গত চার দিনে বদওয়াহ এলাকার নর্মদা নদীর উপর থাকা একটি অ্যাকুয়াডাক্ট ব্রিজের কাছে একের পর এক টিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

ছবি: সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 2 January 2026 14:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) খারগোন জেলায় নর্মদা নদীর তীরে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হল অন্তত ২০০টি টিয়াপাখির (Parrots Die)। প্রশাসন সূত্রে খবর, খাদ্যে বিষক্রিয়ার (Food Poisoning) জেরেই এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত চার দিনে বদওয়াহ এলাকার নর্মদা নদীর উপর থাকা একটি অ্যাকুয়াডাক্ট ব্রিজের কাছে একের পর এক টিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
প্রথমে পাখিদের মৃত্যু ঘিরে বার্ড ফ্লু আতঙ্ক ছড়ালেও ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন টনি শর্মা জানিয়েছেন, কিছু টিয়া উদ্ধার করার সময় জীবিত থাকলেও খাদ্যের বিষক্রিয়া এতটাই তীব্র ছিল যে অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের মৃত্যু হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে অ্যাকুয়াডাক্ট ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পাখিদের খাওয়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেখানে বন দফতরের কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে নজরদারির জন্য। মৃত পাখিদের ভিসেরা নমুনা জব্বলপুরে পাঠানো হয়েছে বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য।
ভেটেরিনারি দফতরের আধিকারিকদের প্রাথমিক অনুমান, অনুপযুক্ত খাদ্য ও খাদ্যে বিষক্রিয়াই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। ময়নাতদন্তকারী পশু চিকিৎসক মণীষা চৌহান জানিয়েছেন, টিয়াদের দেহে খাদ্যে বিষক্রিয়ার স্পষ্ট লক্ষণ মিলেছে, তবে বার্ড ফ্লুর কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
ভেটেরিনারি এক্সটেনশন অফিসার সুরেশ বাঘেল জানান, মৃত পাখিদের পাকস্থলীতে চাল ও ছোট নুড়িপাথর পাওয়া গিয়েছে। তাঁর মতে, মানুষ অজান্তেই অনেক সময় এমন খাবার পাখিদের খাওয়ান, যা তাদের হজমশক্তির পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। পাশাপাশি, কীটনাশক ছড়ানো জমিতে খাদ্য সংগ্রহ বা নর্মদার দূষিত জল পান করাও মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত চার দিন ধরে পশুচিকিৎসা, বন দফতর ও ওয়াইল্ডলাইফ শাখার দল এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে। আধিকারিকদের মতে, ব্রিজে আসা দর্শনার্থীদের দেওয়া রান্না করা বা অবশিষ্ট খাবারই টিয়াদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে, মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের ভগীরথপুরায় ‘বিষাক্ত’ জলে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। গবেষণাগারের রিপোর্টে তেমনই দাবি করা হয়েছে। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক তথা চিকিৎসক মাধব প্রসাদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শহরের একটি মেডিক্যাল কলেজের গবেষণাগারে পানীয় জলের নমুনা পাঠানো হয়েছিল।
জলের পাইপলাইন ফেটে যাওয়ায় সেখান থেকেই পানীয় জলে দূষণ ছড়িয়েছে। ইন্দোরের মেয়র পুষ্যমিত্র ভার্গব সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, এখনও অবধি ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।