মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর যুবসাথী প্রকল্পে রেকর্ড সাড়া। ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট আবেদন ২৯ লক্ষের বেশি, একদিনেই নথিভুক্ত ৮ লাখেরও বেশি আবেদন।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 18 February 2026 20:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাধ্যমিক পাশ করলেই যদি রাজ্যের তরুণ-তরুণীদের ‘শিক্ষিত বেকার’ হিসেবে গণ্য করতে হয়, তবে কর্মসংস্থানের বাস্তব ছবি কতটা উজ্জ্বল— সেই প্রশ্নটাই আবার নতুন করে উঠে আসছে। আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রেই রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর (Mamata Banerjee) চালু করা ‘যুবসাথী’ (Yuba Saathi) প্রকল্প। সরকারি উদ্যোগ হিসেবে চালু হলেও, সাধারণ মানুষের কাছে এটি মূলত ‘বেকার ভাতা’ হিসেবেই বেশি পরিচিত। এই প্রকল্প যেন রাজ্যের কর্মসংস্থানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করছে।
রবিবার থেকে বেকার ভাতার (Yuba Saathi) জন্য নাম নথিভুক্তকরণ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় দেখা গিয়েছে, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাশ তরুণ-তরুণীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদনপত্র জমা দিচ্ছেন। সর্বশেষ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গোটা রাজ্যে এই প্রকল্পে মোট আবেদন জমা পড়েছে ২৯,০০,৮৫৮টি। শুধু ওই দিনেই নতুন করে নথিভুক্ত হয়েছে ৮,০০,৪৯৪টি আবেদন।
জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, আবেদন সংখ্যার নিরিখে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। এই জেলায় মোট আবেদন জমা পড়েছে ৩,২৩,২২৪টি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, যেখানে মোট আবেদন ২,৮৬,৮২২টি। তৃতীয় স্থানে উত্তর ২৪ পরগনা—এই জেলায় মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ১,৯৩,২৯৫।
এরপরের স্থানগুলিতে রয়েছে বাঁকুড়া (১,৭২,৭৪৬), পুরুলিয়া (১,৭২,১৮০), হুগলি (১,৫০,৫৬৫) এবং নদিয়া (১,৪৯,৭৮৩)। পূর্ব মেদিনীপুরে মোট আবেদন ১,৪১,০৭৫ এবং পূর্ব বর্ধমানে ১,৩৮,১১৮টি। পশ্চিম মেদিনীপুরে এই সংখ্যা ১,৩৫,০৫৫ এবং হাওড়ায় ১,৩১,৫২৭।
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যেও যথেষ্ট সাড়া মিলেছে। কোচবিহারে মোট আবেদন ১,০২,৭৬৪ এবং জলপাইগুড়িতে ৯৯,২৪২। উত্তর দিনাজপুরে আবেদন ৮৮,৭২৬ এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে ৬৪,৯৭৫। দার্জিলিংয়ে মোট আবেদন জমা পড়েছে ৪৬,৮০৫টি। সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে কালিম্পং থেকে, যেখানে মোট সংখ্যা ৮,৩৯১। অন্যদিকে, কলকাতায় মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ৭০,৭৭৮।
সরকারি সূত্রের মতে, যুব সমাজকে ডিজিটাল পরিষেবা ও আর্থিক সহায়তার আওতায় আনতেই ‘যুব সাথী’ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। দুয়ারে সরকার শিবিরের মাধ্যমে সরাসরি আবেদন গ্রহণের ফলে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।