বিস্ফোরণের পর পুলিশ যে গাড়িটি (Car) উদ্ধার করে, তার নম্বরের নথি অনুযায়ী সেটি হরিয়ানার এবং তার অনেকবার হাত বদল হয়েছিল। শেষে তা এসেছিল উমর মহম্মদের কাছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 11 November 2025 11:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির (New Delhi) লালকেল্লার (Red Fort) কাছে সোমবার সন্ধের বিস্ফোরণে ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মৃতদের তালিকায় রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) দুই বন্ধুও। লালকেল্লার কাছেই সোমবার সন্ধেয় দেখা করার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু সেই সাক্ষাৎ শেষ সাক্ষাৎ রয়েই থেকে গেল।
হাসানপুরের সার বিক্রেতা ৫২ বছরের লোকেশ আগরওয়াল এসেছিলেন অসুস্থ আত্মীয়ের খোঁজ নিতে। সেখানেই ফোনে ডেকে নেন ছোটবেলার বন্ধু (Childhood Friend), মঙ্গরোলার বাসিন্দা ৩৪ বছরের অশোক গুজ্জরকে যিনি দিল্লি পরিবহণ সংস্থার (DTC) এক কন্ডাক্টর। দু’জনের দেখা হওয়ার কথা ছিল লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে। তবে সাক্ষাতের কিছুক্ষণের মধ্যেই এক বিকট বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয় সেই এলাকা এবং সঙ্গে সঙ্গেই প্রাণ হারান দু’জনেই।
পরিবারের সদস্যরা টেলিভিশনের পর্দাতেই প্রথম জানতে পারেন ভয়াবহ ঘটনাটির কথা। এরপরই দিল্লি পুলিশের ফোনে নিশ্চিত হয় আশঙ্কা। সোমবার গভীর রাতে অমরোহা প্রশাসনের আধিকারিকেরা পৌঁছে যান অশোকের বাড়িতে। শোকস্তব্ধ পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে আশ্বাস দেন সরকারি সহায়তার। অন্যদিকে, লোকেশ আগরওয়ালের দেহ পৌঁছে দেওয়া হয় তাঁর অমরোহার বাড়িতে। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নওমানও আর ফিরলেন না বাড়ি
এই বিস্ফোরণের আরেক শিকার, ২২ বছরের নওমান যিনি উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) শামলি জেলার ঝিঝনহা গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় প্রসাধনসামগ্রী ব্যবসায়ী নওমান পণ্য কিনতে এসেছিলেন রাজধানীতে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আত্মীয়, ২১ বছরের আমান। বিস্ফোরণের মুহূর্তে দু’জনেই ছিলেন ঘটনাস্থলে। নওমান প্রাণ হারান, আহত হন আমান।
মঙ্গলবার সকালে নওমানের পরিবার ছুটে আসে লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ (LNJP) হাসপাতালে। শোক, কান্না আর অসহায়তার ছবি ধরা পড়ে হাসপাতালের প্রাঙ্গণে - যেখানে নিহতদের পরিবার নিজেদের প্রিয়জনের খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছেন। কারও চোখে জল, কারও হাতে প্রিয়জনের ছবি।
বিস্ফোরণের পর পুলিশ যে গাড়িটি (Car) উদ্ধার করে, তার নম্বরের নথি অনুযায়ী সেটি হরিয়ানার এবং তার অনেকবার হাত বদল হয়েছিল। শেষে তা এসেছিল উমর মহম্মদের কাছে। উমর, যিনি আদিলের ঘনিষ্ঠ বলে পুলিশ জানিয়েছে, শ্রীনগরের ‘জইশ পোস্টার’ (Jaish Poster) মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হন। এখন মনে করা হচ্ছে, বিস্ফোরণের সময় গাড়িটির চালক ছিলেন তিনিই। বিস্ফোরণের আগমুহূর্তে তোলা সিসিটিভি ফুটেজে (CCTV Footage) দেখা গেছে তাঁর মুখের একাংশ। পুলিশের পরিকল্পনা, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে চালকের পরিচয় নিশ্চিত করা।
এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি, তবে পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করেছে ‘আনলফুল অ্যাক্টিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট’ (UAPA)–এর আওতায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) জানিয়েছেন, “সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এটি কি আত্মঘাতী হামলা (Suicide Attack) ছিল?