লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন-এর গবেষকদের নেতৃত্বে করা এই সমীক্ষা বলছে, ভারতই সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত দেশ হতে পারে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 October 2025 18:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মশাবাহিত সংক্রমণ চিকুনগুনিয়া (Chikungunya) আগামী দিনে আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে। প্রতি বছর অন্তত ৫১ লক্ষ ভারতীয় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন— এমনই আশঙ্কাজনক পূর্বাভাস দিল ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল BMJ Global Health-এ প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা।
বিশ্বে শীর্ষে ভারত
লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন-এর গবেষকদের নেতৃত্বে করা এই সমীক্ষা বলছে, ভারতই সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত দেশ হতে পারে। আক্রান্তের সংখ্যা অনুযায়ী দ্বিতীয় স্থানে ব্রাজিল, তৃতীয় স্থানে ইন্দোনেশিয়া। শুধু ভারত ও ব্রাজিল মিলে গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর পড়া বোঝার প্রায় ৪৮ শতাংশই তৈরি করছে বলে দাবি রিপোর্টে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, চিকুনগুনিয়ার প্রকৃত ভয় লুকিয়ে রয়েছে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে। আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকের ক্ষেত্রেই আজীবন জয়েন্টে ব্যথা বা শারীরিক অক্ষমতা থেকে যেতে পারে। বয়সের বিচারে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছেন ৪০ থেকে ৬০ বছরের মানুষ। মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি শিশু (১০ বছরের নীচে) ও প্রবীণদের (৮০ বছরের ঊর্ধ্বে)।
প্রতিবছর আক্রান্ত হতে পারেন ১.৪৪ কোটি মানুষ
এই প্রথম কোনও মডেল-ভিত্তিক গবেষণা থেকে গোটা বিশ্বের চিকুনগুনিয়া বোঝা হিসেব করা হয়েছে। গবেষকদের দাবি, প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১.৪৪ কোটি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। আগের অনুমানগুলি মূলত প্রাদুর্ভাব ও নজরদারি রিপোর্টের উপর নির্ভর করেছিল, যা অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে কম দেখিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের সহ-অধ্যক্ষ সুশান্ত সাহস্ত্রবুদ্ধে বলেছেন, “ভাইরাসবাহী মশাদের বিস্তার আমাদের গবেষণার অপেক্ষা করবে না। তাই এই মডেলকে বাস্তব সময়ে কাজে লাগিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রস্তুত হওয়া জরুরি।”
নাগাসাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হাইওলিম কাং আরও সতর্ক করে জানিয়েছেন, “চিকুনগুনিয়া শুধু গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বা উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে এতদিন ধারণা ছিল। কিন্তু আমাদের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ঝুঁকি আরও বিস্তৃত। এর কোনও নির্দিষ্ট ওষুধ নেই, চিকিৎসা বলতে কেবল উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ। তাই প্রতিরোধই একমাত্র পথ।”
চিকুনগুনিয়ার এখনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র-সহ কয়েকটি দেশে দু’টি প্রতিষেধক ভ্যাকসিন ইতিমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু, প্রবীণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর জন্য টিকাকরণই হতে পারে ভবিষ্যতের একমাত্র ভরসা।