দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার সন্ধ্যা ছ’টা থেকে ফের পুরোদমে কাজ করবে ইয়েস ব্যাঙ্ক। সোমবার ব্যাঙ্কের তরফে টুইটারে জানানো হয়েছে, ১৯ মার্চ আমাদের ১১৩২ টি শাখার যে কোনও একটিতে আসুন। আমাদের পরিষেবা নিন। কিছুদিন আগেই স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার নেতৃত্বে আরও কয়েকটি ঋণদাতা সংস্থা জানায়, তারা ইয়েস ব্যাঙ্কের শেয়ার কিনতে তৈরি। সরকারও বিপন্ন ব্যাঙ্কটিকে বাঁচানোর নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এরপর সোমবার ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জানাল, বুধবার থেকে আমাদের ডিজিটাল পরিষেবাও পাওয়া যাবে।
https://twitter.com/YESBANK/status/1239446078111412224
কিছুদিন আগে ওই ব্যাঙ্ক থেকে ৫০ হাজার টাকার বেশি তোলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। পরে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান রজনীশ কুমার বলেন, ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকে ৫০ হাজারের বেশি টাকা তোলায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে অল্প দিনের মধ্যে। তাঁর কথায়, “আমি ইয়েস ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের বলতে চাই, একবার যদি এসবিআই দায়িত্ব নেয়, তাহলে টাকা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।”
ইয়েস ব্যাঙ্কের ব্যাপারে আরবিআই, স্টেট ব্যাঙ্ক অথবা সরকার একা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। তাদের যৌথভাবে কাজ করতে হবে। স্টেট ব্যাঙ্ক এখন আরবিআইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। ইয়েস ব্যাঙ্ককে চাঙ্গা করতে হলে সেখানে ২০ থেকে ২২ হাজার কোটি টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করতে হবে।
ইয়েস ব্যাঙ্কে সংকটের কথা জানাজানি হওয়ার পরে টাকা তছরুপের দায়ে গ্রেফতার হন ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা ও এমডি রানা কাপুর। আপাতত তিনি আছেন এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেটের হেফাজতে।
ইডির কৌঁসুলি আদালতে অভিযোগ করেন, রানা কাপুর তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন না। অন্যদিকে ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, তিনি দিবারাত্র সহযোগিতা করেছেন। যদিও তাঁকে ওই সময়ের মধ্যে একটুও ঘুমোতে দেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, ইডি তাঁকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে।
৬২ বছরের রানা কাপুরকে আদালতে হাজির করানো হলে তিনি ভেঙে পড়েন। ইডির আইনজীবী সুনীল গনজালভেস বলেন, ইয়েস ব্যাঙ্কে মোট ৪৩০০ কোটি টাকার কেলেংকারি হয়েছে। এব্যাপারে রানা কাপুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সহযোগিতা করেননি। তখনই ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, আমি তাঁদের সঙ্গে সহযোগিতার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাঁরা আমাকে এক মুহূর্ত ঘুমোতে দেননি।