প্রতিমা তৈরিতে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর এলাকার ফাইবার শিল্পীদের কাজ তুলে ধরা হয়েছে। তারা লোহা, রেজিন ও ফাইবার ব্যবহার করে মা জগদ্ধাত্রী, সিংহ, হাতি ও চালচিত্রের প্রতিটি অংশ আলাদা করে বানিয়েছেন।

গ্রাফিক্স - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 27 October 2025 13:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জগদ্ধাত্রী পুজো মানেই চন্দননগরের (Chandannagar Festival) প্রাণের উৎসব। আলো, ঢাক, ভক্তি আর আনন্দে মেতে ওঠে গোটা শহর। গঙ্গার ধারে আলোকসজ্জায় ভরে ওঠে প্রতিটি রাস্তা, প্রতিটি পাড়া। এই ক’দিনে চন্দননগর যেন নতুন করে বাঁচে, নতুন করে জেগে ওঠে। সবার মনে একটাই আনন্দ, মা এসেছে! এবার সেই আনন্দ হতে চলেছে দ্বিগুণ। এই পুজোয় নতুন চমক নিয়ে হাজির চন্দননগরের কানাইলাল পল্লী। তারা তৈরি করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জগদ্ধাত্রী প্রতিমা (Jagadhatri Puja 2025)! এই প্রতিমা শহরের গর্ব, চন্দননগরের ঐতিহ্যের নতুন অধ্যায়।
কয়েক বছর আগে যেমন কলকাতার দেশপ্রিয় পার্ক বিশাল দুর্গা প্রতিমা বানিয়ে সারা রাজ্যে চমক দিয়েছিল, তেমনই এবার চন্দননগরের কানাইলাল পল্লী পুজো সেই রেকর্ড ভাঙার চেষ্টায়। এই বিশাল প্রতিমা দেখতে ইতিমধ্যেই মানুষের মধ্যে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবছর জগদ্ধাত্রী পুজোর (Jagadhatri Puja 2025) সময় চন্দননগরে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। চারদিন ধরে শহরের রাস্তায় উপচে পড়ে ভিড়। এই বছর পুজোটি পা দিয়েছে ৫২ বছরে। থিমের ভিড়ের মধ্যে কিছু আলাদা করতে চেয়েছিলেন আয়োজকেরা। তাই তৈরি করা হয়েছে এমন এক প্রতিমা, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। সাধারণত চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী প্রতিমার উচ্চতা থাকে ২৫ থেকে ২৬ ফুটের মধ্যে। কিন্তু এবার সেই সীমা ছাড়িয়ে প্রতিমার উচ্চতা হয়েছে প্রায় ৭৫ ফুট। সম্পূর্ণ ফাইবার দিয়ে এই বিশাল প্রতিমা গড়া হয়েছে।
প্রতিমা তৈরিতে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর এলাকার ফাইবার শিল্পীদের কাজ তুলে ধরা হয়েছে। তারা লোহা, রেজিন ও ফাইবার ব্যবহার করে মা জগদ্ধাত্রী, সিংহ, হাতি ও চালচিত্রের প্রতিটি অংশ আলাদা করে বানিয়েছেন। পরে সেই টুকরোগুলিকে জোড়া লাগিয়ে সম্পূর্ণ মূর্তি দাঁড় করানো হয়েছে। চালচিত্রে রয়েছে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের মূর্তি, যা পুরো দৃশ্যটিকে আরও জাঁকজমকপূর্ণ করে তুলেছে।
আয়োজক কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, এত বড় জগদ্ধাত্রী প্রতিমা (Jagadhatri Puja 2025) আগে কখনও তৈরি হয়নি। তবে প্রশাসনের পরামর্শ মেনে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ফলে মণ্ডপের বাইরে থেকেও ভক্তরা প্রতিমা দর্শন করতে পারবেন।
আলো, সঙ্গীত আর ফাইবার শিল্পের মেলবন্ধনে তৈরি এই প্রতিমা চন্দননগরের পুজোয় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। শহরের বাসিন্দারা যেমন গর্বিত, তেমনই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এই অনন্য সৃষ্টি দেখতে ভিড় জমাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ বছরের জগদ্ধাত্রী পুজো তাই শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, এক শিল্পকীর্তির সাক্ষী হতে চলেছে গোটা চন্দননগর।