
টিকাকরণ
শেষ আপডেট: 15 July 2024 12:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা মহামারীর সময়ে টিকাকরণের সব ধরনের কর্মসূচিই বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল গোটা বিশ্ব জুড়ে। মহামারী দূর হতে বেশিরভাগ রাষ্ট্রই আগের অবস্থায় ফিরে গিয়েছে। অর্থাৎ টিকাকরণ কর্মসূচি আগের মতোই চলছে। হাতে গোনা যে ক’টি দেশ এখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি তাদের অন্যতম হল ভারত। তালিকায় নাম আছে পাকিস্তানেরও।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু এবং রাষ্ট্রসংঘের শিশু কল্যাণ বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ সোমবার জেনেভায় জানিয়েছে, ভারতে গত বছর ১৬ লাখ শিশু হাম, ডিপথেরিয়া, পারটুসিস বা হুপিং কাশি এবং টিটেনাস বা ধনষ্টংকারের টিকা পায়নি। শিশুকে জন্মের কয়েকদিনের মধ্যেই এই টিকাগুলি দেওয়া বাধ্যতামূলক। সদ্যজাতের মৃত্যু ঠেকাতে এই টিকাগুলি অত্যন্ত জরুরি।
দুই আন্তর্জাতিক সংস্থা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছে, ভারতে গত বছর জরুরি টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২২-এর তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি। সংস্থা দুটি মনে করে, বাস্তবে উল্টো হওয়া উচিত ছিল। পড়শি দেশ পাকিস্তানও শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিকে পিছিয়ে পড়েছে। পিছিয়ে থাকা দেশগুলির মধ্যে ভারত, পাকিস্তানের সঙ্গে এক তালিকায় আছে নাইজেরিয়া, কঙ্গো এবং ইথিওপিয়া। এই সব দেশ মিলিয়ে টিকা বঞ্চিত শিশুর সংখ্যা ২৭ লাখ। তারমধ্যে ভারতে বঞ্চিত শিশুর সংখ্যা ১৬ লাখ।
২০২০ সালে করোনার সময় ২৫ লাখ বাচ্চা ডিপিটি এবং সাড়ে তিন লাখ শিশু হামের টিকা থেকে বঞ্চিত হয়। জিরো ডোজ চিল্ড্রেন বা একটিও টিকা পায়নি, করোনার সময় এমন শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫ লাখ হয়ে গিয়েছিল। তাতে লাগাম দেওয়া গিয়েছিল ২০২১ ও ২০২২। কিন্তু ২০২৩-এ টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা কমে গিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট রিপোর্টে রাজ্যগুলির চিত্র আলাদা করে তুলে ধরা হয়নি। কী কারণে এই ব্যর্থতা তারও উল্লেখ নেই রিপোর্টে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে এই কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। তবে ভারতে টিকাকরণের কাজে যুক্ত একটি অসরকারি সংস্থার কর্তার মতে, টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা ভাতা-সহ নানা দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বাস্খ্যকর্মীর সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় কম। ফলে নজরদারির অভাবের প্রভাব পড়ছে টিকাদান কর্মসূতিতে। ভারত সরকার এখনও পর্যন্ত এই রিপোর্ট সম্পর্কে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।