নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জুন পর্যন্ত বিহারে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৮৯ লক্ষ। আর খসড়া তালিকায় তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ২৪ লক্ষে। অর্থাৎ এক মাসেই মুছে গিয়েছে প্রায় ৬৫ লক্ষ নাম। বিষয়টি সামনে আসতে ক্ষুব্ধ বিরোধীরা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 2 August 2025 11:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র এক মাসের ব্যবধানে হঠাৎই ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ। তাও কোনও জেলা বা অঞ্চলে নয়, গোটা বিহারজুড়ে। শুক্রবার প্রকাশিত বিহারের ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর-এর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পরই তীব্র বিতর্ক ছড়াল রাজ্য-রাজনীতিতে।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জুন পর্যন্ত বিহারে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৮৯ লক্ষ। আর খসড়া তালিকায় তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ২৪ লক্ষে। অর্থাৎ এক মাসেই মুছে গিয়েছে প্রায় ৬৫ লক্ষ নাম। বিষয়টি সামনে আসতে ক্ষুব্ধ বিরোধীরা।
‘ইন্ডিয়া’ জোটের একাংশ বলছে, আগামী বৃহস্পতিবার এক নৈশভোজে বৈঠক করে প্রতিবাদের রূপরেখা তৈরি করা হবে। ঠিক হয়েছে, শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের রাজ্য সদর দফতর ঘেরাও করবে তারা।
নির্বাচন কমিশনের দাবি, এটি কেবলমাত্র খসড়া তালিকা। ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাম অন্তর্ভুক্ত, সংশোধন ও বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলবে। রাজ্যের ২৪৩টি বিধানসভার ৯০ হাজার ৭১২টি বুথের খসড়া তালিকা ইতিমধ্যেই সব রাজনৈতিক দলের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, কারও কোনও আপত্তি থাকলে তা জানাতে হবে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
তবে বিরোধীদের প্রশ্ন, বাদ দেওয়া ৬৫ লক্ষ ভোটারের মধ্যে কারা মৃত, কারা স্থানান্তরিত, সেই বিস্তারিত তথ্য কোথায়? খসড়া তালিকা প্রকাশের দিনেই সামনে এসেছে ভয়ঙ্কর গরমিল।
সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনা ঘটেছে পাটনার ধানারুয়া এলাকায়। শিবরঞ্জন কুমার নামে এক ব্যক্তি নিজেই ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করেছেন, আর জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী নিশা কুমারী প্রয়াত। এমনকি জমা দিয়েছেন মৃত্যু সংক্রান্ত নথিও। অথচ নিশা দিব্যি জীবিত। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে বিডিও। শিবরঞ্জন স্বীকার করেছেন, স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা নেই। কিন্তু তাই বলে জীবিত মানুষকে মৃত ঘোষণা করে ভুয়ো সার্টিফিকেট কী করে এল, তার তদন্ত শুরু হয়েছে। নোটিস পাঠানো হয়েছে পঞ্চায়েত প্রধান, সচিব ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে।
এই একটি ঘটনাই যথেষ্ট নয়, আরও এমন গাফিলতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না বিরোধীরা। এদিন সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনকে কার্যত হুমকি দেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, 'ভোট চুরি করছে কমিশন। আমাদের হাতে প্রমাণ আছে। বিজেপির হয়ে কাজ করছে তারা। আমরা প্রমাণ সামনে আনলে দেশ কেঁপে যাবে।'
রাহুলের মন্তব্যের পর কমিশনও চুপ থাকেনি। এক বিবৃতিতে জানায়, গত ১২ জুন রাহুল গান্ধীকে ই-মেল ও চিঠি পাঠিয়ে আলোচনায় ডাকা হয়েছিল। তিনি আসেননি, উত্তরও দেননি। সেই পরিস্থিতিতে তাঁর মন্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলেই মনে করা হচ্ছে।
এসআইআর ইস্যুতে এদিন যৌথভাবে লোকসভায় আলোচনার দাবি জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি দেন বিরোধী সাংসদরা। সংসদ চত্বরে বিক্ষোভও করেন তাঁরা। রাজ্যসভায় বিরোধীরা ওয়েলে নামতে গেলে, ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটে, সেখানে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন সিআইএসএফ জওয়ানরা।
তাঁদের ঠেলে প্রতিবাদে নেমে পড়েন তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন, ডিএমকের তিরুচি শিবা এবং আপের সঞ্জয় সিং। ঘটনাটি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশকে চিঠি লেখেন তিনি।
অবশেষে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু জানান, ভবিষ্যতে যেন এমন কিছু না ঘটে, তা দেখা হবে।
৬৫ লক্ষ নামের বেমালুম উধাও হয়ে যাওয়া নিছক খসড়ার ভুল, না কি এর পেছনে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র, তা নিয়ে এখন উত্তাল রাজনীতি।