Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
সরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র

এক শিক্ষকেই পাঁচ ক্লাস! এসআইআর-এর ধাক্কায় মধ্যপ্রদেশের স্কুলশিক্ষা সংকটে

 প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৫৫ জন পড়ুয়া থাকলেও পড়ানোর জন্য আছেন মোটে একজন শিক্ষক। হিন্দি, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সমাজ— সব বিষয়ই একাই সামলাতে হচ্ছে তাঁকে। 

এক শিক্ষকেই পাঁচ ক্লাস! এসআইআর-এর ধাক্কায় মধ্যপ্রদেশের স্কুলশিক্ষা সংকটে

ছবি সংগৃহীত

শুভম সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: 25 December 2025 17:20

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার (Madhya Pradesh) ভাঙন ধরা পড়ছে একেবারে ক্লাসরুমের ভেতরেই। আগর মালওয়া জেলার খেড়া মাধোপুর গ্রামের দু’ঘরের একটি প্রাথমিক স্কুল (Primary School) যেন তারই জীবন্ত উদাহরণ। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৫৫ জন পড়ুয়া থাকলেও পড়ানোর জন্য আছেন মোটে একজন শিক্ষক। হিন্দি, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সমাজ— সব বিষয়ই একাই সামলাতে হচ্ছে তাঁকে। কারণ, স্কুলে নিযুক্ত অন্য শিক্ষককে নভেম্বর থেকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত সরকারি কাজে পাঠানো হয়েছে।

ফল যা হওয়ার তাই। একদিকে বোর্ডের অর্ধেক জুড়ে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ, অন্য অর্ধেকে পঞ্চম শ্রেণির লেখা। পাশের ঘরে আবার একটি বোর্ড তিন ভাগ করে চলছে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পড়াশোনা। খণ্ড খণ্ড ভাবে পড়ানো হচ্ছে। মনোযোগ ভাঙছে বারবার। পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে স্পষ্টই।

একাই সব সামলাচ্ছেন শিক্ষক ভরতকুমার জাতব। তাঁর কথায়, “আমিই এখন একমাত্র শিক্ষক। বাকি শিক্ষক বিএলও আর এসআইআর-এর কাজে ব্যস্ত। আজ বাচ্চাদের ইংরেজির পাঠ মুখস্থ করে খাতায় লেখার কথা বলেছিলাম। তার পর আর সবাইকে একসঙ্গে দেখভাল করা সম্ভব হয় না। আগে আমি ওয়ান থেকে থ্রি পড়াতাম, আর অন্য শিক্ষক ফোর-ফাইভ দেখতেন। এখন সব একসঙ্গে চলছে।”

পড়ুয়ারাও সমস্যায়। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রাজ বলছে, “স্যার অন্য ক্লাসে গেলে আমরা এখানে কী লেখা হচ্ছে বুঝতে পারি না। তখন সবাই কথা বলতে শুরু করে। পড়াশোনা হয় না।”

খেড়া মাধোপুর একা নয়। গোটা মধ্যপ্রদেশেই একই ছবি। ভোটার তালিকা সংশোধন ও নানা প্রশাসনিক কাজে টেনে নেওয়া হয়েছে হাজার হাজার শিক্ষককে। ৪ নভেম্বর থেকে রাজ্যে বাড়ি বাড়ি ভোটার যাচাইয়ের কাজে যুক্ত প্রায় ৬৫ হাজার বুথ লেভেল অফিসার, যাঁদের বড় অংশই শিক্ষক। বহু এক-শিক্ষক স্কুল কার্যত শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়েছে। কোথাও আবার অতিথি শিক্ষকদেরও SIR কাজে পাঠানো হয়েছে।

চাপের কথা মানছেন শিক্ষক সংগঠনও। রাজ্য শিক্ষক সমিতির সভাপতি জগদীশ যাদবের অভিযোগ, “গত দু’মাস ধরে শিক্ষকরা অসহনীয় চাপের মধ্যে রয়েছেন। সরকারকে সহযোগিতা করতে আমরা রাজি, কিন্তু কোন কাজ শিক্ষকের আর কোনটা নয়, সেটা বুঝতে হবে। বহু জায়গায় পড়াশোনা কার্যত পিছিয়ে পড়েছে। চাপ এতটাই যে কয়েক জন শিক্ষক কাজের চাপে মৃত্যুবরণ করেছেন বলেও অভিযোগ এসেছে।”

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটওয়ারির দাবি, “শিক্ষা দফতর দুর্নীতির কবলে। বাজেট বাড়ছে, কিন্তু শিক্ষার মান নামছে। এসআইআর-এর নামে শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।”

পরিসংখ্যানও প্রশ্ন তুলছে। মধ্যপ্রদেশে স্কুল ৯২ হাজারের বেশি, শিক্ষক প্রায় ৩.৯৩ লক্ষ। তার মধ্যে প্রায় ২২ শতাংশ শিক্ষক নানা সরকারি কাজে ব্যস্ত। ২০২১-২২ সালে যেখানে শিক্ষা বাজেট ছিল ২৫,৯৫৩ কোটি টাকা, ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৩৬,৫৮২ কোটি। তবু সাক্ষরতার হার কমে ৭৬.৭ শতাংশ থেকে নেমে হয়েছে ৭৫.২ শতাংশ—জাতীয় গড়ের অনেক নীচে। ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতও খারাপ—৩৩ জন পড়ুয়ার জন্য একজন শিক্ষক, যেখানে জাতীয় গড় ২৮:১।

একজন শিক্ষক আছেন এমন স্কুলের সংখ্যা ১২ হাজারের বেশি। কংগ্রেসের দাবি, প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক পদ এখনও ফাঁকা।

সরকার অবশ্য আশ্বাস দিচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী উদয়প্রতাপ সিং জানিয়েছেন, ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে, ২৪ হাজারকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, জুলাই থেকে যোগ দিয়েছেন ৭৬ হাজার অতিথি শিক্ষক। তবে বাস্তবে বিএলও ও এসআইআর কাজে যুক্ত শিক্ষকদের ছাড়া হবে ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি— যেদিন টুয়েলভের বোর্ড পরীক্ষা শুরু। টেনের পরীক্ষা শুরু তার চার দিন পর।

উল্লেখযোগ্য ভাবে, ২০১৬ সালেই সরকার নির্দেশ দিয়েছিল, উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক, বিশেষ করে গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষককে যেন ভোট বা সরকারি কাজে না টানা হয়। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশ মানা হচ্ছে না। ফলত, সব কাজের ভার এসে পড়ছে স্কুলের উপরেই। আর তার খেসারত দিচ্ছে ছাত্ররা।


```