দুই শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ফুঁসে ওঠে সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মৈরাং থানা
শেষ আপডেট: 7 April 2026 18:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার ভোরে আচমকা এক ভয়াবহ রকেট হানায় কেঁপে উঠল মণিপুর (Manipur)। বিষ্ণুপুর জেলায় এই জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয়েছে দুই শিশুর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে ইম্ফল (Imphal)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইম্ফল পশ্চিম, ইম্ফল পূর্ব-সহ পাঁচ জেলায় আগামী তিন দিনের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১টা নাগাদ বিষ্ণুপুর জেলার মৈরাং ট্রংলাওবি এলাকায় বিএসএফ জওয়ান ওনাম মঙ্গলসানার বাড়িতে রকেট হামলার ঘটনা ঘটে। সেই সময় ঘরেই ঘুমাচ্ছিল ওনামের পরিবার। বিস্ফোরণে আঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওনামের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে এবং মাত্র পাঁচ মাস বয়সী মেয়ের। গুরুতর আহত হয়েছেন ওনামের স্ত্রী বিনিতা। গুয়াহাটির এক হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত বিনিতা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
দুই শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ফুঁসে ওঠে সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইম্ফল এবং সংলগ্ন এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করা হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা বিষ্ণুপুর-চুড়াচাঁদপুর সীমানায় সিআরপিএফ ক্যাম্প লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালায় এবং তিনটি ট্রাক ও দুটি তেলের ট্যাঙ্কারে আগুন ধরিয়ে দেয়। মৈরাং থানার গেটের সামনেও আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস এবং রাবার বুলেট ছোড়ে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এরপরেই মণিপুর সরকার তড়িঘড়ি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। ইম্ফল পশ্চিম, ইম্ফল পূর্ব, থৌবাল, কাকচিং এবং বিষ্ণুপুর জেলায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা। রাজ্যে শান্তি ফেরাতে এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং। তিনি একে 'মানবতার ওপর আঘাত' বলেছেন এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এনআইএ। এই এলাকা থেকেই আরও একটি রকেট (RPG) উদ্ধার করা হয়।পুলিশ এটি নিষ্ক্রিয় করেছে। স্থানীয় বিধায়ক এনপিপি-র শান্তি সিং এই ঘটনার দায় চাপিয়েছেন কুকি মাদক সন্ত্রাসবাদীদের উপর।
২০২৩ সালের মে মাস থেকে চলা গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরে গত দু’বছর ধরে অশান্ত মণিপুর। সাময়িক শান্তি ফিরলেও মঙ্গলবার ভোরের এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে দিল, উত্তর-পূর্বের এই রাজ্য এখনও বারুদের স্তূপের উপরেই রয়েছে।