জম্মু-কাশ্মীরে এবছর চলতি বর্ষায় ব্যাপক প্লাবন, মেঘভাঙা বৃষ্টি, হড়পা বানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্র ও শনিবারের ভোররাতে জম্মুর রিয়াসি জেলায় মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ধসে একই পরিবারে পাঁচটি বাচ্চা সহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

জম্মুতে তাওয়াই নদীর জলে প্রায় ভেসে গিয়েছে একটি মন্দির।
শেষ আপডেট: 30 August 2025 10:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মুর তাওয়াই নদীর ধারে একলা দাঁড়িয়ে ছিলেন রুকসানা। বয়স বছর ৪০। নদীর প্লাবন তাঁর একতলা বাড়িটি ভেঙে দিয়ে গিয়েছে। দরজা-জানালা ভেসে গিয়েছে তাওয়াইয়ের জলে। গুজরনগরের বাসিন্দা রুকসানা কান্নাভারী চোখে বললেন, আমার স্বামী প্রতিবন্ধী। বহু কষ্ট করে একখানা বাড়ি খাড়া করেছিলাম। ভয়াবহ বন্যায় সব ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে। কোনওরকমে আমার স্বামী ও দুটি সন্তানকে বাঁচাতে পেরেছি। এছাড়া, ওদের জামাকাপড়, বইপত্র, খাবার সব ভেসে গিয়েছে।
শুধু রুকসানা একা নয়, জম্মু-কাশ্মীরে এবছর চলতি বর্ষায় ব্যাপক প্লাবন, মেঘভাঙা বৃষ্টি, হড়পা বানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্র ও শনিবারের ভোররাতে জম্মুর রিয়াসি জেলায় মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ধসে একই পরিবারে পাঁচটি বাচ্চা সহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, রামবন জেলায় রাজগড় পার্বত্য এলাকায় মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে হড়পা বানে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন, এবং আরও চারজন জলে ভেসে গিয়েছেন। তাঁদের এখনও খোঁজ মেলেনি।
একই অবস্থা হয়ে রয়েছে উত্তরাখণ্ডেও। এদিন ভোর রাতে চামোলি, রুদ্রপ্রয়াগ, বাগেশ্বর ও তেহরি জেলায় অতিভারী বৃষ্টি, ধস ও মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১১ জন নিখোঁজ। প্রায় হাঁটুডোবা কাদামাটিতে উদ্ধারকাজ চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। বিভিন্ন জায়গায় সরু সড়ক ও হাইওয়ে কর্পূরের মতো উবে গিয়েছে। সে কারণে উদ্ধার ও ত্রাণে আরও বেগ পেতে হচ্ছে।
রিয়াসি জেলায় অতিবৃষ্টির জেরে ভূমিধসে একটি কাঁচাবাড়ি শনিবার ভোররাতের দিকে ধসে পড়ে। ঘুমন্ত অবস্থাতেই পাঁচটি শিশু তাতে চাপা পড়ে মারা যায়। ওই পরিবারেরই আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে কাদামাটি চাপা পড়ে ও জলের তোড়ে। শিশুগুলির বয়স, ৪,৬,৮,১০,১২ বছর। উদ্ধারকারীরা ধস সরিয়ে সকলের দেহ বের করে এনেছেন।
একই অবস্থা হয়েছে রামবন জেলাতেও। হড়পা বানে বহু বাড়ি একেবারে ধুয়েমুছে গিয়েছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা খরস্রোতা জলে বহু বাড়ির অধিকাংশটাই ভেঙে গিয়েছে। প্রশাসন এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকার্য চালালেও ব্যাপক বৃষ্টি চলতে থাকায় কাজের অসুবিধা ঘটছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং রামবনের ঘটনার কথা মেনে নিয়ে বলেন, সমস্ত রকমের সাহায্য করছে প্রশাসন।
জম্মু-কাশ্মীরে প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে নাগাড়ে বৃষ্টি চলছে। অধিকাংশ নদীর জল উপচে জনবসতি এলাকায় ঢুকে পড়েছে। পাহাড়ের ঢালে ফাটল দেখা দেওয়ায় বহু জায়গা বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে সংযুক্ত জীবনরেখা ২৭০ কিমির জাতীয় সড়ক শনিবার নিয়ে টানা পাঁচদিন বন্ধ হয়ে রয়েছে। বহু গাড়ি সড়কে দুধারে নিরাপদ জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।