এরা প্রত্যেকে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবা এবং হিজবুল মুজাহিদ্দিন সদস্য বলে অভিযোগ উঠেছে।
(.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 3 June 2025 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) পহেলগামে জঙ্গি হামলার (Pahalgam Attack) পরই আশঙ্কা করা হয়েছিল, স্থানীয় অনেকেই সন্ত্রাসবাদীদের সাহায্য করেছিলেন। নাহলে, এমন বড় হামলা কোনও ভাবেই হতে পারে না। সেই আশঙ্কাই কি এবার সত্যি হল? জম্মু-কাশ্মীরের লেফট্যানেন্ট গভর্নর মনোজ সিনহা (Lieutenant Governor Manoj Sinha) সম্প্রতি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাতেই অনেক প্রশ্ন উঠে গেছে। তিনজন সরকারি কর্মীকে (3 Government Employess) বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে জঙ্গিযোগের অভিযোগ রয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া তিন সরকারি কর্মীরা হলেন পুলিশ কনস্টেবল মালিক ইসফাক নাসির, এক শিক্ষক আজাস আহমেদ এবং এক সরকারি মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র অ্যাসিস্টেন্ট ওয়াসিম আহমেদ খান। এরা প্রত্যেকে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবা এবং হিজবুল মুজাহিদ্দিন সদস্য বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই প্রেক্ষিতেই তাদের বরখাস্ত করেছেন মনোজ সিনহা।
তিনজনের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, ওই দুই জঙ্গিগোষ্ঠীর হয়ে গোপনে কাজ করছিলেন তারা। ভারতীয় সেনার অবস্থান সহ জম্মু-কাশ্মীর সংক্রান্ত একাধিক তথ্যও পাচার করেছেন সন্ত্রাসবাদীদের। তবে পহেলগাম হামলার সঙ্গে এখনও পর্যন্ত তাদের সরাসরি সংযোগ পাওয়া যায়নি। কিন্তু যোগ থাকতে পারে এমন সন্দেহই প্রবল। বর্তমানে এরা প্রত্যেকেই রয়েছেন জেলে। তাদের জেরা করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য উঠে আসতে পারে বলে অনুমান করছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগামে ২৫ জন পর্যটক এবং এক স্থানীয় যুবককে গুলি করে খুন করে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। পুরুষদের বেছে বেছে তাঁদের ধর্ম জিজ্ঞেস করে মারে সন্ত্রাসীরা। সেই হামলার পিছনে প্রত্যক্ষভাবে পাকিস্তান যুক্ত বলেই দাবি করে ভারত। সঙ্গে সঙ্গেই পড়শি দেশের বিরুদ্ধে ভিসা বাতিল থেকে শুরু করে সিন্ধু নদের জল বন্ধের মতো একগুচ্ছ পদক্ষেপও নেওয়া হয়। কিন্তু পাকিস্তান সব অভিযোগ অস্বীকার করে। যদিও চুপ না থেকে পরবর্তী সময়ে 'অপারেশন সিঁদুর' অভিযান করে ভারতীয় সেনা।
জম্মু-কাশ্মীরেও বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে একাধিক অভিযান করেছে সেনাবাহিনী। নিকেশ করা হয়েছে একাধিক জইশ এবং লস্কর জঙ্গিকে। সেনার সেই অভিযান এখনও জারি রয়েছে। উপত্যকার বিভিন্ন জঙ্গল এবং গ্রামে প্রায় প্রতিদিনই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অনুমান, এখনও অনেক জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে ডোডা, পুলওয়ামা, সোপিয়ানের মতো এলাকায়। এরই মধ্যে জঙ্গিযোগে তিন সরকারি কর্মীর বরখাস্ত হওয়ার খবর স্বাভাবিকভাবেই তোলপাড় ফেলেছে।