জগদ্ধাত্রী পুজোয় চন্দননগরের বিশাল আকারের প্রতিমা আর আলোকসজ্জা দেখতে আসেন হাজার হাজার মানুষ। সেই ফরাসি আমল থেকেই জগদ্ধাত্রী পুজোর নামে আলাদা আবেগ রয়েছে চন্দননগরের মানুষের মধ্যে। পাদ্রীপাড়ার একই জায়গায় পালিত হয় জগদ্ধাত্রী, ইদ ও বড়দিনের উৎসব। সম্প্রীতির এক অদ্ভুত মেলবন্ধন চন্দননগরের পাদ্রীপাড়ায় সংস্কৃতিতে মিশে গেছে।

শেষ আপডেট: 31 October 2025 12:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: জগদ্ধাত্রী পুজো হয় মসজিদ কমিটির জায়গায়। হিন্দু-মুসলিম-খ্রীস্টান মহিলারা সারা বছর পুজোর জন্য টাকা জমান। চন্দননগর পাদ্রী পাড়ায় জগদ্ধাত্রীর আরাধনা যেন সর্বার্থেই সবার উৎসব। মসজিদ কমিটির সম্পাদক ইমতিয়াজ হোসেন জগদ্ধাত্রী পুজোরও (Jagadhartri Puja 2025) সহ সম্পাদক। এবছর প্রতিমার খরচ বহন করেছেন তিনি। চাঁদা তোলা থেকে ভোগের দায়িত্ব স্বপন, গৌতমদের সঙ্গে সমানভাবে ভাগ করে নিয়েছেন জোসেফ,অ্যানারা।
জগদ্ধাত্রী পুজোয় চন্দননগরের (Chandannagar Jagadhatri Puja) বিশাল আকারের প্রতিমা আর আলোকসজ্জা দেখতে আসেন হাজার হাজার মানুষ। সেই ফরাসি আমল থেকেই জগদ্ধাত্রী পুজোর নামে আলাদা আবেগ রয়েছে চন্দননগরের মানুষের মধ্যে। পাদ্রীপাড়ার একই জায়গায় পালিত হয় জগদ্ধাত্রী, ইদ ও বড়দিনের উৎসব। সম্প্রীতির এক অদ্ভুত মেলবন্ধন চন্দননগরের পাদ্রীপাড়ায় সংস্কৃতিতে মিশে গেছে।
পুজো কমিটির সদস্য স্বপন সাহা জানান, ৪২ বছর আগে বাগবাজার, তেঁতুলতলা ও বড়বাজার জগদ্ধাত্রীর যখন জাঁকজমকের সঙ্গে পুজো চলছে সেই সময়ই এই পাড়ার মানুষজন পুজো করবেন মনস্থির করেন। যেমন চিন্তা তেমনই কাজ শুরু হয় পাদ্রীপাড়ায়। চন্দননগর পৌর নিগমের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তার ওপরেই সকল সম্প্রদায়ের মানুষ পুজোয় সম্মিলিত হয়। পরবর্তীকালে প্রশাসন রাস্তায় পুজো বন্ধ করলে পুজো কমিটি মসজিদ কমিটির সঙ্গে মিলে রাস্তার পাশে জায়গা কিনে পুজো করতে শুরু করে। দুই কমিটির পৃথক দলিল হলেও স্থির হয় ওই জায়গায় কোনও স্থায়ী নির্মাণ হবে না। ইদ ও পুজোয় নিজেদের মতো করে জমি ব্যবহার করা হবে। সেই মতো মসজিদ কমিটি জায়গাতেই মা জগদ্ধাত্রী প্রতিমা বসানো হয়। পুজো কমিটির জায়গার দলিলেও নাম রয়েছে মুসলিম সম্প্রদায় মানুষের। ইদ পালিত হয় একইভাবে।
এই পাড়ার নামেরও একটি ইতিহাস আছে। ফরাসি আমল থেকেই এই পাড়ায় থাকেন চার্চের পাদ্রীরা। সেই থেকেই নাম হয় পাদ্রীপাড়া। পাড়ার কিছুটা দূরেই রয়েছে চন্দননগর সেক্রেড হার্ট চার্চ। সেই কারণেই এই পাড়াতেই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষ ও বাস করেন। আর এই পাড়াতেই রয়েছে বড় মসজিদ। হিন্দু-মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মের মানুষ পাশাপাশি বাস করে। তাই সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেন তারা। জগদ্ধাত্রী পুজোর এই উৎসবে সকলে সামিল হন। ইদ ও বড়দিনের উৎসবে একসঙ্গে করেন তাঁরা।
এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত এক সক্রিয় সদস্য প্রধান উপদেষ্টা স্বপন সাহা বলেন, "নবমীর দিন একসঙ্গে বসে ভোগ খাই আমরা। এখানেই ইদ ও বড়দিনের উৎসব করি। আমাদের জগদ্ধাত্রী পুজোয় এলে দেখতে পাবেন মায়ের প্রতিমা বসে মসজিদ কমিটির জায়গায়। মণ্ডপ সজ্জা করতে গিয়ে আমাদের জায়গার সংকুলান হয় না। মা জগদ্ধাত্রী পুজো থেকে বিসর্জন পর্যন্ত একসঙ্গে আমরা উৎসব পালন করি। আমাদের পাদ্রীপাড়ায় চল্লিশ শতাংশ খ্রিস্টান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন বাস করেন। ৬০ শতাংশ হিন্দু ধর্মের। সকলেই নিজেদের সাধ্যমতো পুজোর জন্য চাঁদা দেন। বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা তুলে আনেন। আগে বয়স্ক মানুষ এই পুজোর সঙ্গে যেমন যুক্ত ছিল। এখন নতুন প্রজন্মের সমস্ত ধর্মের পুরুষ,মহিলারাও এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।"
পুজো কমিটির সহ-সম্পাদক ইমতিয়াজ হোসেন আবার মসজিদ কমিটির সম্পাদক। তিনি বলেন, "গত ১২ বছর ধরে এই পুজোর সঙ্গে আমরা যুক্ত। সকলে মিলেমিশে আমরা এই পুজো করি। এ বছর আমি প্রতিমার খরচ ৪২ হাজার টাকা দিয়েছি। এই পুজোর সঙ্গে আমাদের আবেগ ভালবাসা জড়িয়ে রয়েছে।" আরেক সদস্য অ্যানা বিশ্বাস বলেন, "বিয়ের পর এই পাড়ায় এসে পুজোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। সমস্ত মহিলা মিলে এই পুজোর দিনগুলি আনন্দ উপভোগ করে আসছি। আগামী দিনেও করে যাব।"