কেডিএমসি-র (KDMC) নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ১৪ অগস্ট মধ্যরাত থেকে ১৫ অগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত, মোট ২৪ ঘণ্টা সমস্ত কসাইখানা এবং ছাগল, ভেড়া, মুরগি ও বড় পশুর লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইদের দোকান বন্ধ রাখতে হবে।

স্বাধীনতা দিবসে মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ! ,
শেষ আপডেট: 13 August 2025 15:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাধীনতা দিবসে মাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কল্পনা-ডোম্বিভালি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন। এই নির্দেশিকা ঘিরেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে (Meat sale banned on Independence Day)। বিরোধী দল এনসিপি (শরদ পাওয়ার গোষ্ঠী) ও শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী) এই সিদ্ধান্তকে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছে।
কেডিএমসি-র (KDMC) নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ১৪ অগস্ট মধ্যরাত থেকে ১৫ অগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত, মোট ২৪ ঘণ্টা সমস্ত কসাইখানা এবং ছাগল, ভেড়া, মুরগি ও বড় পশুর লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইদের দোকান বন্ধ রাখতে হবে। ওই সময়ের মধ্যে কোনও পশু জবাই বা মাংস বিক্রি করলে মহারাষ্ট্র মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন আইন, ১৯৪৯-এর আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে পুরনিগম।
কেডিএমসি-র ডেপুটি কমিশনার (লাইসেন্স) কাঞ্চন গায়কোয়াড় জানিয়েছেন, ১৯৮৮ সাল থেকে প্রতিবছরই এই নির্দেশিকা জারি হয়। মূল উদ্দেশ্য জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলির মর্যাদা রক্ষা করা। অতিরিক্ত কমিশনার যোগেশ গোদসে স্পষ্ট করেছেন যে নিষেধাজ্ঞা কেবল মটন ও চিকেন বিক্রির ওপর, খাওয়ার ওপর নয়। এই নিয়ম প্রজাতন্ত্র দিবসেও কার্যকর হয়।
তবে এই গোটা বিষয়টিতে বিরোধী পক্ষের তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। এনসিপি (এসপি) বিধায়ক জিতেন্দ্র অওহড় ঘোষণা করেছেন, ১৫ অগস্ট তিনি 'মটন পার্টি'র আয়োজন করবেন। তাঁর বক্তব্য, "যে দিনে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম, সেদিনই আপনি আমাদের খাওয়ার স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছেন।" এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, "এটা সীমা ছাড়িয়েছে। মানুষ কী খাবেন, কখন খাবেন, তা ঠিক করার আপনি কে?"
এনসিপি সাংসদ সুরেশ মাতরে এই সিদ্ধান্তকে ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, "কেউ কী খাবেন বা খাবেন না, তা ব্যক্তিগত ব্যাপার। এই নিষেধাজ্ঞা একদম অযৌক্তিক।"
অন্যদিকে কল্পনা পশ্চিমের বিধায়ক তথা শাসকদল শিবসেনা নেতা বিষ্ণুনাথ ভইর পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, "একদিন মাংস না খেলেই বা কী হবে? সাধারণ মানুষ তো আপত্তি করছেন না। পুরনিগম নাগরিকদের স্বার্থে কাজ করছে।"
শিবসেনা (উদ্ধব) নেতা আদিত্য ঠাকরে কেডিএমসি কমিশনারের বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, "স্বাধীনতা দিবসে আমরা কী খাব, সেটাই আমাদের অধিকার ও স্বাধীনতা। আমাদের বাড়িতে এমনকি নবরাত্রিতেও প্রসাদে চিংড়ি, মাছ থাকে, এটাই আমাদের ঐতিহ্য, এটাই আমাদের হিন্দুধর্ম। এটা ধর্মের বিষয় নয়, জাতীয় স্বার্থের বিষয়ও নয়।" তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, "কমিশনার কে যে বলবেন মানুষ মাংস খাবেন কি খাবেন না? আমরা অবশ্যই মাংস খাব।"
মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সাম্ভাজিনগরে জারি হওয়া অনুরূপ নির্দেশের বিরোধিতা করেছেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar)। তিনি বলেছেন, "এভাবে নিষেধাজ্ঞা চাপানো ঠিক নয়। বড় শহরে বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের মানুষ থাকেন। আবেগের কারণে একদিনের জন্য মানুষ মেনে নিতে পারেন। কিন্তু যদি মহারাষ্ট্র দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও প্রজাতন্ত্র দিবসে এভাবে নির্দেশ জারি করা হয়, তাহলে তা মুশকিল হয়ে যাবে।"
একই নির্দেশিকা জারি করে বিতর্কের মুখে পড়েছে গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন। তাদের নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে, '১৫ ও ১৬ আগস্ট, স্বাধীনতা দিবস ও জন্মাষ্টমীতে কসাইখানা ও মাংসের দোকান বন্ধ রাখতে হবে।'
এই নিয়ে হায়দরাবাদের সাংসদ আসাউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, "দেশের বিভিন্ন পুরসভা ১৫ অগস্ট কসাইখানা ও মাংসের দোকান বন্ধের নির্দেশ দিচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে GHMC-ও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি একেবারেই অসাংবিধানিক। স্বাধীনতা দিবস পালনের সঙ্গে মাংস খাওয়ার কী সম্পর্ক? তেলেঙ্গানার ৯৯ শতাংশ মানুষ মাংস খান। এই মাংস নিষেধাজ্ঞা মানুষের স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, জীবিকা, সংস্কৃতি, পুষ্টি ও ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপ।"