এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India Plane Crash) ভয়াবহ দুর্ঘটনায় (ফ্লাইট এআই ১৭১) সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইঞ্জিনের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ হঠাৎ ‘রান’ থেকে ‘কাট অফ’-এ সরে যাওয়ার বিষয়টি।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 12 July 2025 12:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India Plane Crash) ভয়াবহ দুর্ঘটনায় (ফ্লাইট এআই ১৭১) সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইঞ্জিনের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ হঠাৎ ‘রান’ থেকে ‘কাট অফ’-এ সরে যাওয়ার বিষয়টি। এই একই বিষয় নিয়ে বোয়িং ৭৩৭ বিমানের ক্ষেত্রে ২০১৮ সালে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সতর্ক করেছিল। যার গুরুত্ব বোঝাতে এখন ফের আলোচনায় সেই পুরনো রিপোর্ট।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এফএএ একটি Special Airworthiness Information Bulletin (SAIB) জারি করে জানায়, কিছু বোয়িং ৭৩৭ বিমানে ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচগুলোর লকিং ফিচার নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ইনস্টল করা হয়েছে। অর্থাৎ, এগুলি অনিচ্ছাকৃতভাবে সরেও যেতে পারে। তবে যেহেতু এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ (unsafe) পরিস্থিতি হিসেবে ধরা হয়নি, তাই কোনও Airworthiness Directive (AD) জারি হয়নি, যা বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করে।
এই একই ফুয়েল সুইচ ডিজাইন ব্যবহৃত হয় বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমানে, যার একটি ছিল এয়ার ইন্ডিয়ার VT-ANB, যা ১২ জুন আমদাবাদ থেকে ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। প্রাণ যায় ২৬০ জনের। প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে— ওড়ার তিন সেকেন্ড পরেই দু'টি ইঞ্জিনের ফুয়েল সুইচ একে অপরের এক সেকেন্ডের ব্যবধানে ‘রান’ থেকে ‘কাটঅফ’-এ চলে যায়। অর্থাৎ ওড়ার সময় হঠাৎই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। তবে রিপোর্টে স্পষ্ট করে বলা হয়নি, এটি ইচ্ছাকৃত না অনিচ্ছাকৃত।
ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে ধরা পড়েছে দুই পাইলটের কথোপকথন। এক পাইলট অপরকে জিজ্ঞেস করছেন, “তুমি ফুয়েল বন্ধ করে দিলে কেন?” জবাবে অপর পাইলট বলেন, “কই, আমি তো কিছু করিনি।”
ক্যাপ্টেন সুমিত সাবারওয়ালের (৫৬) উড়ান অভিজ্ঞতা ছিল ১৫,৬৩৮ ঘণ্টা। অন্যদিকে, কো-পাইলট ক্লাইভ কুন্ডার (৩২) ৩,৪০৩ ঘণ্টা। প্রাক্তন অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সনৎ কউল বলেন, “এত অভিজ্ঞ পাইলটদের দোষ দেওয়া যায় না। হয়তো বোয়িং-এর সিস্টেমেই বড়সড় ভুল আছে। এটা বোঝা যাবে পূর্ণাঙ্গ তদন্তে।”
প্রাক্তন AAIB অফিসার ক্যাপ্টেন কিশোর চিন্তা বলেন, “ফুয়েল কাট-অফ সুইচ কি বিমানের ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল ইউনিট থেকেই ট্রিগার হতে পারে? যদি সেটা নিজে থেকেই হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগের।”
বস্তুত, ঘাতক বিমানটি আমদাবাদ থেকে লন্ডন যাচ্ছিল। ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি একটি মেডিকেল কলেজ হস্টেলে আছড়ে পড়ে। বিমানের ২৪২ জন যাত্রীর মধ্যে বেঁচে যান মাত্র একজন। তাছাড়াও মারা যান এলাকায় থাকা আরও ১৯ জন।