Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতারনববর্ষে বাঙালিয়ানার ষোলো আনা স্বাদ! ঢাকাই কালো ভুনা থেকে আম পেঁয়াজির যুগলবন্দি, মিলবে এই রেস্তরাঁয়‘কোভিড ভ্যাকসিনই হার্ট অ্যাটাকের কারণ!’ শেন ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে ছেলের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক এবার রক্তদান শিবিরেও কমিশনের ‘নজরদারি’! রক্তের আকাল হলে কী হবে রোগীদের? প্রশ্ন তুললেন কুণালমারাঠি না জানলে বাতিল হবে অটো-ট্যাক্সির লাইসেন্স! ১ মে থেকে কড়া নিয়ম মহারাষ্ট্রেআশা ভোঁসলেকে শ্রদ্ধা জানাতে স্থগিত কনসার্ট, গায়িকার নামে হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগউৎসবের ভিড়ে হারানো প্রেম, ট্রেলারেই মন কাড়ছে ‘উৎসবের রাত্রি’‘বাংলাকে না ভেঙেই গোর্খা সমস্যার সমাধান’, পাহাড় ও সমতলের মন জিততে উন্নয়নের ডালি শাহের

চকোলেট তৈরিতে বিশ্বজোড়া খ্যাতি যে দেশগুলোর, ইতিহাস আরও মধুর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চকোলেটের (World Chocolate Day 2023) নাম শুনলেই মনটা খুশি খুশি হয়ে ওঠে। এ জিনিস খেতে ভালবাসে না এমন মানুষ পৃথিবী খুঁজলেও গুটিকয়েকের বেশি মিলবে কিনা সন্দেহ আছে। চকোলেট তৈরির ব্যাপারেও আবার এক দেশ আরেক দেশকে টেক্কা দিতে পার

চকোলেট তৈরিতে বিশ্বজোড়া খ্যাতি যে দেশগুলোর, ইতিহাস আরও মধুর

শেষ আপডেট: 7 July 2023 14:04

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চকোলেটের (World Chocolate Day 2023) নাম শুনলেই মনটা খুশি খুশি হয়ে ওঠে। এ জিনিস খেতে ভালবাসে না এমন মানুষ পৃথিবী খুঁজলেও গুটিকয়েকের বেশি মিলবে কিনা সন্দেহ আছে। চকোলেট তৈরির ব্যাপারেও আবার এক দেশ আরেক দেশকে টেক্কা দিতে পারে।

চকোলেট কথাটা এসেছে মায়া ভাষায় ‘শোকোলাতিল’ শব্দটা থেকে, এটি মায়া সভ্যতার অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়। এটি এতটাই জনপ্রিয় ছিল, বড়লোক-গরিব নির্বিশেষে সমস্ত অনুষ্ঠানে থাকতই। কোকোর প্রতি এই প্রেম আজকের নয়। জানলে অবাক হবেন, কোকো-র সঙ্গে লাতিন আমেরিকার সম্পর্ক তিন হাজার বছরের। যিশুখ্রিস্ট জন্মানোর হাজার বছর আগে দক্ষিণ মেক্সিকোয় থাকত ওল্‌মেক’রা। তারা কোকো-র ভক্ত ছিল। কোকো নামটাও এসেছে ওল্‌মেক শব্দ ‘কাকাওয়া’ থেকে। আর মায়া সভ্যতার মানুষজন যখন লাতিন আমেরিকার উত্তর দিকটায় থাকতে শুরু করে, তারা সঙ্গে কোকো গাছ নিয়ে এসে চাষ শুরু করে।

সেই জমানায় কিন্তু চিনির ব্যবহার মায়াদের অজানা ছিল, তাই চকোলেট বানানোর প্রক্রিয়া ছিল এক্কেবারে আলাদা। কোকো শুকিয়ে গুঁড়ো করে লঙ্কাগুঁড়োর সঙ্গে মিশিয়ে একটা পেস্ট বানানো হত, তা মেশানো হত গরম জলে। দক্ষিণ ভারতীয় কফির মতো করে ঢালা-উপুড় করা হত বার বার, যত ক্ষণ না এক রাশ ফেনা জমে ওঠে। এই ফেনাসুদ্ধু গরম চকোলেট মাটির পাত্রে পরিবেশন করে সম্মান দেখানো হত। এর পরে বিভিন্ন সভ্যতায় কোকোর চাহিদা বাড়ে। চকোলেট তৈরির পদ্ধতিতেও নানা বদল আসে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ চকোলেট তৈরি করে। তবে স্বপ্নের চকোলেট খেতে হলে কয়েকটি দেশের নাম আগে আসবে, চকোলেট তৈরিতে এবং তার স্বাদের বাহারে যারা ইতিহাস তৈরি করেছে।

