলম বাঁধের (Srisailam Left Bank Canal) সুড়ঙ্গে আটকে রয়েছে ওই ৮ জন শ্রমিক। এন্ডোস্কোপিক ক্যামেরার মাধ্যমে সুড়ঙ্গের ভিতর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে রোবোটিক ক্যামেরা। ব়্যাট মাইনার্সরাও পুরোদমে চেষ্টা করছেন সুড়ঙ্গের ভিতরে ওই ঘটনাস্থলে যাওয়ার। তবে বর্তমানে তাঁদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সুড়ঙ্গ থেকে বেরনো কাদা মাটি, জল। তার জেরে ভিতরে দ্রুত এগোতেই পারছেন না উদ্ধারকারীরা।
ব়্যাট মাইনার্স টিমের তরফে বলা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের শেষ ৪০ মিটার পার করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁরা ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং বুঝেশুনে পদক্ষেপ করতে চাইছেন। কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না তাঁরা। সুড়ঙ্গের ভিতরে জল-কাদা টপকে যাওয়ার জন্য লোকোমোটিভ ট্র্যাক পরিষ্কার করার কাজ চলছে। সেটা সম্পন্ন হলে উদ্ধারকারী দল বড় বড় মেশিন সুড়ঙ্গের ভিতর ঢোকাতে পারবে।
উদ্ধারকাজের দায়িত্বে থাকা রাজ্যের মন্ত্রী জুপালি কৃষ্ণ রাও বলেছেন, যে আটজন ভিতরে আটকে পড়েছেন তাঁদের বেঁচে থাকার আশা অত্যন্ত ক্ষীণ। কারণ শ্রমিকরা সুড়ঙ্গের যে অংশে আটকে পড়েছেন সেই অংশ অত্যন্ত গভীর এবং জটিল। তবে সামান্য আশার আলো থাকলেও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাবেন তাঁরা বলে আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, একটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে ওই জায়গায় পৌঁছনোর চেষ্টা করছে ব়্যাট মাইনার্সরা। এখন শুধু কাদা-মাটি আর জল পেরনোর অপেক্ষা।
শ্রমিকদের উদ্ধার করতে ব়্যাটহোল মাইনার্সদের ভূমিকাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের জন্য এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত দেশী, প্রাচীন ও অবৈজ্ঞানিক। খনির মধ্যে ঢোকা ও বেরনোর জন্য শ্রমিকরা 'ইঁদুরের গর্ত' খোঁড়েন। ইঁদুর যেমন মাটির নীচে যাতায়াত করার জন্য ছোট ছোট গর্ত খোঁড়ে, তেমনই খনি থেকে কাঁচামাল তোলার জন্য এমন গর্ত করেন শ্রমিকরা। সাধারণত ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে শ্রমিকেরা খনিতে নামেন। সরু গর্ত খুঁড়তে খুঁড়তে খুব অল্প জায়গার মধ্য দিয়ে শ্রমিকেরা খনির মধ্যে প্রবেশ করেন।
উত্তরকাশীর ঘটনায় এই পদ্ধতিতে সাফল্য মিললেও আদতে ভারতে এই পদ্ধতি নিষিদ্ধ! ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল ২০১৪ সালে ইঁদুর-গর্ত খননকে অবৈজ্ঞানিক বলে নিষিদ্ধ করেছিল। এই পদ্ধতিতে খনন করতে গিয়ে অনেক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনাও হয়েছে। বিশেষত, উত্তর-পূর্ব ভারতের খনিগুলিতেই এই দুর্ঘটনার খবর সামনে এসেছে। কিন্তু তেলঙ্গানার ঘটনায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করা ছাড়া আর কোনও উপায় দেখেননি উদ্ধারকারীরা।