বিচারপতি বর্মার বাড়ি থেকে নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনা এফআইআর না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন উপরাষ্ট্রপতি ধনখড়। বললেন, 'বড় বড় হাঙর কারা?'

জগদীপ ধনকড় ও বিচারপতি বর্মা।
শেষ আপডেট: 20 May 2025 11:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘুষ কাণ্ডে অভিযুক্ত, বিচারপতি যশবন্ত বর্মার বাড়ি থেকে টাকার পাহাড় উদ্ধারের কেলেঙ্কারির বিষয়ে এফআইএর না হওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। সোমবার দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি বর্মার দিল্লির সরকারি বাসভবন থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধার হওয়ার প্রায় দু'মাস পরেও কোনও এফআইআর না হওয়ায় প্রশ্ন তুললেন তিনি— 'বড় বড় হাঙর কারা?'
একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, এই ঘটনাটি যে কেবল বিচারব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তোলে, তা নয়, এর তদন্তে বিলম্ব, ইলেকট্রনিক প্রমাণ উদ্ধার এবং বিচারপতিদের দায়মুক্তি সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়, সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।
উপরাষ্ট্রপতি ধনখড় বলেন, 'দেশের মানুষ ভাবছে, এই ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যাবে কিনা। এই ঘটনায় সাধারণ একজন নাগরিক হলে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা অনেক আগেই সক্রিয় হয়ে যেত। তাহলে এক্ষেত্রে কেন দেরি? কোথা থেকে এল এই অর্থ? কী উদ্দেশ্য ছিল? বিচারব্যবস্থাকে কি এই অর্থ দূষিত করেছে? বড় বড় হাঙর কারা, এখনই খুঁজে বার করা দরকার।'
তিনি আরও বলেন, 'দু'মাস কেটে গেছে, অথচ তদন্তের কোনও গতি নেই। আর এখানে যাঁরা আছেন, তাঁরা বিষয়টা সবচেয়ে ভাল জানেন। বিজ্ঞানসম্মত, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যাবশ্যক।'
মার্চ মাসে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি থাকাকালীন বিচারপতি যশবন্ত বর্মার সরকারি বাসভবন থেকে বিপুল পরিমাণে নগদ টাকা উদ্ধার হয়। এর পরেই তাঁকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলি করা হয়।
এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের গঠিত তিন সদস্যের একটি ‘ইন-হাউস’ কমিটি তদন্ত শুরু করে। এই কমিটির সাক্ষীদের কাছ থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করাকে গুরুতর বিষয় বলে বর্ণনা করেন উপরাষ্ট্রপতি। প্রশ্ন তোলেন, 'এভাবে কীভাবে ডিভাইস উদ্ধার করা যায়?'
উপরাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বিচারপতিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় এফআইআর করতে হলে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি লাগবে আইনত। কিন্তু সেই ১৯৯১ সালের মামলার রায়ে তৈরি এই পর্যবেক্ষণটি এখন পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে। তাঁর কথায়, 'বিচারপতিদের বিচারাধীন স্বাধীনতা থাকা দরকার, কিন্তু সেই স্বাধীনতার আড়ালে যেন কেউ পার পেয়ে না যায়। বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দ্রুত বিচার হওয়া জরুরি।'
উপরাষ্ট্রপতি বলেন, 'সাংসদদের বিরুদ্ধে যদি পার্লামেন্টে অন্য সাংসদরাই বিচার করেন, সেখানে বিচারপতিদের ক্ষেত্রে সেই ব্যবস্থা কোথায়? আমরা সবাই এই ব্যবস্থার শিকার। বিচারপতিদের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির সাংবিধানিক ভিত্তি কোথায়? এই ইন-হাউস কমিটি আইনত বৈধ তো?'
তিনি জানান, সংসদে কোনও বিচারপতিকে অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাংসদ প্রস্তাব আনলে স্পিকার বা চেয়ারম্যান একটি বৈধ কমিটি গঠন করতে পারেন। কিন্তু এই তদন্ত কমিটির কোনও সাংবিধানিক ভিত্তি নেই, এবং এই কমিটির রিপোর্ট আইনের দৃষ্টিতে অর্থহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইনের শাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, 'আমাদের দেশে আইনের শাসন আছে, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা আছে। আইন যেখানে রয়েছে, সেখানে এক মুহূর্তও দেরি করার সুযোগ নেই। ফলে এই মামলায় এখনও পর্যন্ত এফআইআর না হওয়াটা আইন লঙ্ঘনের সামিল।'
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'এই তদন্ত যেন সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে না যায়। জনগণ অপেক্ষা করছে, সত্যটা কী, বিচারব্যবস্থার ভিত কতটা দৃঢ়, সেটাই এখন জানা জরুরি।'