দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের বিশ্বজোড়া এমন ভয়াবহ সংক্রমণের পেছনে অনেকটাই দায়ী চিনের গা-ছাড়া মনোভাব, ও অভিযোগ বারবারই উঠেছে গত এক বছরে। এবার জানা গেল, উহানের এক বিজ্ঞানী যখন সংক্রামিত বাদুড়ের নমুনা সংগ্রহ করছিলেন, তখন তাঁকে কামড়ে দিয়েছিল একটি বাদুড়!
সম্প্রতি একথা নিজেই স্বীকার করেছেন ওই বিজ্ঞানী। তিনি জানিয়েছেন, উহানের পরীক্ষাগার থেকে বেশ কিছুটা দূরে রয়েছে একটি গুহায় বাদুড়ের আস্তানা। করোনা তখনও সংক্রমণ ঘটাতে শুরু করেনি। কিন্তু বাদুড়বাহিত ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়েই চলছিল গবেষণা। সে সময় সেই গুহা থেকে বাদুড়বাহিত ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। তখনই ঘটেছে ঘটনাটি।
রবিবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে ওই বিজ্ঞানীর বয়ানে লেখা হয়েছে, তিনি হাতে গ্লাভস পরে ছিলেন। তার উপর দিয়ে একটি কামড়ে দেয়। একটা ছুঁচ ফোটানোর মতো অনুভূতি হয়েছিল তাঁর।
এই রিপোর্ট প্রকাশের পরেই আরও একবার অভিযোগ উঠেছে চিনের বিরুদ্ধে। করোনা ছড়িয়ে পড়ার পরে এই সব ঘটনাগুলিকে যথাযথ গুরুত্বই দেয়নি চিন। এ নিয়ে খুলে কথা বলা দূরের কথা।
এর আগেও সামনে আসে ২০১৭ সালে চিনের একটি সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজ। তায়ে দেখা গিয়েছে, গ্লাভস বা পিপিই কিট ছাড়াই পরীক্ষাগারের কর্মীরা ভাইরাস সংক্রান্ত গবেষণার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। যা একেবারেই বিজ্ঞানসম্মত নয়। এর পর আবার জানা গেল বাদুড়ের নমুনা সংগ্রহে গিয়ে কামড়ও খেয়েছেন বিজ্ঞানী। ফলে বারবারই সামনে আসছে, ভাইরাস গবেষণায় চিনের যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন না করা।
এসবের মধ্যেই আবার চিনে নতুন করে করোনার সংক্রমণ শুরু হয়েছে। প্রায় আট মাস পর করোনায় ১ জনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গিয়েছে। নতুন করে একাধিক প্রদেশে সংক্রমণ রুখতে কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। চিনের দাবি, এবারে সংক্রমণ এসেছে বিদেশ থেকে।
ইতিমধ্যেই হু-এর বিশেষজ্ঞদের ১৩ জনের একটি দল চিনের উহানে গিয়ে পৌঁছেছে করোনার উৎস সন্ধানে। সেই সময়েই সামনে এসেছে এই বাদুড়ে কামড়ানো বিজ্ঞানীর ঘটনা।