ডগ ফিডার (Dog Feeders)-দের দায়বদ্ধতা নিয়ে কড়া মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জানায়, কুকুরকে খাওয়ান যাঁরা, তাঁরাও দায় এড়াতে পারেন না। বাড়িতে রাখুন, নিজেদের কাছে রাখুন।

শুনানিতে বেঞ্চ উল্লেখ করে, গুজরাত হাইকোর্টে (Gujarat High Court) এক আইনজীবী কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হন।
শেষ আপডেট: 13 January 2026 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুকুরের কামড়ে (Dog Bite) মানুষের মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে— মঙ্গলবার এই কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এবিসি রুলস (ABC Rules) কার্যকর করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলেও মন্তব্য করেছে শীর্ষ আদালত। সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা ও এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি শুরু করে। একটি সংগঠনের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ কৌঁসুলি অরবিন্দ দাতার (Arvind Datar) আদালতের গত ৭ নভেম্বরের নির্দেশ (November 7 Order)-কে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, বন্যপ্রাণ এলাকায় (Wildlife Areas) রাস্তার কুকুরের সমস্যা নিয়েও আদালতের স্পষ্ট অবস্থান প্রয়োজন, বিশেষ করে লাদাখ (Ladakh)-এর মতো এলাকায়।
শুধু সরকার নয়, রাস্তার কুকুরকে ভালবেসে খাওয়ানো মানুষদেরও আদালত ভর্ৎসনা করে এদিন। ডগ ফিডার (Dog Feeders)-দের দায়বদ্ধতা নিয়ে কড়া মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জানায়, কুকুরকে খাওয়ান যাঁরা, তাঁরাও দায় এড়াতে পারেন না। বাড়িতে রাখুন, নিজেদের কাছে রাখুন। রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়ে কামড়ানো, তাড়া করার অধিকার কারও নেই। কুকুরে কামড়ানোর শারীরিক ও মানসিক প্রভাব (Dog Bite Impact) সারাজীবন থাকে।
শুনানিতে বেঞ্চ উল্লেখ করে, গুজরাত হাইকোর্টে (Gujarat High Court) এক আইনজীবী কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হন। পরে পুরসভার কর্মীরা কুকুর ধরতে গেলে তাঁদের মারধর করা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই তথাকথিত সারমেয়প্রেমীদের (Dog Lovers) হাতেই তাঁরা প্রহৃত হয়েছিলেন। সারমেয়প্রেমী ও পশুপ্রেমীদের আবেদনের বিরোধিতা করে আইনজীবী দাতার দাবি করেন, ৭ নভেম্বরের নির্দেশ আদালত চত্বর (Courts) ও বিমানবন্দর (Airports)-এও প্রযোজ্য করা হোক। তাঁর বক্তব্য, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, অভিযোগ পেলেও কিছু করা যায় না। কারণ কুকুর ধরলে আবার ছেড়ে দিতে হবে— এই ধারণা তৈরি হয়েছে। যেন কোনও এলাকায় ছাড়া হলেই কুকুর বিশেষ সুরক্ষা পেয়ে যায়। আদালতকে এই বিভ্রান্তি দূর করতে হবে।
এদিকে পশুপ্রেমীদের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী (Menaka Guruswamy) বলেন, আমি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই বিষয়টিকে দেখি। কিন্তু একটি প্রজাতির প্রতি অতিরিক্ত আবেগ দেখানোটা এলিট মানসিকতা। পার্লামেন্ট (Parliament) ১৯৫০ সাল থেকেই এই সমস্যা নিয়ে ভাবছে। এবিসি রুলস তারই ফল। এই মন্তব্যের পরই বেঞ্চ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে চরম ভর্ৎসনা করে। আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার চরম ব্যর্থ (Failed Miserably)। এই সমস্যার জন্য তারাই দায়ী। সংসদ বহু দশক ধরে বিষয়টি দেখছে, অথচ সমস্যাটা হাজার গুণ বেড়েছে। প্রতিটি পুরুষ, মহিলা ও শিশু (Man, Woman and Child) যারা কুকুরের কামড়ে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য দায়গ্রস্ত সরকারের উপর আমরা বড়মাপের ক্ষতিপূরণ চাপাব।