পরিবারের তরফে জানানো হয়, মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই চুপচাপ থাকত শিবশরণ। কারও সঙ্গে কথা বলত না। বাড়ি থেকে বেরোতে চাইত না। মন ভাল করার জন্যই ওকে মামাবাড়িতে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু তাও লাভ হয়নি। এমনও দিন গেছে না খেয়েই কাটিয়ে দিয়েছে শিবশরণ।

আত্মঘাতী ১৬ বছরের কিশোর
শেষ আপডেট: 25 July 2025 15:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মায়ের মৃত্যুর শোক কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি। শেষমেশ সেই কষ্টই কার্যত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিল মহারাষ্ট্রের সোলাপুরের ১৬ বছরের এক কিশোরকে (16-Year old boy dies by suicide)। শুক্রবার মামাবাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় ওই কিশোরের। ঘর থেকে সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। যেখানে লেখা, 'মা আমার স্বপ্নে এসেছিল...'
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কিশোরের নাম শিবশরণ ভুতালি টালকোটি। তিনমাস আগে জন্ডিসে (Jaundice) আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তার মায়ের। তারপর থেকে মামাবাড়িতেই থাকছিল সে। কোনওভাবেই মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারছিলেন না।
পরিবারের তরফে জানানো হয়, মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই চুপচাপ থাকত শিবশরণ। কারও সঙ্গে কথা বলত না। বাড়ি থেকে বেরোতে চাইত না। মন ভাল করার জন্যই ওকে মামাবাড়িতে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু তাও লাভ হয়নি। এমনও দিন গেছে না খেয়েই কাটিয়ে দিয়েছে শিবশরণ। তাকে অনেক বুঝিয়েও খাওয়ানো যায়নি। নিজেকে ঘরবন্দি করে মায়ের জন্য কাঁদত সে।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ঘরে ঘুমোতে যায় কিশোর (16-Year old boy dies by suicide)। এদিন সকালে সে ঘরের বাইরে না বেরোলে বাড়ির সদস্যরা তাকে ডাকতে যায়। সাড়া না পেয়ে দরজা ভাঙতে বাধ্য হন তাঁরা। ভিতরে ঢুকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান শিবশরণকে। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় থানায়।
ঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে। সেই চিঠিতে কিশোর লিখে গেছে, 'আমি শিবশরণ। আমি আত্মহত্যা করছি, কারণ আমি বাঁচতে চাই না। যখন মা চলে গেলেন, তখনই আমায় চলে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু মামা আর ঠাকুমার মুখের দিকে তাকিয়ে বেঁচে ছিলাম। কিন্তু গতকাল রাতে মা আমার স্বপ্নে এসেছিল। আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল আমি এত কষ্টে আছি কেন, বলছিল তাঁর কাছে যেতে। সেই কথা শুনেই মায়ের কাছে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
সে আরও লিখেছে, "আমি মামা আর ঠাকুমার কাছে খুব কৃতজ্ঞ। ওঁরা আমাকে খুব ভালোবাসত, অনেক আদর করত। মামা, আমি চলে যাচ্ছি। আমার বোনকে সবসময় খুশি রেখো। আর একটা কথা বলতে চাই, ঠাকুমাকে বাবার কাছে পাঠিও না। তোমরা সবাই ভালো থেকো। তোমরা আমার বাবা-মায়ের থেকেও বেশি কিছু করেছ আমার জন্য। আমার মৃত্যুর জন্য শুধু আমিই দায়ী।' চিঠির শেষে সে লেখে, 'ইওরস পিন্ট্যা'। এটি ছিল তার ডাক নাম।
শিবশরণ ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চেয়েছিল। নিট (NEET) পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল সে। ক্লাস ১০-এ তার নম্বর ছিল ৯২ শতাংশ। এই ঘটনার পর সোলাপুর সিটি থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।