
শেষ আপডেট: 18 October 2023 20:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যোগেশ চন্দ্র ল কলেজের আর্থিক বেনিয়ম ও নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বিচারপতির ওই নির্দেশের ওপর বুধবার স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি সিদ্ধার্থ রায়চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চ। বেঞ্চ জানিয়েছে, এখনই সিআইডি তদন্তের প্রয়োজন নেই।
সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষ সুনন্দা ভট্টাচার্য গোয়েঙ্কাকে জেরা করার পাশাপাশি তদন্তের প্রয়োজনে তদন্তকারীরা তাঁকে হেফাজতেও নিতে পারেন বলে গত ১২ অক্টোবর জানিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। ১৮ অক্টোবর অর্থাৎ বুধবার মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন বিচারপতি। এদিন তদন্তের অগ্রগতির বিষয়েও সিআইডিকে আদালতে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।
বিচারপতির ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই এদিন ডিভিশন বেঞ্চে হাজির হয়েছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। ওই মামলার শুনানিতেই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে ডিভিশন বেঞ্চ।
ঘটনার সূত্রপাত, অর্থনৈতিক দুর্নীতি, জালিয়াতি সহ একাধিক অভিযোগে যোগেশ চন্দ্র ল কলেজের অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে পুলিশে অভিযোগ জানিয়েও লাভ না হওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কলেজের ছাত্র সংগঠনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক। ওই মামলাতেই যোগ্যতা না থাকার কারণে গত ৫ অক্টোবর যোগেশচন্দ্র চৌধুরী ল কলেজের অধ্যক্ষ সুনন্দা ভট্টাচার্য গোয়েঙ্কাকে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করেছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।
আবেদনকারীর তরফে আগে আদালতে জানানো হয়েছিল. বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অধ্যক্ষ কিংবা অধ্যাপক হওয়ার ক্ষেত্রে যে শিক্ষাগত যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারিত করা আছে তা সুনন্দা ভট্টাচার্য এবং অচিনা কুণ্ডুর নেই। বিচারপতি জানিয়েছিলেন, যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারলে ফের দুজনকেই কাজে পুনর্বহাল করা হবে।
এই মামলাতেও যোগসূত্র রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা পলাশিপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যের। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বর্তমানে জেলে রয়েছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছিল, উপযুক্ত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও বেশ কিছু অধ্যাপক নিযুক্ত করেছেন তিনি। সেই মর্মেই মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে।
অভিযোগ উঠেছিল, মানিকের নিযুক্ত এই সমস্ত অধ্যাপকদের অনেকে নিজেদের স্বার্থে বেশ কিছু দুষ্কৃতীকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এই দুষ্কৃতীরা কলেজকে নিজেদের অপকর্মের আখড়ায় পরিণত করছে বলে অভিযোগ করা হয়। পুলিশ এবং কলেজ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে জানানো হয়েছে। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে সেই মামলা ওঠে। ওই মামলাতেই সিআইডির হাতে তদন্তভার হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।