দুর্ঘটনার তীব্রতায় দু’টি বেসরকারি বাসই দুমড়ে-মুচড়ে চুরমার হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে উদ্ধারকাজ।

দুমড়ে-মুচড়ে চুরমার দুটি বাসই
শেষ আপডেট: 24 November 2025 12:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu News) তেঙ্কাসি জেলায় ভয়াবহ বাসদুর্ঘটনা (Bus Accident)। সোমবার সকালে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল কম করে ছ’জনের (Bus Accident Death)। জখম অন্তত ২৮ জন। দুর্ঘটনার তীব্রতায় দু’টি বেসরকারি বাসই দুমড়ে-মুচড়ে চুরমার হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে উদ্ধারকাজ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাদুরাই (Madurai) থেকে সেঙ্কোটাইগামী একটি কেসার বেসরকারি বাস এবং তেঙ্কাসি থেকে কোইলপট্টির দিকে যাওয়া আরেকটি বাসের মধ্যে ভয়াবহ ধাক্কা লাগে। স্থানীয় প্রশাসন ও দমকল কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এক জন সিনিয়র পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট— মাদুরাই থেকে সেঙ্কোটাই যাচ্ছিল যে কেসার বাসটি, সেটির বেপরোয়া গতিই বিপদের কারণ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ‘‘গাড়িটির অতিরিক্ত গতি এবং চালকের অবহেলাই সংঘর্ষের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।’’
আহত ২৮ জনকে নিকটবর্তী হাসপাতালগুলিতে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সপ্তাহ খানেক আগে কাকভোরে সৌদি আরবের মক্কা থেকে মদিনা রওনা হয়েছিল তীর্থযাত্রীবাহী একটি বাস। গন্তব্যের থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে মুফরিয়তে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় বাসের ৪৫ ভারতীয় যাত্রীর। মৃতদের মধ্যে ১৮ জনই হায়দরাবাদের বাজার ঘাট এলাকার একই পরিবারের সদস্য ছিলেন।
৪৬ জন উমরাহযাত্রীকে নিয়ে সোমবার ভোর দেড়টা নাগাদ মক্কা থেকে মদিনার উদ্দেশে রওনা দেয় ওই বাস। পথে বাসটি একটি ডিজেল ট্যাঙ্কারকে ধাক্কা মারে। এরপরই বাস ও ট্যাঙ্কারে আগুন লেগে যায়। ঘুমের মধ্যেই ঝলসে মৃত্যু হয় পুণ্যার্থীদের।
সেই ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারগুলিকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তারও ঘোষণা করা হয়। হায়দরাবাদের সাংসদ তথা মিম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়েইসি জানিয়েছেন, দু’টি ভ্রমণ সংস্থার থেকে যাত্রীদের সম্পর্কে সংগৃহীত তথ্য ভারতীয় দূতাবাসের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি।
জেড্ডায় ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকেও চব্বিশ ঘণ্টার জন্য একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে পূর্ণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।