বুধবার ১০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতার অনুশীলন চলাকালীন হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হল ১৫ বছরের নাবালকের (UP Boy dies by suicide)।
_0.jpg.webp)
ছবি- এআই
শেষ আপডেট: 14 August 2025 16:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) বাহরাইচ জেলার নানপারা এলাকার এক সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ইন্টার কলেজে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তার আগে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বুধবার ১০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতার অনুশীলন চলাকালীন হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হল ১৫ বছরের নাবালকের (UP Boy dies by heart attack)।
জানা গেছে, নানপারা সা'আদত ইন্টার কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র হিমাংশু ভগ্গাপুরওয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিল। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির অংশ হিসাবে সহপাঠীদের সঙ্গে ১০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিয়েছিল সে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হিমাংশু তৃতীয় স্থান অর্জন করলেও ফিনিশ লাইনে পৌঁছনোর পরেই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি অ্যাম্বুল্যান্স ডাকা হয় এবং তাঁকে স্থানীয় কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
‘প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে হার্ট অ্যাটাকেই (Heart Attack) হিমাংশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই প্রকৃত কারণ বলা সম্ভব হবে।
তবে মৃতের দাদা দাবি করেছেন, ভাইয়ের কোনও শারীরিক অসুখ ছিল না। তাঁর অভিযোগ, তীব্র রোদে দৌড় করানো হয়েছিল এবং সময়মতো প্রাথমিক চিকিৎসা বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘যদি সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া হত, তাহলে হয়তো বেঁচে যেত।’’ যদিও পরিবারের তরফ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলেই খবর।
কলেজের প্রিন্সিপাল অরবিন্দ মিশ্র জানিয়েছেন, '১৫ অগস্টের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য ওই দিন সব প্রতিযোগীকে অনুশীলনে ডাকা হয়েছিল। দৌড় চলাকালীন হিমাংশু অজ্ঞান হয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে ১০৮ নম্বরে ফোন করে অ্যাম্বুল্যান্স ডাকা হয়। তাকে বাঁচানোর সবরকম চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু রক্ষা করা যায়নি।'
সন্তানের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা। হিমাংশুর মা সুষমা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। তার বাবা রামকুমার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় বলেছিল, তাড়াতাড়ি ফিরে আসব। কে জানত, আমার ছেলে আর কোনওদিন ফিরবেই না!' তিনি জানান, হিমাংশু মেধাবী ছাত্র ছিল, খেলাধুলায়ও ছিল পারদর্শী আর তার স্বপ্ন ছিল বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। কিন্তু সেসবই অসম্পূর্ণ থেকে গেল।