গুজরাতের সৌরাষ্ট্রে ১২ ঘণ্টায় একের পর এক ভূকম্প। স্থানীয়দের দাবি কম্পন হয়েছে ২১ বার, রাত কাটাতে বাধ্য হন খোলা মাঠে।
.jpeg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 9 January 2026 17:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুর, ১২ বার কেঁপে উঠল গুজরাতের (Gujarat) সৌরাষ্ট্র (Saurashtra) অঞ্চল। জানা যাচ্ছে, রাজকোট (Rajkot) জেলার তিনটি তালুকে অন্তত ১২টি ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে (Richter Scale) ২.৬ থেকে ৩.৮। আতঙ্কে বহু মানুষ ঘর ছেড়ে খোলা মাঠে আশ্রয় নেন। রাতে ঘুমাতে পারেননি বেশিরভাগই।
তবে জেলা প্রশাসনের দাবি, বাস্তবে কম্পনের সংখ্যা আরও বেশি। রাজকোটের জেলাশাসক (Collector) ওমপ্রকাশ (Om Prakash) জানিয়েছেন, উপলেটা (Upleta), ধোরাজি (Dhoraji) এবং জেটপুর (Jetpur)-এই তিন তালুকে মোট ২১ বার কম্পন হয়েছে। কোনওটির মাত্রা ১.৪, আবার কোনওটির সর্বোচ্চ ৩.৮।
প্রথম ভূকম্পনটি অনুভূত হয় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪৩ মিনিটে, মাত্রা ছিল ৩.৩। এর উপকেন্দ্র (Epicentre) ছিল উপলেটা শহরের কাছাকাছি। এর পরেই একের পর এক ছোট কম্পন।
গান্ধীনগরের (Gandhinagar) ইন্সটিটিউট অফ সিসমোলজিক্যাল রিসার্চ (Institute of Seismological Research – ISR) জানিয়েছে, তারা ১২টি কম্পন রেকর্ড করেছে, যেগুলোর মাত্রা ২.৬ থেকে ৩.৮। সব ক’টির উপকেন্দ্রই ছিল উপলেটার পূর্ব-উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ২৭ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে। এই ধরনের ধারাবাহিক কম্পনকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘আর্থকোয়েক সোয়ার্ম’ (Earthquake Swarm)।
স্থানীয়দের বক্তব্য, প্রথম কম্পনের পরই আতঙ্কে তাঁরা ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে পড়েন। তারপর থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত একাধিকবার ঘরবাড়ি নড়ে উঠেছে। অনেকেই আর ঝুঁকি না নিয়ে রাতভর খোলা মাঠেই কাটান।
যদিও এখনও পর্যন্ত প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রশাসন ইতিমধ্যেই নড়বড়ে ও পুরনো বাড়িগুলি চিহ্নিত করেছে। ওই সব বাড়িতে থাকা মানুষজনকে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
জেলাশাসক জানিয়েছেন, পুরনো ভবনে থাকা অঙ্গনওয়াড়ি (Anganwadi) ও স্কুলগুলির জন্য একদিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই নির্দেশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে শিক্ষক, তালাটি (Talathi) এবং সরপঞ্চদের (Sarpanch) কাছেও।
কেন হচ্ছে এই ধরনের ভূমিকম্প?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ‘সোয়ার্ম’ ভূকম্পনের কারণ আলাদা। ভূগর্ভে আগে থেকেই থাকা ফাটলে (Fracture) জল ঢুকে চাপ তৈরি হয়। সেই চাপ থেকেই তৈরি হয় স্ট্রেন (Strain), যা একের পর এক ছোট ভূকম্পনের মাধ্যমে মুক্তি পায়। সাধারণত এই কম্পনগুলির মাত্রা কম হয় বলেই বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি দেখা যায় না।