স্বাস্থ্যকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, কোঝিকোড়, মালাপ্পুরম এবং ওয়েনাড় জেলার আরও আটজন রোগী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ছবি - সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 1 September 2025 16:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অ্যামেবিক মেনিনজোএনসেফালাইটিস -এ (Amoebic meningoencephalitis), একটি বিরল এবং প্রায়শই মারাত্মক মস্তিষ্ক সংক্রমণ (brain infection), ক্রমশ বাড়ছে কেরলে। কোঝিকোড় মেডিক্যাল কলেজ (Kozhikode Medical College) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভর্তি দু’জনের মধ্যে ছিল একটি মাত্র তিন মাসের শিশুও। সোমবার সংক্রমণের জেরে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীরা।
এই মৃত্যুতে অগস্ট মাসে রাজ্যে অ্যামেবিক ব্রেন ফিভারে (Amoebic brain fever) মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিন।
মৃত শিশুটি ওমাসেরির আবুবাকার সিদ্দিকের ছেলে। গত এক মাস ধরে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। রবিবার তার অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউ-তে তার মৃত্যু হয়, জানিয়েছেন হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা।
অন্য মৃত ব্যক্তির নাম মালাপ্পুরম জেলার কাপ্পিলের ৫২ বছর বয়সী রামলা। তিনি ৮ জুলাই থেকে সংক্রমণে ভুগছিলেন। প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হলেও পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কোঝিকোড় মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়।
স্বাস্থ্যকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, কোঝিকোড়, মালাপ্পুরম এবং ওয়েনাড় জেলার আরও আটজন রোগী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আগেই, ১৪ অগস্ট থানমারাসেরির একটি নয় বছরের মেয়ে একই সংক্রমণে মারা যায়।
অ্যামেবিক মেনিনজোএনসেফালাইটিস প্রধানত দূষিত জলে সাঁতার বা স্নানের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। চলতি বছর কেরলে মোট ৪২টি সংক্রমণের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে।
এই ঘটনার পুনরাবৃত্তির পর, স্বাস্থ্য দফতর কোঝিকোড়, ওয়েনাড় ও মালাপ্পুরম জেলায় কুয়ো ও জল সংরক্ষণ ট্যাঙ্কে ক্লোরিনেশনের মাধ্যমে স্যানিটেশন শুরু করেছে। নতুন সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রচারও চালানো হচ্ছে।
নাইগ্লেরিয়া ফোলেরি এককোষী জীব, যা সাধারণভাবে 'ব্রেন-ইটিং অ্যামিবা' নামে পরিচিত। কারণ, এটি একবার মানবদেহে প্রবেশ করলে মস্তিষ্কের টিস্যু নষ্ট করতে শুরু করে। সাধারণত নাক দিয়ে দূষিত জল শরীরে ঢুকলে সংক্রমণ হয়। তারপর ওই জীবাণু সোজা মস্তিষ্কে পৌঁছে গিয়ে ক্ষতি করে।
লক্ষণ সাধারণত এক থেকে বারো দিনের মধ্যে দেখা দেয়। শুরুতে মাথাব্যথা, জ্বর, বমি বা বমিভাবের মতো উপসর্গ হয়। ধীরে ধীরে গলা শক্ত হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি, হ্যালুসিনেশন এমনকি কোমাতেও পৌঁছে যেতে পারে। বিশেষ করে গরমকালে, যখন জল উষ্ণ এবং স্তর নীচে নেমে যায়, তখন নদী বা হ্রদের জলে সাঁতার কাটতে গিয়ে এই সংক্রমণ হতে পারে।
এই সংক্রমণ এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে ছড়ায় না। এমনকী দূষিত জল খেয়ে ফেললেও সংক্রমণ হয় না। কেবল নাক দিয়ে জল ঢুকলেই ঝুঁকি থাকে।
চিকিৎসার জন্য সাধারণত অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের পাশাপাশি রিফ্যাম্পিন এবং অ্যাজিথ্রোমাইসিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়ে থাকে। এই রোগের এখনও কোনও নিরাময়যোগ্য চিকিৎসা নেই।
উল্লেখ্য, ফ্রি-লিভিং অ্যামিবার কারণে হওয়া অ্যামিবিক এনসেফালাইটিস প্রায়শই প্রাণঘাতী। এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খুব কম রোগীরই প্রাণ বেঁচেছে।