প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ক্রীড়া-শিক্ষার সময়ে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলছিল মেয়েটি। খেলার মাঝেই সে ক্লান্ত বোধ করে মাটিতে বসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 12 September 2025 19:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খেলার মাঠেই ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। মাত্র ১১ বছরের মেয়ে খেলতে খেলতে হঠাৎই লুটিয়ে পড়ে মাটিতে। পরে জানা গেল, হৃদরোগে আক্রান্ত (Heart Attack) হয়ে মৃত্যু হয়েছে তার (School Girl Death)। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার, মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ইন্দোর (Indore) জেলার বেটমায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ক্রীড়া-শিক্ষার সময়ে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলছিল মেয়েটি। খেলার মাঝেই সে ক্লান্ত বোধ করে মাটিতে বসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে দ্রুত এগিয়ে আসেন স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক। তাঁরা প্রথমে ছাত্রীটিকে নিয়ে যান বেটমা হাসপাতালে। সেখান থেকে পাঠানো হয় ইন্দোরের চৈত্রম হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। কিন্তু চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, ছাত্রীটির মৃত্যু কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট-এ হয়েছে। বিকেল পাঁচটা নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
চৈত্রম হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবার ডেপুটি ডিরেক্টর অনিল কুমার লখওয়ানি জানান, ‘‘যখন ওকে আনা হয়, তখনই ও মারা গিয়েছিল। পরিবারের তরফে জানানো হয়, স্কুলেই হঠাৎ জ্ঞান হারায় ও। আমরা খবর দিয়েছি পুলিশকে।’’
এই মর্মান্তিক ঘটনা এই প্রথম নয়। চলতি বছরের জুলাই মাসে ৯ বছরের এক ছাত্রী রাজস্থানের স্কুলে টিফিন খেতে খেতে আচমকা মারা যায় হৃদরোগে। তার আগে, ফেব্রুয়ারি মাসেই তেলেঙ্গানার কামারেড্ডি জেলায় স্কুলে যাওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর। তার কয়েক মাস আগেই উত্তরপ্রদেশের আলিগড় জেলার ১৪ বছরের ছেলে মোহিত চৌধুরী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। সে তখন স্পোর্টস ডে-এর প্রস্তুতির জন্য দৌড়ের অনুশীলন করছিল। তার কয়েকদিন আগেই ৮ বছর বয়সি দীক্ষা খেলার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।
এই ঘটনাগুলি কি চাইল্ড কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বাড়ার দিকে ইঙ্গিত করছে? এমন হয়ে থাকলে, এর কারণ কী?
মেডিকা সুপারস্পেশ্যালিটি হাসপাতালের ডিরেক্টর অফ ক্যাথ ল্যাব, কার্ডিওলজিস্ট ডক্টর দিলীপ কুমার এ বিষয়ে জানালেন, এই ঘটনা গত কয়েক দিনের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে-- এমনটা মনে হওয়ার একটা বড় কারণ হল, ইদানীং মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে এই সব ঘটনা অনেক বেশি করে জানাজানি হচ্ছে, রিপোর্টিং হচ্ছে। মানুষের কাছে বেশি পৌঁছচ্ছে ঘটনাগুলি। আগেও এমনটা হতো না তা নয়, তবে সেসব হয়তো বেশি মানুষ জানতেই পারতেন না। এখন জানাজানি, আলোচনা এবং তার জেরে খানিকটা সচেতনতা-- তিনটিই বেড়েছে।
এর পাশাপাশি, এই মৃত্যুর কারণ হিসেবে আরও জরুরি একটি বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করলেন ডাক্তারবাবু। জানালেন, মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়া মারফত এই মৃত্যুগুলির কথা অনেক বেশি সংখ্যায় সামনে আসছে ঠিকই, কিন্তু সেই সব ক্ষেত্রে এটা জানা যাচ্ছে না, বা উল্লেখ করা হচ্ছে না, যে মৃত বাচ্চাটির পারিবারিক ইতিহাসে এই ধরনের মৃত্যুর ঘটনা আছে কিনা। এটাও জানা যাচ্ছে না, বাচ্চাটির মা বা বাবার কোনও ধরনের হৃদরোগ রয়েছে কিনা। বা এমনও হতে পারে, মা-বাবার হয়তো কোনও হৃদরোগের ইতিহাস নেই, কিন্তু কাকা বা মামা বা দাদু, ঠাকুমা-- কারও না কারও সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ইতিহাস আছে। সাধারণত বংশগত ভাবে সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঝুঁকি পরবর্তী প্রজন্মে পরিবাহিত হয়ে থাকে।
ডাক্তারবাবুর কথায়, 'হার্ট অ্যাটাক বাচ্চাদের মধ্যে বাড়ছে, এই কথা এখনও সরাসরি বলার সময় আসেনি। এই ঘটনা বেশি করে সামনে আসছে, এমনটা বলা যেতে পারে।'
সেই সঙ্গে পারিবারিক ইতিহাস অনুসন্ধান করা খুবই দরকার বলে মনে করিয়ে দিলেন ডাক্তারবাবু। তাঁর কথায়, 'আমার বিশ্বাস, গত কয়েকদিনে উঠে আসা এই প্রতিটি মৃত শিশুর পরিবারেই এই ধরনের মৃত্যুর ইতিহাস আছে। কোনও না কোনও প্রজন্মে এরকম অল্পবয়সে মারা গেছেন কেউ না কেউ। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে ওই শিশুর হার্টে জন্মগত ত্রুটিও থাকতে পারে, যা হয়তো এতদিন ধরা পড়েনি।'
ডাক্তারবাবুর পরামর্শ অনুযায়ী, হার্টের সমস্যা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বাড়া, আচমকা হার্ট অ্যাটাক হওয়া-- এটা আলাদা বিষয়। কিন্তু যারা খুব কম বয়সে, বিশেষ করে ১৮ বছরেরও কম বয়সে আচমকা হার্ট অ্যাটাক হয়ে মারা যাচ্ছে, তাদের ঘটনার থেকে একটা শিক্ষা নেওয়া খুব জরুরি। তা হল, পারিবারিক ভাবে কম বয়সে হার্ট অ্যাটাকের কোনও নজির জানা থাকলে, শিশু বয়স থেকেই হার্টের স্ক্রিনিং জরুরি। একমাত্র তা হলেই এই ধরনের মৃত্যু এড়ানো যেতে পারে, অন্য কোনও উপায় নেই।