বেলজিয়ান চকোলেট

১৬৯৭ সালের কথা। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের রাজকীয় প্রাসাদ ভ্রমণ করতে এসেছেন সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জুরিখের মেয়র তথা প্রধান প্রশাসনিক ব্যক্তি হেনরি এসচার। তিনি ঘুরে দেখলেন পুরো প্রাসাদ। তাকে সঙ্গ দিল বেলজিয়ান রাজপরিবারের সদস্যরা। এরপর শুরু হল ভোজনপর্ব। বিভিন্ন পদের খাবারের পর একটি পেয়ালায় দেওয়া হল গরম চকোলেট, যা ছিল তৎকালীন বেলজিয়ামের সবচেয়ে দামী খাবারগুলোর একটি। পেয়ালায় চুমুক দেয়ার পর বেলজিয়ান চকোলেটের স্বাদে অভিভূত হয়ে গেলেন মেয়র।

বলা হয়ে থাকে, ইউরোপকে চকোলেট খেতে শিখিয়েছে বেলজিয়ানরা। কঙ্গো থেকে যখন জাহাজে করে বিশাল পরিমাণ কোকোয়া বীজ আনা হচ্ছিল বেলজিয়ামে, তখনও সুইজারল্যান্ড ছাড়া ইউরোপের অন্য কোনও দেশ চকোলেটের স্বাদ পায়নি। ইউরোপের চকোলেট উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বেলজিয়াম সর্বপ্রথম এমন যন্ত্র তৈরি করেছিল যেখানে কোকো বীজ খুব মিহি করে গুঁড়ো করা যেত। চকোলেট তৈরির এই পদ্ধতি বেলজিয়ামই প্রথম শিখিয়েছিল। ১৯১২ সালে বেলজিয়াম তার চকোলেট তৈরির পদ্ধতিতেও বদল আনে। রাজধানী ব্রাসেলসে জিন নিউহাউস নামের একজন চকোলেট ব্যবসায়ী এমন এক কৌশল আবিষ্কার করেন, যার মাধ্যমে একটি চকোলেটের ভেতরে ফাঁকা জায়গা রেখে সেই জায়গায় বিভিন্ন উপাদান যুক্ত করা যেত। এ ধরনের চকলেটকে বলা হতো ‘প্র্যালাইন্স’। এইভাবে নানা ফ্লেভারের চকোলেট তৈরির পদ্ধতি আবিষ্কার করে বেলজিয়াম। এই দেশে ঘুরতে গেলে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ থাকে চকোলেট ফ্যাক্টরিগুলো ঘুরে দেখা এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চকোলেট কিনে খাওয়া। নির্ভানা, গোদিভা, নেউহাস, ফ্লোরেন সবচেয়ে জনপ্রিয় বেলজিয়ান চকোলেট ব্র্যান্ড। 

সুইস চকোলেট

বেলজিয়ামের মতো সুইস চকোলেটের ব্র্যান্ডগুলিও বেশ জনপ্রিয়। জুরিখকে দেশের চকোলেট রাজধানী বলা হয়। কনফিসারি হোনল্ড, ল্যাডেরাক, টিউশার ইত্যাদি চকোলেট ফ্যাক্টরিগুলি দেখার মতোই বটে। সুইজারল্যান্ডের কিলচবার্গে আছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় চকোলেট মিউজিয়াম। এখানে জানা যাবে চকোলেটের ইতিহাস, কীভাবে চকোলেট তৈরি করা হয় ইত্যাদি নানা বিষয়ে। মিউজিয়ামে চকোলেট শপ আছে, যেখানে নিজের পছন্দমতো চকোলেট বানিয়ে নেওয়া যাবে।

