NCRB-র রিপোর্ট অনুসারে, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতে ওষুধের ওভারডোজে মৃত্যু হয়েছে তিন হাজারেরও বেশি মানুষের (rising drug overdose cases India)। তবে এই সংখ্যাটি শুধুমাত্র সরকারি নথিভুক্ত ঘটনার ভিত্তিতে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 9 November 2025 11:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে ক্রমশ ভয়ঙ্কর চেহারা নিচ্ছে ওষুধের অতিরিক্ত সেবন বা ওভারডোজ। ন্যশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (NCRB) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১২ জন মানুষ ওষুধের অতিরিক্ত সেবনে মারা যাচ্ছেন (India drug overdose deaths)। ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, দিনে গড়ে প্রায় দু'জনের মৃত্যু ঘটেছে এই কারণে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের এই ব্যস্ত যুগে সুস্থ থাকার তাগিদে ওষুধের অতিরিক্ত সেবন এক নীরব মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে কিশোর-কিশোরীদের (teenage drug overdose trend) উপর।
NCRB-র রিপোর্ট অনুসারে, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতে ওষুধের ওভারডোজে মৃত্যু হয়েছে তিন হাজারেরও বেশি মানুষের (rising drug overdose cases India)। তবে এই সংখ্যাটি শুধুমাত্র সরকারি নথিভুক্ত ঘটনার ভিত্তিতে। বিভিন্ন বেসরকারি সূত্রে পাওয়া তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত নয়, ফলে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেই আশঙ্কা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হল, নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যে এই মৃত্যুর হার ভয়ানকভাবে বেড়ে গিয়েছে। বিশেষত পাঞ্জাব ও রাজস্থান এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই প্রবণতা মূলত প্রেসক্রিপশন ওষুধের অপব্যবহারের ফল। সাধারণত ব্যথা কমানোর ওষুধ (পেনকিলার), ঘুমের ওষুধ (স্লিপিং পিল), উদ্বেগ কমানোর ওষুধ (অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি) এবং উদ্দীপক জাতীয় ওষুধ (স্টিমুল্যান্ট) অতিরিক্ত পরিমাণে সেবনের কারণেই এই মৃত্যুগুলি ঘটছে।
তবে এনসিআরবি তাদের রিপোর্টে স্পষ্ট করে বলেনি, এই ওষুধগুলি নেশাজাতীয় (নারকোটিক) ছিল কি না, নাকি সাধারণ প্রেসক্রিপশন ওষুধের অতি-সেবনেই মৃত্যু ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় মানসিক চাপ, অনিদ্রা বা বিষণ্নতার কারণে মানুষ নিজের অজান্তেই নির্দিষ্ট ডোজের চেয়ে বেশি ওষুধ খেয়ে ফেলেন। আবার অনেক ক্ষেত্রেই তা ইচ্ছাকৃতও হতে পারে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালে দেশে ওভারডোজে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমেছিল। কারণ হিসাবে করোনার সময় মানুষের ওষুধের ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পরের বছরই তা হু-হু করে বেড়ে ৭৩৭-এ পৌঁছায়। শুরুতে তামিলনাড়ুতে এই মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল, পরে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলিতেও তা বাড়তে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসক্রিপশন ছাড়া সহজে ওষুধ পাওয়ার সুযোগ, মানসিক চাপ এবং সচেতনতার অভাব- এই তিনটি কারণই দেশে ওষুধের অতিরিক্ত সেবনের প্রবণতা বাড়াচ্ছে। তাঁরা বলছেন, এখনই কড়া নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা না বাড়ালে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।