দীপাবলির পরদিনই আগুনে জ্বলল মধ্যপ্রদেশের ‘হিংগোট যুদ্ধ’। শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যের সেই আগুনে দগ্ধ অন্তত ৩৫ জন। বিপজ্জনক এই প্রথা ঘিরে ফের উঠছে নিষেধাজ্ঞার দাবি।

‘হিংগোট যুদ্ধ’
শেষ আপডেট: 22 October 2025 09:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাহস এবং ঐতিহ্য উদযাপনের এক প্রাচীন প্রথা মিলিয়ে গেল আগুনে। দীপাবলির পরের দিন মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে অনুষ্ঠিত বার্ষিক 'হিংগোট যুদ্ধ' (Hingot Yuddh) চলাকালীন অন্তত ৩৫ জন দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ গৌতমপুরা এবং রুঞ্জি গ্রামের 'তুররা' ও 'কালঙ্গি' দলের মধ্যে এই তীব্র যুদ্ধ দেখতে জড়ো হন। শতাব্দী প্রাচীন বলে কথিত এই প্রথাটি ঢাকের শব্দে শুরু হয়। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে যোদ্ধারা নিজেদের ঢাল হাতে নিয়ে একে অপরের দিকে আগুন ভর্তি 'হিংগোট' (Hingot) ছুঁড়ে মারেন।
দেবনারায়ণ মন্দিরের কাছে প্রায় ২০০ ফুট দূরত্বে দুই দল অবস্থান নিয়ে এই যুদ্ধ শুরু করে। বাঁশের লাঠিতে আগুন জ্বালিয়ে, তাতে গোলাকার আগুনের খোলসগুলো যুক্ত করে প্রতিপক্ষের দিকে ছোড়ে যোদ্ধারা। এই 'হিংগোট' হলো এক ধরনের বুনো ফলের শুকনো খোল, যার ভেতর বারুদ ভরে হলুদ মাটি দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এই বিপজ্জনক প্রথা পরিচালনার জন্য প্রশাসন ফায়ার ব্রিগেড, অ্যাম্বুলেন্স এবং পুলিশ মোতায়েন করেছিল। কিন্তু যুদ্ধের তীব্রতা ও উন্মাদনার কারণে একাধিক মানুষ আহত হন। নিরাপত্তা জনিত কারণে এই বছর যুদ্ধটি নির্ধারিত সময়ের আধ ঘণ্টা আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আহত ৩৫ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে ইন্দোরের একটি হাসপাতালে পাঠান হয়েছে।
প্রতি বছরই বহু অংশগ্রহণকারী এবং দর্শক এই প্রথায় আহত হন। এমনকি ২০১৭ সালে এক যুবক প্রাণ হারানোর পর এই প্রথা নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে এটিকে "অমানবিক ও প্রাণঘাতী" বলে অভিহিত করে একটি আবেদন এখনও বিচারাধীন। তা সত্ত্বেও স্থানীয় গ্রামবাসীরা এটিকে শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য ও সাহসের প্রতীক হিসেবে দাবি করে প্রথাটি জারি রেখেছেন।