মিউজিয়াম মানেই জানা-অজানা নানা তথ্যের সংগ্রহশালা। এরই সঙ্গে থাকে এসব তথ্য প্রকাশের জন্য দৃষ্টিনন্দন নানা বিষয়। ‘লিন্ডট হোম অব চকলেট’ও এর ব্যতিক্রম নয়। দর্শকদের আকর্ষণ করার জন্য ৬৫ হাজার বর্গফুটের এই চকোলেটের মিউজিয়ামের একদম মাঝখানে আছে ৩০ ফুট লম্বা একটি চকোলেটের ঝর্না। এই ঝর্নার উপরে সোনালি রঙের হুইস্কটি এমনভাবে ধরা আছে, যেন মনে হবে সেখান থেকে চকোলেট গড়িয়ে পড়ছে। এই ঝর্নায় প্রায় ১৫০০ লিটার লিকুইড চকোলেট আছে। প্রতি সেকেন্ডে চকোলেটের ঝর্নার ভেতর ৩০৮ ফুটের পাইপের মধ্য দিয়ে ২.২ পাউন্ড লিকুইড চকোলেট প্রবাহিত হয়। ঝর্নার ওজন প্রায় তিন টন।

প্যারিসের চকোলেট যেন স্বপ্ন

বলা হয় যে ফরাসিরা বছরে ৬-৮ কেজি চকোলেট খায়! তাই রাজধানীতে যেদিকে চাইবেন নামী দামি চকোলেটের দোকান নজরে আসবে। প্যারিস তার বেকারির পাশাপাশি চকোলেটের জন্য বিখ্যাত। প্যারিসে গেলেও সেখানকার চকোলেট মিউজিয়াম মুগ্ধ করবে। লা মেসন ডু চকোলেট, পিয়ের হার্মে এবং জ্যাক জেনিন বিখ্যাত চকোলেট নির্মাতা সংস্থা। অক্টোবরের শেষের দিকে প্যারিস সেলুন ডু চকোলেট (প্যারিস চকোলেট শো)-এর আয়োজন করে যা পর্যটকদের অন্যতম সেরা আকর্ষণের জায়গা।

পেরুর চকোলেট

মনে করা হয় চকোলেট আবিষ্কারের ইতিহাসের সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকা অনেকটাই জড়িত। লিমার চকো মিউজিয়ামে সেই ইতিহাসের অনেকটাই জানা যায়। তাছাড়া সেখানে চকোলেট-বিশেষজ্ঞরা শেখান কীভাবে বাড়িতেই চকোলেট তৈরি করা যায়। পেরুতে গেলে সেখানকার চকোলেট তৈরির ফ্যাক্টরিগুলো দেখতেই হবে।

রোসেলেন চকোলেটিয়ার, ক্যাকাওসুয়ো, হেলেনা চকোলেটিয়ার ইত্যাদি নামী ব্র্যান্ডগুলো সাদরে আপ্যায়ন করবে আপনাকে। বিনামূল্যে সব ঘুরিয়ে দেখাবে এবং উপহার হিসেবে আপনাকে চকোলেটও দেবে।

চকোলেটে ইতালীয় স্বাদ অনবদ্য

নিউটেলা (Nutella) প্রথম ১৯৪৬ সালে পিয়েত্রো ফেরেরো নামে একজন ইতালীয় শেফ তৈরি করেছিলেন তুরিনে। সেই সময় তুরিন ছিল চকোলেটের স্বপ্নরাজ্য। নানা রকম স্বাদ ও গন্ধের চকোলেট তৈরি হয়েছে তুরিনে। ইতালির চকোলেটের স্বাদ চাখতে হলে ক্যাফারেল, গুইডো কাস্টাগনা, পেইরানো, বারাত্তি এইসব নামী ব্র্যান্ডের চকোলেট খেতেই হবে। প্রতি বছর ইতালির পেরুগিয়ায় ইউরো-চকোলেট উৎসব হয়।  এটি ইউরোপের বৃহত্তম চকোলেট উৎসবগুলির মধ্যে একটি। ৯ দিন ধরে চলা উৎসবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চকোলেট-প্রেমীদের আগমন হয়। চকোলেটের যত ধরন আছে, তার সবই পাওয়া যাবে এই উৎসবে। তাহলে বিশ্ব চকোলেট দিবসে একবার ঢুঁ মেরে আসবেন নাকি!


```