সিকিমের অবস্থাও তথৈবচ। বেশিরভাগ জায়গা জলে ডুবে রয়েছে এবং পাহাড়ি এলাকায় ধসের কারণে সড়কপথ ক্ষতিগ্রস্ত। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 June 2025 12:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বন্যার জেরে (Flash Flood) ভোল পাল্টে গেছে উত্তর-পূর্ব ভারতের (North East India) বেশিরভাগ রাজ্যের। ক'দিন আগে পর্যন্ত ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর এসেছিল। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৪। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অসম, সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী, মণিপুরের রাজ্যপালের সঙ্গে ফোনে পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। ত্রাণ শিবির এবং খাদ্যের জোগান নিয়ে আলোচনা হয়েছে তাঁদের মধ্যে।
উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসম, মণিপুর। অসমের ১৯টি জেলার ৭৬৪টি গ্রামে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। রাজ্যের কাছাড় জেলাতেই শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ১ লক্ষ ছাড়িয়েছে। সে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ১৫০-র বেশি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে তাতে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। গত ২৯ মে থেকে এখনও পর্যন্ত শুধু অসমে ১৭ জন, অরুণাচল প্রদেশে ১২ জন, মেঘালয়ে ৬ জন, মিজোরামে ৫ জন, ত্রিপুরায় ২ জন এবং মণিপুর-নাগাল্যান্ডে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এই রাজ্যগুলির মতো সিকিমের অবস্থাও তথৈবচ। বেশিরভাগ জায়গা জলে ডুবে রয়েছে এবং পাহাড়ি এলাকায় ধসের কারণে সড়কপথ ক্ষতিগ্রস্ত। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী থেকে শুরু করে সেনাবাহিনী নেমেছে উদ্ধার কাজে। উত্তর-পূর্বের একাধিক রাজ্য এবং সিকিম মিলিয়ে অন্ততপক্ষে দু থেকে আড়াই হাজারের বেশি পর্যটক আটকে রয়েছেন। তিস্তার পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্রের জলস্তর হু-হু করে বাড়ছে। আশঙ্কা, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইবে।
অসম প্রশাসন বলছে, রাজ্যের ২১টি জেলায় বন্যা কবলিত মানুষের সংখ্যা ৬ লক্ষের বেশি। দেড় হাজার গ্রামের অন্তত ১৫ হাজার একর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে অরুণাচলের ২৬ জেলার মধ্যে ২৩টিই ক্ষতিগ্রস্ত। ১৫৬টি গ্রামের অন্তত হাজার মানুষের জীবনে প্রভাব পড়েছে। প্রায় একই অবস্থা উত্তর-পূর্বের বাকি রাজ্যগুলির। অধিকাংশ জায়গা জলের তলায় চলে গেছে। কয়েক হাজার মানুষ ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে ঘরছাড়া হয়ে।